‘কুনজর’ কাটানোর নামে ফ্ল্যাটে ঢুকে এয়ারহোস্টেসকে যৌন হেনস্থা! ১০০+ CCTV দেখে গ্রেফতার অভিযুক্ত
স্বামীর অসুস্থতার সুযোগ নিয়ে ‘কুনজর’ কাটানোর দাবি, পওয়াইয়ে এয়ারহোস্টেসের অভিযোগে গ্রেফতার যুবক
মুম্বইয়ের পওয়াইয়ে ২৫ বছরের এক এয়ারহোস্টেসকে যৌন হেনস্থার অভিযোগে ২৮ বছরের অনিল শেশরাও শিন্দেকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তদন্তে পুলিশের দাবি, অভিযুক্ত নিজেকে তৃতীয় লিঙ্গের ব্যক্তি হিসেবে পরিচয় দিয়ে আবাসনে ঢুকেছিলেন এবং অসুস্থ স্বামীকে সুস্থ করা ও ‘কুনজর’ (evil eye) কাটানোর কথা বলে ওই মহিলার আস্থা অর্জন করেন। পরে তাঁর ফ্ল্যাটে ঢুকে যৌন নির্যাতন করা হয় বলে অভিযোগ।
পুলিশ সূত্র অনুযায়ী, ঘটনাটি ১৮ আগস্ট মঙ্গলবার দুপুর ১২টা ২০ মিনিট থেকে ১২টা ৫০ মিনিটের মধ্যে ঘটে। অভিযুক্ত প্রথমে আবাসনের একটি গেট দিয়ে ঢোকার চেষ্টা করেন। নিরাপত্তারক্ষীর সঙ্গে কথা বলার পর তিনি অন্য একটি গেট দিয়ে ভিতরে প্রবেশ করেন বলে তদন্তকারীদের দাবি। এরপর একাধিক ফ্ল্যাটের দরজায় গিয়ে তিনি নিজেকে এমন একজন হিসেবে পরিচয় দেন, যিনি অসুস্থতা সারাতে বা ‘কুনজর’ কাটাতে পারেন। শেষ পর্যন্ত তৃতীয় তলায় থাকা ওই এয়ারহোস্টেসের ফ্ল্যাটে তাঁর প্রবেশ ঘটে।
পুলিশের বক্তব্য, ওই মহিলার স্বামী তখন হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন। সেই পরিস্থিতির সুযোগ নিয়েই শিন্দে দাবি করেন, বিশেষ আচার বা পদ্ধতির মাধ্যমে স্বামীর অসুস্থতা এবং পরিবারের উপর থাকা ‘খারাপ নজর’ দূর করা সম্ভব। অভিযোগ অনুযায়ী, ফ্ল্যাটে ঢোকার পর তিনি মহিলার মাথায় হাত রাখেন এবং জল ছিটিয়ে দেন। এরপর তাঁকে শারীরিকভাবে নিয়ন্ত্রণ করে যৌন নির্যাতন করা হয় বলে অভিযোগ। মহিলা চিৎকার শুরু করলে অভিযুক্ত পালিয়ে যান। পুলিশি নথি ও সংবাদ প্রতিবেদনে আরও দাবি করা হয়েছে, বেরিয়ে যাওয়ার আগে তিনি মহিলার কাছ থেকে ২০০ টাকা নেন।
ঘটনার কয়েক ঘণ্টা পর, মঙ্গলবার রাত প্রায় ১১টার দিকে ওই মহিলা পওয়াই থানায় গিয়ে অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগ পাওয়ার পরই পুলিশ CCTV (Closed-Circuit Television) ফুটেজ খতিয়ে দেখতে শুরু করে। তদন্তকারীদের দাবি, আবাসন থেকে বেরিয়ে অভিযুক্ত অটোরিকশায় চেপে কালওয়ার দিকে যান। তাঁর গতিবিধি অনুসরণ করতে পওয়াই থেকে কালওয়া পর্যন্ত ১০০-র বেশি CCTV ক্যামেরার ফুটেজ পরীক্ষা করা হয়। সেই সূত্র ধরে বুধবার ভোরে কালওয়ার একটি বস্তি এলাকা থেকে শিন্দেকে গ্রেফতার করা হয়। FIR দায়েরের প্রায় চার ঘণ্টার মধ্যেই তাঁকে আটক করা সম্ভব হয় বলে পুলিশ জানিয়েছে।
জিজ্ঞাসাবাদে অভিযুক্তের কাছ থেকে আরও কিছু তথ্য পাওয়ার দাবি করেছে পুলিশ। শিন্দে নাকি জানিয়েছেন, তিনি এবং আরও দু’জন তৃতীয় লিঙ্গের ব্যক্তি সেজে বিভিন্ন আবাসিক এলাকায় ভিক্ষা চাইতেন। অটোরিকশা ভাড়া করে বিভিন্ন এলাকায় যাতায়াতের কথাও তদন্তে উঠে এসেছে। তবে তাঁর এই বক্তব্যের সত্যতা এখনও যাচাই করা হচ্ছে। একই কৌশল ব্যবহার করে আগে কোনও বাড়িতে ঢুকে অপরাধ করা হয়েছিল কি না, সেটিও খতিয়ে দেখছে পুলিশ।
অভিযুক্তের বিরুদ্ধে ধর্ষণ ও criminal intimidation-সহ ধারায় মামলা হয়েছে। কুসংস্কার ও black magic-এর নামে প্রতারণা বা অপরাধের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য অতিরিক্ত আইনি ধারা যুক্ত করার বিষয়ও পুলিশ বিবেচনা করছে। পাশাপাশি তাঁর আগের অপরাধমূলক রেকর্ড এবং একই ধরনের ঘটনায় জড়িত থাকার সম্ভাবনা যাচাই করা হচ্ছে।
ঘটনার পর আবাসিক নিরাপত্তা নিয়েও নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। পুলিশ সাধারণ মানুষকে সতর্ক করে জানিয়েছে, পরিচয় ও উদ্দেশ্য যাচাই না করে অপরিচিত কাউকে বাড়িতে প্রবেশ করতে দেওয়া উচিত নয়। তবে তদন্ত এখনও চলছে এবং অভিযুক্তের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ আদালতে প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত তিনি আইনগতভাবে অভিযুক্ত হিসেবেই বিবেচিত হবেন।

