মহিলা পুলিশ ইনস্পেক্টরের পুরনো ভিডিও ভাইরাল! কর্ণাটকে অভিযোগ, তদন্তে জেল-যোগের নতুন তথ্য
২০২৪-এর পুরনো ভিডিও হঠাৎ ভাইরাল, মহিলা পুলিশ ইনস্পেক্টরের অভিযোগে কর্ণাটকে তদন্ত শুরু
কর্ণাটকে এক মহিলা পুলিশ ইনস্পেক্টরকে ঘিরে পুরনো একটি ভিডিও কলের ক্লিপ সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়াকে কেন্দ্র করে তদন্ত শুরু হয়েছে। Karnataka State Industrial Security Force (KSISF)-এর ওই মহিলা পুলিশ আধিকারিকের অভিযোগ, তাঁর পরিচিত এক rowdy-sheeter এবং আরও কয়েকজন মিলে ভিডিওটি সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে দিয়েছেন। ঘটনার পর বেঙ্গালুরুর Cubbon Park থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন তিনি। পুলিশ অভিযোগ পাওয়ার পর বিষয়টি খতিয়ে দেখছে এবং পরবর্তী আইনি পদক্ষেপের আগে আইনি পরামর্শ নেওয়া হচ্ছে বলে জানা গিয়েছে।
পুলিশ সূত্রের উদ্ধৃতি দিয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, সম্প্রতি ভিডিওটি ভাইরাল হলেও সেটি আসলে ২০২৪ সালে রেকর্ড করা হয়েছিল। সেই সময় ওই মহিলা ইনস্পেক্টর Central Prison, Hindalga-তে কর্মরত ছিলেন। সেখানে বন্দি থাকা Sai Kumar নামে এক ব্যক্তির সঙ্গে তাঁর যোগাযোগ ছিল বলে অভিযোগ উঠেছে। পুলিশের কাছে করা অভিযোগে ইনস্পেক্টরের দাবি, ওই ব্যক্তি এবং আরও কয়েকজন মিলে পুরনো ভিডিওটি প্রকাশ্যে ছড়িয়ে দিয়েছেন।
ঘটনার তদন্তে ইতিমধ্যেই উঠে এসেছে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক। একই ব্যক্তিকে ঘিরে আগে করা অভিযোগে ওই মহিলা পুলিশ আধিকারিকের বিরুদ্ধেও জেলের ভিতরে মোবাইল ফোন, মদ এবং অন্যান্য সুবিধা ঘুষের বিনিময়ে দেওয়ার অভিযোগ তোলা হয়েছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। পাশাপাশি, কারাগারের অনিয়ম প্রকাশ্যে আনার চেষ্টা করা ব্যক্তিদের মিথ্যা মামলায় ফাঁসানোর হুমকি দেওয়া হয়েছিল বলেও অভিযোগ রয়েছে।
এই অভিযোগের ভিত্তিতে মহিলা ইনস্পেক্টরের বিরুদ্ধে একটি departmental inquiry বা বিভাগীয় তদন্তও চলছে বলে জানা গিয়েছে। অর্থাৎ, ভাইরাল ভিডিওকে কেন্দ্র করে তৈরি হওয়া বিতর্কের পাশাপাশি কারাগারের অভ্যন্তরীণ প্রশাসন এবং কর্তব্যরত পুলিশ আধিকারিকের ভূমিকা নিয়েও আলাদা তদন্তের বিষয় রয়েছে।
অন্যদিকে, ভিডিওটি সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়ার পর কারা প্রশাসনকে ঘিরে ওঠা বিভিন্ন অভিযোগের ভিত্তিতেও পদক্ষেপ করা হয়েছে। প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, Belagavi CEN Police Station-এ কারা কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে অভিযোগ দায়ের করা হয়। সেই অভিযোগের ভিত্তিতে FIR নথিভুক্ত করে তদন্ত শুরু হয়েছে। ফলে ঘটনাটি এখন শুধুমাত্র একটি ব্যক্তিগত ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার অভিযোগের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই; এর সঙ্গে কারাগারের প্রশাসনিক অনিয়ম সংক্রান্ত অভিযোগও যুক্ত হয়েছে।
তদন্তকারীদের সামনে এখন একাধিক প্রশ্ন। ভিডিওটি ঠিক কে রেকর্ড করেছিল, কোন পরিস্থিতিতে সেটি তৈরি হয়েছিল, এতদিন পর কীভাবে সেটি প্রকাশ্যে এল এবং কারা প্রথম সোশ্যাল মিডিয়ায় আপলোড বা শেয়ার করেছিল—এসব বিষয় খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পাশাপাশি ভিডিও ছড়ানোর পিছনে কোনও নির্দিষ্ট উদ্দেশ্য ছিল কি না, সেটিও তদন্তের অংশ।
তবে এই ঘটনায় একটি বিষয় বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়া কোনও ভিডিও বা পোস্টকে সরাসরি সত্য বলে ধরে নেওয়া যায় না। ভিডিওটির প্রেক্ষাপট, উৎস এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ এখনও তদন্তাধীন। তাই ভিডিওটি পুনরায় শেয়ার করা বা যাচাই না করে তার ভিত্তিতে কোনও ব্যক্তির বিরুদ্ধে নিশ্চিত অভিযোগ প্রকাশ করা আইনগত ও সাংবাদিকতার দিক থেকে ঝুঁকিপূর্ণ।
এখন নজর থাকবে Cubbon Park থানার তদন্ত, Belagavi CEN Police Station-এর FIR এবং মহিলা ইনস্পেক্টরের বিরুদ্ধে চলা বিভাগীয় তদন্তের অগ্রগতির দিকে। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত ভাইরাল ভিডিও এবং তার সঙ্গে যুক্ত অভিযোগগুলির সত্যতা নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছনো সম্ভব নয়।

