নয় বছর পর কৈলাস মানস সরোবর যাত্রা, ভারতে ফিরছে নবম দল
৪৮ সদস্যের দলে KMVN-এর তিন রাঁধুনি, ২৩ আগস্ট ভারতে ফিরবে দশম দল
নিউজ ইন্ডিয়া ওয়েব ডেস্কঃ নয় বছর দীর্ঘ বিরতির পর ফের শুরু হওয়া কৈলাস মানস সরোবর যাত্রা (Kailash Mansarovar Yatra)-কে ঘিরে তীর্থযাত্রীদের যাত্রাপথে একের পর এক গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি সামনে আসছে। বুধবার, ১৯ আগস্ট, যাত্রার নবম দল ভারতে প্রবেশ করার কথা জানিয়েছে উত্তরাখণ্ড সরকার। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, এই দলে মোট ৪৮ জন সদস্য রয়েছেন। তাঁদের সঙ্গে রয়েছেন কুমায়ুন মণ্ডল বিকাশ নিগমের (KMVN) তিনজন রাঁধুনিও।
কৈলাস মানস সরোবর যাত্রা ভারতের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় তীর্থযাত্রা। তিব্বতের কৈলাস পর্বত এবং মানস সরোবরকে কেন্দ্র করে এই যাত্রার ধর্মীয় ও আধ্যাত্মিক গুরুত্ব অপরিসীম। দীর্ঘ বিরতির পর ২০২৬ সালে ফের এই যাত্রা শুরু হওয়ায় দেশের বিভিন্ন প্রান্তের তীর্থযাত্রীদের মধ্যে বিশেষ উৎসাহ তৈরি হয়েছে। এবারের যাত্রায় নিরাপত্তা, চিকিৎসা এবং যাত্রাপথে প্রয়োজনীয় পরিষেবার উপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
কেন্দ্রীয় বিদেশ মন্ত্রকের পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০২৬ সালে মোট ২০টি ব্যাচে কৈলাস মানস সরোবর যাত্রার আয়োজন করা হয়েছে। এর মধ্যে ১০টি ব্যাচ উত্তরাখণ্ডের লিপুলেখ (Lipulekh) পাস দিয়ে এবং আরও ১০টি ব্যাচ সিকিমের নাথু লা (Nathu La) পাস দিয়ে যাত্রা করবে। দুই রুট মিলিয়ে মোট প্রায় ১০০০ জন তীর্থযাত্রীর জন্য ব্যবস্থা করা হয়েছে বলে সরকারি তথ্য জানাচ্ছে।
নবম দলের ভারতে ফেরার পাশাপাশি ইতিমধ্যেই পরবর্তী দলের যাত্রাপথের দিকেও নজর রয়েছে। উত্তরাখণ্ড সরকারের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, দশম দলে রয়েছেন ৪৪ জন সদস্য। তাঁদের মধ্যে তিনজন KMVN-এর রাঁধুনি। বর্তমানে দশম দল তিব্বতে রয়েছে এবং আগামী ২৩ আগস্ট ভারতে প্রবেশ করার কথা রয়েছে। ফলে পরপর দুটি দলের নিরাপদ প্রত্যাবর্তন এবারের যাত্রা পরিচালনার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
এই যাত্রাকে আরও নিরাপদ, সাশ্রয়ী এবং সহজলভ্য করে তুলতে একাধিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে কেন্দ্রীয় বিদেশ মন্ত্রক। দুর্গম পাহাড়ি পথে তীর্থযাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি চিকিৎসা সহায়তা, যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক পরিষেবা সচল রাখার উপর জোর দেওয়া হয়েছে। যাত্রা পরিচালনার ক্ষেত্রে একাধিক সরকারি সংস্থার মধ্যে সমন্বয়ও করা হচ্ছে।
বিদেশ মন্ত্রকের পাশাপাশি উত্তরাখণ্ড, উত্তরপ্রদেশ এবং সিকিম সরকার, ইন্দো-তিব্বত সীমান্ত পুলিশ (ITBP) এবং অন্যান্য সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থা এই যাত্রার ব্যবস্থাপনায় যুক্ত রয়েছে। দুর্গম সীমান্তবর্তী অঞ্চলের ভৌগোলিক পরিস্থিতি এবং আবহাওয়ার পরিবর্তন যাত্রাপথে বড় চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে। তাই প্রতিটি ব্যাচের গতিবিধি এবং নিরাপত্তার বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।
নয় বছর পর এই তীর্থযাত্রা পুনরায় শুরু হওয়া ভারত-তিব্বত সীমান্তবর্তী অঞ্চলের জন্যও তাৎপর্যপূর্ণ। একদিকে যেমন ধর্মীয় পর্যটনের সঙ্গে যুক্ত মানুষের মধ্যে নতুন প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে, অন্যদিকে স্থানীয় পরিষেবা ও যাত্রা ব্যবস্থাপনার সঙ্গেও এর যোগ রয়েছে। বিশেষ করে উত্তরাখণ্ডের লিপুলেখ রুট দীর্ঘদিন পর ফের সক্রিয় হওয়ায় এই পথের পরিকাঠামো ও প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনাও গুরুত্ব পাচ্ছে।
নবম দলের ভারতে প্রত্যাবর্তন তাই শুধু একটি তীর্থযাত্রী দলের যাত্রা শেষ করার ঘটনা নয়। দীর্ঘ বিরতির পর পুনরায় চালু হওয়া কৈলাস মানস সরোবর যাত্রার ধারাবাহিকতা বজায় থাকারও একটি গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত। এখন নজর রয়েছে দশম দলের নিরাপদ প্রত্যাবর্তনের দিকে। পাশাপাশি আগামী ব্যাচগুলির যাত্রা কীভাবে সম্পন্ন হয়, তার উপরও নজর থাকবে প্রশাসন ও তীর্থযাত্রীদের।

