বিজেপি-বিরোধী ঐক্যের বার্তা কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের, তৃণমূল-বাম সমীকরণে নতুন জল্পনা

NEWS INDIA বাংলা
0

বিজেপিকে ঠেকাতে বৃহত্তর বিরোধী ঐক্যের বার্তা কল্যাণের, তৃণমূল-বাম সমীকরণ ঘিরে নতুন জল্পনা

বিজেপি-বিরোধী লড়াইয়ে ঐক্যের ডাক কল্যাণের, তৃণমূল-বাম সমীকরণ নিয়ে কেন বাড়ছে জল্পনা?

বিজেপি-বিরোধী বৃহত্তর ঐক্য নিয়ে তৃণমূল সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের বক্তব্য


বিজেপির বিরুদ্ধে রাজনৈতিক লড়াই আরও জোরদার করতে বিরোধী শক্তিগুলির মধ্যে বৃহত্তর সমন্বয়ের প্রয়োজন রয়েছে—তৃণমূল কংগ্রেস সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের এমন বক্তব্য ঘিরে রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে চর্চা শুরু হয়েছে। তাঁর মন্তব্যের পরেই প্রশ্ন উঠেছে, বিজেপি-বিরোধী লড়াইয়ে তৃণমূলের সঙ্গে বাম বা অন্যান্য বিরোধী শক্তির কোনও ধরনের সমন্বয়ের সম্ভাবনা তৈরি হচ্ছে কি না। তবে এখনও পর্যন্ত এটিকে কোনও আনুষ্ঠানিক নির্বাচনী জোটের ঘোষণা হিসেবে দেখার মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়নি।

কল্যাণের বক্তব্যের মূল সুর, বিজেপিকে রাজনৈতিকভাবে মোকাবিলা করতে গেলে বিরোধী দলগুলির মধ্যে বিভাজনের বদলে বৃহত্তর রাজনৈতিক স্বার্থকে গুরুত্ব দিতে হবে। অর্থাৎ, বিভিন্ন দলের নিজস্ব মতপার্থক্য থাকলেও বিজেপি-বিরোধী লড়াইয়ের ক্ষেত্রে ন্যূনতম সমন্বয়ের জায়গা তৈরি করা যেতে পারে কি না, সেই প্রশ্নই সামনে এসেছে।

পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক বাস্তবতায় এই বক্তব্যের তাৎপর্য কম নয়। তৃণমূল কংগ্রেস দীর্ঘদিন ধরে বিজেপির বিরুদ্ধে সরাসরি রাজনৈতিক লড়াই চালিয়ে এলেও বাম দলগুলি তৃণমূলের বিরুদ্ধেও ধারাবাহিকভাবে আন্দোলন ও রাজনৈতিক প্রচার চালিয়েছে। ফলে দুই শিবিরের মধ্যে দীর্ঘদিনের সংঘাত রয়েছে। এই পরিস্থিতিতে তৃণমূলের এক সাংসদের মুখে বৃহত্তর বিজেপি-বিরোধী ঐক্যের প্রয়োজনীয়তার কথা নতুন রাজনৈতিক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

বিশেষ করে ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের পর রাজ্যের রাজনৈতিক সমীকরণে বড় পরিবর্তন এসেছে। সেই পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে বিরোধী দলগুলির সামনে নিজেদের সংগঠন, ভোটব্যাঙ্ক এবং রাজনৈতিক কৌশল নতুন করে সাজানোর প্রশ্ন রয়েছে। ফলে আগামী দিনে বিজেপির বিরুদ্ধে লড়াইয়ে বিরোধী ভোটের বিভাজন কতটা গুরুত্বপূর্ণ হবে, তা নিয়েও রাজনৈতিক মহলে আলোচনা চলছে।

এরই মধ্যে বাম শিবিরের মধ্যেও বৃহত্তর ঐক্যের বার্তা সামনে এসেছে। সাম্প্রতিক এক বাম সমাবেশে বিভিন্ন বামপন্থী দলের নেতারা ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধের উপর জোর দিয়েছেন। ফলে তৃণমূলের পক্ষ থেকে বিজেপি-বিরোধী বৃহত্তর সমন্বয়ের কথা ওঠায় দুই দিকের রাজনৈতিক বক্তব্যকে পাশাপাশি রেখে দেখছেন পর্যবেক্ষকদের একাংশ।

তবে বাস্তবে তৃণমূল ও বামেদের মধ্যে সমন্বয় তৈরি করা সহজ হবে না। দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক সংঘাত, সংগঠনগত প্রতিদ্বন্দ্বিতা এবং একাধিক ইস্যুতে পরস্পরবিরোধী অবস্থান রয়েছে দুই পক্ষের। রাজ্য স্তরে কোনও বোঝাপড়া তৈরি হলেও স্থানীয় স্তরে কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে সেই সমন্বয় কতটা কার্যকর হবে, সেটিও বড় প্রশ্ন।

এছাড়া আসন সমঝোতা, নেতৃত্বের ভূমিকা এবং রাজনৈতিক কর্মসূচি নিয়েও মতপার্থক্য তৈরি হতে পারে। তাই একটি নেতার বক্তব্যকে কেন্দ্র করে সরাসরি জোটের সম্ভাবনা ধরে নেওয়া রাজনৈতিকভাবে তাড়াহুড়োর সিদ্ধান্ত হবে।

তৃণমূলের পক্ষ থেকেও এখনও পর্যন্ত বাম বা অন্য কোনও বিরোধী দলের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক নির্বাচনী জোটের ঘোষণা সামনে আসেনি। ফলে কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের বক্তব্যকে আপাতত বিজেপি-বিরোধী বৃহত্তর রাজনৈতিক সমন্বয়ের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে তাঁর অবস্থান হিসেবেই দেখা হচ্ছে।

তবে তাঁর মন্তব্য একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন অবশ্যই সামনে এনেছে—বিজেপিকে মোকাবিলা করতে রাজ্যের বিরোধী শক্তিগুলি কি নিজেদের রাজনৈতিক দূরত্ব কিছুটা কমিয়ে বৃহত্তর কোনও সমন্বয়ের পথে হাঁটবে? আগামী দিনের রাজনৈতিক বক্তব্য, বৈঠক এবং মাঠের কর্মসূচিই সেই প্রশ্নের উত্তর স্পষ্ট করবে।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন (0)

#buttons=(Ok, Go it!) #days=(20)

Our website uses cookies to enhance your experience. Check Now
Ok, Go it!