নিত্যপণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণে কলকাতার বাজারে EB-এর হানা, ১০ টিমে শুরু কড়া নজরদারি
চাল-চিনি-তেলের দাম নিয়ে উদ্বেগ, কলকাতার একাধিক বাজারে সকালেই পৌঁছে গেল EB-এর টিম
কলকাতার বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণে এবার আরও কড়া নজরদারি শুরু করল কলকাতা পুলিশ। মঙ্গলবার, ২৫ আগস্ট সকালে শহরের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বাজারে অভিযান চালায় কলকাতা পুলিশের এনফোর্সমেন্ট ব্রাঞ্চ (Enforcement Branch বা EB)। চাল, চিনি, ভোজ্যতেল-সহ প্রয়োজনীয় পণ্যের দাম অস্বাভাবিকভাবে বাড়ছে কি না, কোথাও বেআইনি মজুত (Hoarding) করে কৃত্রিম সংকট তৈরি করা হচ্ছে কি না এবং ব্যবসায়ীরা নির্ধারিত দামের তুলনায় অতিরিক্ত অর্থ নিচ্ছেন কি না—মূলত এই বিষয়গুলিই খতিয়ে দেখেন আধিকারিকরা।
প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, বাজার পরিস্থিতির উপর নজরদারি চালাতে সোমবার রাতেই লালবাজারের তরফে প্রায় ১০টি EB টিম তৈরি করা হয়। মঙ্গলবার সকাল থেকেই সেই দলগুলি উত্তর ও দক্ষিণ কলকাতার বিভিন্ন বাজারে পৌঁছে যায়। শিয়ালদহের কোলে মার্কেট, শ্যামবাজার, মানিকতলা, গড়িয়াহাট, গড়িয়া বাজার এবং ভবানীপুরের যদুবাবুর বাজার-সহ একাধিক এলাকায় ব্যবসায়ী ও বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলেন পুলিশ আধিকারিকরা। বাজারে কোন পণ্যের কতটা মজুত রয়েছে, কী দামে বিক্রি হচ্ছে এবং সরবরাহ পরিস্থিতি কেমন—সেসব তথ্যও সংগ্রহ করা হয়।
বর্তমান বাজার পরিস্থিতিতে চিনির দাম বৃদ্ধিই বিশেষভাবে নজরে এসেছে। গত কয়েক সপ্তাহে চিনির দাম বাড়ায় সাধারণ ক্রেতাদের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হয়েছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। একই সঙ্গে চাল, ভোজ্যতেল, রসুন, পেঁয়াজ এবং বিভিন্ন সবজির দাম নিয়েও উদ্বেগ রয়েছে। তবে দাম বৃদ্ধির কারণ হিসেবে বাজারে একাধিক ব্যাখ্যা থাকলেও, কেন্দ্রীয় স্তরে ইথানল পরিস্থিতিকে এই মূল্যবৃদ্ধির সরাসরি কারণ হিসেবে গ্রহণ করা হয়নি। ফলে কোথায় সরবরাহের সমস্যা হচ্ছে এবং কোথাও কৃত্রিমভাবে বাজার নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা চলছে কি না, সেটিও খতিয়ে দেখছে প্রশাসন।
শুধু কলকাতার বাজারেই নয়, রাজ্যের বিভিন্ন জেলাতেও নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। বাঁকুড়ার বিষ্ণুপুরে বাজার ও হোটেলগুলিতে প্রশাসনিক অভিযান চালানোর খবর সামনে এসেছে। সেখানে বেআইনি মজুতের পাশাপাশি খাদ্যসুরক্ষা সংক্রান্ত বিষয়গুলিও খতিয়ে দেখা হয়। অর্থাৎ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম এবং সরবরাহ ব্যবস্থার উপর নজরদারি এখন শুধু শহরকেন্দ্রিক থাকছে না।
রাজ্যের Enforcement Branch-এর দায়িত্বের মধ্যেই রয়েছে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজারদর পর্যবেক্ষণ। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, মূল্যবৃদ্ধির খবর পাওয়া গেলে নিয়মিত বাজার সমীক্ষা করা হয় এবং প্রয়োজন অনুযায়ী State Task Force ও সংশ্লিষ্ট দফতরের সঙ্গে যৌথভাবে অভিযান চালানো হয়। চাল, বিভিন্ন ডাল, সর্ষের তেল, পেঁয়াজ, আলু, নুন এবং চিনি-সহ মোট ১৫টি নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দৈনিক দাম EB Market Portal-এর মাধ্যমে পর্যবেক্ষণ করা হয়।
তবে শুধু অভিযান চালালেই বাজারদর কমবে, এমন নিশ্চয়তা নেই। নিত্যপণ্যের দাম নির্ধারণে সরবরাহের ঘাটতি, পরিবহণ খরচ, আবহাওয়ার প্রভাব, পাইকারি ও খুচরো বাজারের দামের পার্থক্য এবং আন্তর্জাতিক বাজারের পরিস্থিতির মতো একাধিক বিষয় কাজ করে। তাই বেআইনি মজুত বা অতিরিক্ত দামের প্রমাণ মিললে ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি মূল্যবৃদ্ধির প্রকৃত কারণ চিহ্নিত করাও জরুরি।
মঙ্গলবারের অভিযানের পর কোনও ব্যবসায়ী বা মজুতদারের বিরুদ্ধে নির্দিষ্ট আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে কি না, কিংবা বাজারে বেআইনি মজুতের কোনও প্রমাণ মিলেছে কি না—এখন সেদিকেই নজর। কলকাতার সাধারণ মানুষের জন্য এই নজরদারির সবচেয়ে বড় পরীক্ষা হবে, এর ফলে আগামী দিনে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম ও সরবরাহে বাস্তবে কতটা স্থিতিশীলতা আসে।

