বর্ষার দাপটে ফের জলবন্দি কলকাতা! ৫০–১০০ মিমি বৃষ্টিতে জলজট-যানজটে নাকাল দক্ষিণবঙ্গ
টানা বৃষ্টিতে কলকাতার একাধিক এলাকা জলমগ্ন, নিম্নচাপ সরলেও দক্ষিণবঙ্গে এখনও ভারী বৃষ্টির আশঙ্কা
বর্ষার দাপটে ফের বিপর্যস্ত পশ্চিমবঙ্গের জনজীবন। কলকাতা-সহ দক্ষিণবঙ্গের একাধিক জেলায় টানা বৃষ্টির জেরে মঙ্গলবারও জলজট ও যানজটের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। কলকাতায় গত ২৪ ঘণ্টায় বিভিন্ন এলাকায় ৫০ থেকে ১০০ মিলিমিটার পর্যন্ত বৃষ্টিপাত হয়েছে বলে আবহাওয়া সংক্রান্ত রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে। অতিবৃষ্টির জেরে শহরের একাধিক নিচু এলাকা জলমগ্ন হয়ে পড়ে। গুরুত্বপূর্ণ রাস্তায় জল জমে যাওয়ায় ধীর হয়ে যায় যান চলাচল। অফিসযাত্রী থেকে সাধারণ মানুষ, বৃষ্টির কারণে সমস্যায় পড়তে হয়েছে বহু মানুষকে।
এই দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার নেপথ্যে রয়েছে বঙ্গোপসাগর ও পশ্চিমবঙ্গ সংলগ্ন এলাকায় তৈরি হওয়া শক্তিশালী নিম্নচাপজনিত আবহাওয়া ব্যবস্থা। ভারতের আবহাওয়া দফতর (IMD)-এর সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, গাঙ্গেয় পশ্চিমবঙ্গ ও সংলগ্ন এলাকায় থাকা নিম্নচাপটি শক্তি বাড়িয়ে ডিপ্রেশনে (Depression) পরিণত হওয়ার পর পশ্চিম-উত্তরপশ্চিম দিকে সরে ঝাড়খণ্ডের দিকে অবস্থান করছে। ১৮ আগস্ট সকালে সিস্টেমটির কেন্দ্র ঝাড়খণ্ডে ছিল।
নিম্নচাপ পশ্চিমের দিকে সরে যাওয়ায় কলকাতা ও সংলগ্ন এলাকায় বৃষ্টির তীব্রতা ধীরে ধীরে কমতে পারে বলে আশা করা হলেও পরিস্থিতি এখনও পুরোপুরি স্বাভাবিক নয়। দক্ষিণবঙ্গের পশ্চিমাঞ্চলের একাধিক জেলায় ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। পুরুলিয়া, বাঁকুড়া, পশ্চিম বর্ধমান এবং বীরভূমের মতো জেলাগুলিতে বিশেষ নজর রয়েছে। উপকূলবর্তী দক্ষিণ ২৪ পরগনা ও পূর্ব মেদিনীপুরেও বৃষ্টি এবং ঝোড়ো হাওয়ার প্রভাব থাকতে পারে।
কলকাতায় সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগ তৈরি হয়েছে রাস্তাঘাটে। শহরের বিভিন্ন নিচু এলাকায় জল জমে যাওয়ায় গাড়ির গতি কমেছে। তার সঙ্গে মঙ্গলবার একাধিক রাজনৈতিক কর্মসূচি ও মিছিলের কারণে শহরের বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ রাস্তায় যানজট আরও তীব্র হয়েছে। বৃষ্টি, জলজট এবং রাস্তা ঘুরিয়ে দেওয়ার কারণে ট্রাফিক সামলাতে কলকাতা পুলিশকেও বাড়তি চাপের মুখে পড়তে হয়েছে।
জল জমে থাকার কারণে শহরের নাগরিক পরিকাঠামো নিয়েও ফের প্রশ্ন উঠেছে। অতিবৃষ্টির সময় দ্রুত জল নিষ্কাশন করা কতটা সম্ভব হচ্ছে, তা নিয়ে বিভিন্ন এলাকায় উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। একটানা বৃষ্টির জেরে নিকাশি নালা ও পাম্পিং ব্যবস্থার উপরও বাড়তি চাপ তৈরি হয়। ফলে বৃষ্টি থেমে গেলেও কিছু এলাকায় জল নামতে সময় লাগতে পারে।
এদিকে নিম্নচাপটি ঝাড়খণ্ডের দিকে সরে যাওয়ায় পূর্ব ও মধ্য ভারতের আরও কিছু অংশে বৃষ্টির পরিস্থিতি বজায় থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। IMD জানিয়েছে, ১৮ আগস্ট সকালে সিস্টেমটি ঝাড়খণ্ডের উপর দিয়ে পশ্চিম-উত্তরপশ্চিম দিকে অগ্রসর হচ্ছিল। এর প্রভাবে ঝাড়খণ্ড-সহ সংলগ্ন এলাকায় ভারী বৃষ্টির পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে।
সব মিলিয়ে কলকাতায় বৃষ্টির তীব্রতা কিছুটা কমার সম্ভাবনা থাকলেও দক্ষিণবঙ্গের জন্য এখনই স্বস্তি আসছে না। নতুন করে ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা থাকায় নিচু এলাকা, জলমগ্ন রাস্তা এবং নদী সংলগ্ন অঞ্চলে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। প্রশাসনের নজর এখন দ্রুত জল নিষ্কাশন, যান চলাচল স্বাভাবিক রাখা এবং ভারী বৃষ্টিপ্রবণ এলাকাগুলিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দিকে। আবহাওয়ার সর্বশেষ আপডেট দেখে প্রয়োজন অনুযায়ী বাইরে বেরোনোর পরামর্শই থাকছে।

