মেমারি হাসপাতালে রাতের আচমকা পরিদর্শনে স্বাস্থ্যমন্ত্রী, অব্যবহৃত বেড-যন্ত্রপাতি দেখে ক্ষোভ
১০০ শয্যার ভবন তৈরি, তবু পড়ে যন্ত্রপাতি! মেমারি হাসপাতালে গভীর রাতে স্বাস্থ্যমন্ত্রীর পরিদর্শন
পূর্ব বর্ধমানের মেমারি গ্রামীণ হাসপাতালে আচমকা পরিদর্শনে গিয়ে পরিষেবা ও পরিকাঠামোর ব্যবহারে অসন্তোষ প্রকাশ করলেন রাজ্যের স্বাস্থ্যমন্ত্রী শারদ্বত মুখোপাধ্যায়। শুক্রবার গভীর রাতে জামালপুর স্বাস্থ্যকেন্দ্র পরিদর্শনের পর মেমারি হাসপাতালে পৌঁছন তিনি। রাতের পরিদর্শনে হাসপাতালের বিভিন্ন ওয়ার্ড, অপারেশন থিয়েটার (Operation Theatre), হাসপাতাল চত্বর এবং চিকিৎসা পরিষেবায় ব্যবহারের জন্য তৈরি পরিকাঠামো ও যন্ত্রপাতির পরিস্থিতি খতিয়ে দেখেন মন্ত্রী।
পরিদর্শনের সময় হাসপাতালের নতুন ১০০ শয্যার আধুনিক ভবন নিয়েই সবচেয়ে বেশি প্রশ্ন ওঠে। অভিযোগ, ভবন তৈরি হয়ে গেলেও তার একটি অংশ এখনও পুরোপুরি রোগীদের পরিষেবায় ব্যবহার করা হচ্ছে না। শুধু ভবন নয়, চিকিৎসার কাজে ব্যবহারের জন্য সরবরাহ করা একাধিক যন্ত্রপাতিও দীর্ঘদিন ধরে অব্যবহৃত অবস্থায় পড়ে রয়েছে বলে পরিদর্শনে মন্ত্রীর নজরে আসে।
হাসপাতালে থাকা এসি (AC), অপারেশন থিয়েটারের টেবিল, রেফ্রিজারেটর-সহ একাধিক সরঞ্জামের মোড়ক পর্যন্ত খোলা হয়নি বলে দাবি করা হয়েছে। মন্ত্রীর বক্তব্য অনুযায়ী, ৫০টিরও বেশি বেড, ক্র্যাশ ট্রলি এবং দু’টি শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত ফ্লোরও কার্যত ব্যবহার না করে ফেলে রাখা হয়েছে। সরকারি অর্থে তৈরি ও কেনা এই পরিকাঠামো কেন রোগীদের কাজে লাগানো হচ্ছে না, তা নিয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কাছে প্রশ্ন তোলেন তিনি।
পরিষেবা ব্যবস্থার পাশাপাশি হাসপাতালের পরিচ্ছন্নতা নিয়েও অসন্তোষ প্রকাশ করেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। হাসপাতাল চত্বরে আবর্জনা জমে থাকা এবং পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার ঘাটতি তাঁর নজরে আসে। রোগীদের চিকিৎসার জন্য উন্নত পরিকাঠামো তৈরি করলেই দায়িত্ব শেষ হয়ে যায় না, সেই পরিকাঠামো নিয়মিত ব্যবহার করে সাধারণ মানুষের পরিষেবা নিশ্চিত করাই মূল লক্ষ্য—পরিদর্শনের সময় এমনই বার্তা দেন মন্ত্রী।
হাসপাতালের অব্যবহৃত পরিকাঠামো দ্রুত পরিষেবার আওতায় আনার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে। যে সমস্ত পরিষেবা চালু করা সম্ভব, সেগুলি দ্রুত কার্যকর করতে হবে বলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেন তিনি। একইসঙ্গে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা এবং চিকিৎসা পরিষেবার মানের ক্ষেত্রে কোনও ধরনের গাফিলতি বরদাস্ত করা হবে না বলেও স্পষ্ট বার্তা দেন।
পরিষেবা চালু না হওয়ার পিছনে কর্মীর ঘাটতির যুক্তি রয়েছে কি না, তাও খতিয়ে দেখা হয়েছে বলে রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে। মন্ত্রীর দাবি, হাসপাতাল পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় কর্মীসংখ্যা হিসেব অনুযায়ী রয়েছে। ফলে শুধুমাত্র কর্মীর অভাবকে কারণ দেখিয়ে তৈরি পরিকাঠামো বা চিকিৎসা সরঞ্জাম অব্যবহৃত রাখার সুযোগ নেই।
রাজ্যের সরকারি হাসপাতালগুলিতে পরিষেবা ও পরিকাঠামোর বাস্তব পরিস্থিতি সরেজমিনে দেখতে স্বাস্থ্যমন্ত্রীর আকস্মিক পরিদর্শনের ধারাবাহিকতায় মেমারি হাসপাতালের এই ঘটনাও গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। কারণ সরকারি অর্থে তৈরি আধুনিক ভবন ও কেনা চিকিৎসা সরঞ্জাম যদি রোগীদের কাজে না আসে, তাহলে সেই বিনিয়োগের প্রত্যাশিত সুফল থেকে বঞ্চিত হন সাধারণ মানুষ।
এখন নজর থাকবে মন্ত্রীর নির্দেশের পর মেমারি গ্রামীণ হাসপাতালের ১০০ শয্যার নতুন ভবন, অব্যবহৃত বেড, অপারেশন থিয়েটার এবং চিকিৎসা সরঞ্জাম কত দ্রুত পরিষেবায় যুক্ত হয়। পাশাপাশি হাসপাতালের পরিচ্ছন্নতা ও দৈনন্দিন পরিষেবার মানে বাস্তবে কতটা পরিবর্তন আসে, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ। কারণ সরকারি হাসপাতালে পরিকাঠামো থাকা সত্ত্বেও তার ব্যবহার না হলে শেষ পর্যন্ত ভোগান্তির মুখে পড়তে হয় রোগী ও তাঁদের পরিবারকেই।

