Baruipur BJP Worker Murder: সাসপেন্ডেড মণ্ডল সভাপতি-সহ গ্রেফতার ৪

NEWS INDIA বাংলা
0

 বারুইপুরে BJP কর্মী খুনে বড় মোড়, সাসপেন্ডেড মণ্ডল সভাপতি-সহ গ্রেফতার ৪

পুজো কমিটির বিবাদ থেকে রক্তাক্ত পরিণতি? বারুইপুরে BJP কর্মী খুনে গ্রেফতার ৪

বারুইপুরে BJP কর্মী বাপি প্রামাণিক খুনের ঘটনায় পুলিশের তদন্ত ও গ্রেফতার


দক্ষিণ ২৪ পরগনার বারুইপুরে বিজেপি কর্মী বাপি প্রামাণিক খুনের ঘটনায় তদন্তে বড়সড় মোড়। দলীয় কর্মী খুনের অভিযোগে স্থানীয় বিজেপির সাসপেন্ডেড মণ্ডল সভাপতি সুজন মণ্ডল-সহ মোট চারজনকে গ্রেফতার করেছে বারুইপুর থানার পুলিশ। ধৃতদের মধ্যে রয়েছেন কৃষ্ণা মণ্ডল, কনক মণ্ডল এবং অনিল নাইয়া। পরিবারের লিখিত অভিযোগ এবং প্রাথমিক তদন্তের ভিত্তিতেই এই গ্রেফতার বলে পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে।

ঘটনার সূত্রপাত রবিবার রাতে বারুইপুর থানার অন্তর্গত হাড়দহ পঞ্চায়েতের উত্তর ট্যাঙ্গেরবেড়িয়া এলাকায়। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, স্থানীয় একটি দুর্গাপুজো কমিটি গঠন এবং তার নিয়ন্ত্রণকে কেন্দ্র করে দুই গোষ্ঠীর মধ্যে বিবাদ তৈরি হয়। পরে সেই বিবাদ সংঘর্ষের চেহারা নেয়। সংঘর্ষের মধ্যেই গুরুতর আহত হন ৪৫ বছর বয়সি বিজেপি কর্মী বাপি প্রামাণিক। দ্রুত তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলেও চিকিৎসকরা মৃত বলে ঘোষণা করেন।

মৃতের পরিবারের অভিযোগ, ঘটনার পিছনে শুধুমাত্র পুজো কমিটি নিয়ে বিরোধ ছিল না। তাঁদের দাবি, ফোন করে বাপিকে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। এরপর তাঁর উপর ধারালো অস্ত্র দিয়ে হামলা চালানো হয়। পরিবারের আরও অভিযোগ, বাপির স্ত্রী ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন এবং তাঁর সামনেই তাঁকে টেনে নিয়ে গিয়ে আক্রমণ করা হয়। পুরনো রাজনৈতিক বিরোধের জেরেই পরিকল্পিতভাবে হামলা চালানো হয়েছিল বলেও অভিযোগ পরিবারের। যদিও এই রাজনৈতিক উদ্দেশ্যের অভিযোগ এখনও পুলিশ নিশ্চিত করেনি।

তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে সাসপেন্ডেড বিজেপি নেতা সুজন মণ্ডলের নাম। বিজেপির রাজ্য কমিটির সদস্য উত্তম করের দাবি, দলবিরোধী কাজের অভিযোগে কয়েক দিন আগেই সুজন মণ্ডলকে সাসপেন্ড করা হয়েছিল। অন্যদিকে, মৃতের পরিবারের অভিযোগে তৃণমূল-ঘনিষ্ঠ কয়েকজনের নামও উঠে এসেছে বলে জানা গিয়েছে। তবে এখনও পর্যন্ত কোনও রাজনৈতিক দলের প্রত্যক্ষ যোগসূত্রের কথা পুলিশ নিশ্চিত করেনি। তৃণমূলের তরফেও অভিযোগ নিয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

পুলিশ জানিয়েছে, পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে মামলা রুজু করে তদন্ত শুরু করা হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে যুক্ত প্রত্যেকের ভূমিকা খতিয়ে দেখতে এলাকার CCTV ফুটেজ পরীক্ষা করা হচ্ছে। প্রথমে কয়েকজনকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। এরপর তদন্তে পাওয়া তথ্য এবং অভিযোগের ভিত্তিতে চারজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। হামলার সময় কে কোথায় ছিলেন, কীভাবে সংঘর্ষের সূত্রপাত হয় এবং বাপি প্রামাণিকের উপর হামলায় প্রত্যেক অভিযুক্তের নির্দিষ্ট ভূমিকা কী ছিল, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।

ঘটনার পর উত্তর ট্যাঙ্গেরবেড়িয়া এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশি নজরদারি বাড়ানো হয়েছে এবং এলাকায় টহল চলছে। রাজনৈতিক পরিচয় ঘিরে খুনের অভিযোগ সামনে আসায় ঘটনাটি ইতিমধ্যেই রাজ্য রাজনীতিতেও আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে।

তবে তদন্ত শেষ হওয়ার আগে ঘটনাটিকে রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র হিসেবে চূড়ান্তভাবে চিহ্নিত করা ঠিক হবে না। পুজো কমিটির বিরোধ, পুরনো রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব এবং ব্যক্তিগত বা স্থানীয় বিবাদের মধ্যে কোনটি খুনের প্রকৃত কারণ—তা স্পষ্ট হবে তদন্তের পরবর্তী ধাপে। এখন নজর গ্রেফতার চারজনকে জিজ্ঞাসাবাদ, CCTV ফুটেজ এবং পুলিশের হাতে আসা অন্যান্য প্রমাণের দিকে।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন (0)

#buttons=(Ok, Go it!) #days=(20)

Our website uses cookies to enhance your experience. Check Now
Ok, Go it!