টানা সপ্তম দিন পড়ল শেয়ার বাজার, ২৪,১০০-এর নিচে Nifty! Crude Oil ও বিশ্ব অস্থিরতায় বাড়ছে চাপ
West Asia tension, চড়া Crude Oil ও মার্কিন Treasury yield-এর ধাক্কায় সতর্ক বিনিয়োগকারীরা, নজরে আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি
নিউজ ইন্ডিয়া ওয়েব ডেস্কঃ বিশ্ববাজারের অস্থিরতার সরাসরি প্রভাব পড়ছে ভারতীয় শেয়ার বাজারে। বুধবার, ১৯ আগস্ট, টানা সপ্তম সেশনে দুর্বল অবস্থানে শেষ হয়েছে দেশের দুই প্রধান সূচক Sensex এবং Nifty 50। অপরিশোধিত তেলের (Crude Oil) দাম বৃদ্ধি, পশ্চিম এশিয়ায় ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা এবং আন্তর্জাতিক বন্ড বাজারে উচ্চ yield-এর কারণে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে ঝুঁকি নেওয়ার প্রবণতা কমেছে। ফলে বাজারে তৈরি হয়েছে চাপের পরিবেশ।
বুধবারের লেনদেনে Nifty 50 একসময় গুরুত্বপূর্ণ ২৪,১০০-এর স্তরের নিচে নেমে যায়। Reuters-এর রিপোর্ট অনুযায়ী, পরে সূচকটি প্রায় ০.৩৫ শতাংশ কমে ২৪,০৭০.৬৫ পয়েন্টে দাঁড়ায়। অন্যদিকে Sensex প্রায় ০.৩২ শতাংশ কমে ৭৬,৯৯১.৩৩ পয়েন্টে পৌঁছয়। এদিনের পতনের ফলে Nifty-র টানা সাত দিনের দুর্বলতা অব্যাহত থাকে। গত সাতটি সেশনে সূচকটি মোট প্রায় ১.৭ শতাংশ কমেছে।
বর্তমানে বাজারের অন্যতম বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠেছে Crude Oil। Strait of Hormuz ঘিরে অনিশ্চয়তা এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান সংঘাতের পরিস্থিতি আন্তর্জাতিক জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ বাড়িয়েছে। Reuters-এর তথ্য অনুযায়ী, বুধবার Brent crude-এর দাম প্রায় ৯১.৬২ ডলারে পৌঁছয়। টানা চতুর্থ দিনের মতো তেলের দাম বৃদ্ধির ঘটনাও বিনিয়োগকারীদের দুশ্চিন্তা বাড়িয়েছে।
ভারত বিশ্বের অন্যতম বড় crude oil আমদানিকারক দেশ হওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বৃদ্ধির প্রভাব অর্থনীতিতে পড়তে পারে। অপরিশোধিত তেলের দাম দীর্ঘ সময় উঁচু থাকলে আমদানি খরচ বাড়তে পারে। এর প্রভাব পড়তে পারে বাণিজ্য ঘাটতি, ভারতীয় মুদ্রা, পরিবহণ এবং উৎপাদন খরচে। একই সঙ্গে জ্বালানির দাম বাড়লে মূল্যস্ফীতির (Inflation) চাপও ফের বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হতে পারে।
এর পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বন্ড বাজারের পরিস্থিতিও ভারতীয় শেয়ার বাজারের জন্য বড় উদ্বেগের কারণ। মার্কিন Treasury yield উচ্চস্তরে থাকায় Emerging Market-এর সম্পদের আকর্ষণ কিছুটা কমতে পারে। ১৮ আগস্ট মার্কিন ৩০ বছরের Treasury yield ৫.৩২৭ শতাংশে পৌঁছেছিল বলে Reuters জানিয়েছে, যা ২০০৭ সালের পর অন্যতম সর্বোচ্চ স্তর। মার্কিন বন্ডে তুলনামূলক বেশি রিটার্নের সুযোগ তৈরি হলে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের ঝুঁকিপূর্ণ বাজার থেকে অর্থ সরানোর প্রবণতা বাড়তে পারে।
বুধবার ভারতীয় বাজারে অধিকাংশ Sector-এই চাপ দেখা যায়। ১৬টি প্রধান sector-এর মধ্যে ১৩টিতে পতন হয়েছে। Financial stocks প্রায় ০.৫ শতাংশ কমেছে। যদিও IT index কিছুটা ঘুরে দাঁড়িয়েছে। একইসঙ্গে Stock-specific movement-ও দেখা গিয়েছে। Prism Johnson-এর শেয়ারে উল্লেখযোগ্য উত্থান হয়েছে। IPO-র পর প্রথম দিনেই Shiprocket-এর শেয়ার প্রায় ৩৫ শতাংশ উপরে উঠেছে।
এখন বিনিয়োগকারীদের নজর থাকবে Crude Oil-এর দামের গতিপথ, Strait of Hormuz পরিস্থিতি, US-Iran সম্পর্ক, মার্কিন Treasury yield এবং Foreign Institutional Investors (FII)-এর লেনদেনের দিকে। তেলের দাম যদি দীর্ঘ সময় ৯০ ডলারের উপরে থাকে, তাহলে ভারতীয় বাজারে volatility আরও বাড়তে পারে। তবে পশ্চিম এশিয়ার পরিস্থিতির দ্রুত উন্নতি হলে তেলের দাম কমার সঙ্গে সঙ্গে বাজারেও স্বস্তি ফিরতে পারে।
সব মিলিয়ে, ভারতীয় শেয়ার বাজারের বর্তমান চাপ শুধুমাত্র কোনও একটি domestic factor-এর কারণে নয়। আন্তর্জাতিক তেলের বাজার, ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা, উচ্চ global bond yield এবং risk-off sentiment একসঙ্গে বাজারকে চাপে রেখেছে। ফলে আগামী কয়েকটি trading session-এ আন্তর্জাতিক পরিস্থিতিই বাজারের দিক নির্ধারণে বড় ভূমিকা নিতে পারে।

