মোদি সরকারকে চাপে ফেলতে নতুন রণকৌশল? আজ CWC বৈঠকে কংগ্রেসের বড় রোডম্যাপ
ছাত্র আন্দোলন, রাম মন্দিরের অনুদান থেকে ‘বন্দে মাতরম’ বিতর্ক, একাধিক ইস্যুতে কেন্দ্রকে ঘেরার কৌশল নিয়ে আলোচনা হতে পারে
নিউজ ইন্ডিয়া ওয়েব ডেস্কঃ কেন্দ্রের নরেন্দ্র মোদি সরকারকে রাজনৈতিকভাবে চাপে ফেলতে আগামী দিনের কৌশল নির্ধারণে বুধবার বৈঠকে বসছে কংগ্রেসের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারক সংস্থা কংগ্রেস ওয়ার্কিং কমিটি (Congress Working Committee বা CWC)। দিল্লির ইন্দিরা ভবনে বিকেল ৩টেয় মল্লিকার্জুন খড়গের (Mallikarjun Kharge) সভাপতিত্বে এই বৈঠক হওয়ার কথা। কংগ্রেসের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক অবস্থান, ছাত্র-যুব ইস্যু এবং আগামী দিনের আন্দোলনের রূপরেখা নিয়েই মূলত আলোচনা হতে পারে।
বৈঠকের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হতে পারে সাম্প্রতিক ছাত্র আন্দোলন। শিক্ষা, চাকরি, বেকারত্ব এবং যুবসমাজের বিভিন্ন সমস্যাকে কীভাবে বৃহত্তর রাজনৈতিক ইস্যুতে পরিণত করা যায়, তা নিয়ে আলোচনা হতে পারে বলে কংগ্রেস সূত্রে খবর। সংসদের বর্ষাকালীন অধিবেশনে ছাত্রদের আন্দোলন এবং পুলিশের পদক্ষেপের মতো বিষয় নিয়ে বিরোধীদের সরব হতে দেখা গিয়েছে। ফলে সংসদের বাইরে এই ইস্যুগুলিকে আরও ধারাবাহিক রাজনৈতিক কর্মসূচিতে পরিণত করার পরিকল্পনা নিতে পারে কংগ্রেস।
এর পাশাপাশি অযোধ্যার রাম মন্দিরের অনুদান নিয়ে ওঠা অভিযোগও CWC বৈঠকে গুরুত্ব পেতে পারে। এর আগেই কংগ্রেস সংসদে এই বিষয়টি তুলে ধরার কথা জানিয়েছিল। দলের বক্তব্য অনুযায়ী, অনুদান সংক্রান্ত অভিযোগের পাশাপাশি পেপার লিক, শিক্ষা ব্যবস্থার দুর্নীতি, মূল্যবৃদ্ধি এবং একাধিক জনস্বার্থের ইস্যুতে কেন্দ্রকে জবাবদিহির মুখে ফেলতে চায় কংগ্রেস।
রাজনৈতিক কৌশলের পাশাপাশি সাংগঠনিক প্রস্তুতিও বৈঠকের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হতে পারে। আগামী দিনে যেসব রাজ্যে নির্বাচন হওয়ার কথা, সেখানে সংগঠনকে আরও সক্রিয় করা, রাজ্যভিত্তিক রাজনৈতিক কৌশল তৈরি এবং স্থানীয় ইস্যুগুলিকে সামনে রেখে জনসংযোগ বাড়ানোর বিষয়েও আলোচনা হতে পারে। জাতীয় স্তরে বিরোধী দলগুলির সঙ্গে সমন্বয় বাড়িয়ে কেন্দ্রের বিরুদ্ধে যৌথ রাজনৈতিক চাপ তৈরি করার সম্ভাবনাও আলোচনায় আসতে পারে।
এদিকে ‘বন্দে মাতরম’ বিতর্কও কংগ্রেসের রাজনৈতিক আলোচনায় নতুন মাত্রা যোগ করেছে। স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠানে গানটির নির্দিষ্ট অংশ গাওয়া নিয়ে বিজেপির সমালোচনার জবাবে খড়গে নিজের দলের দীর্ঘদিনের রীতির কথা তুলে ধরেছেন। কংগ্রেসের বক্তব্য, তারা ঐতিহাসিকভাবে যে অংশ অনুসরণ করে এসেছে, সেটিই বজায় রেখেছে। ফলে জাতীয়তাবাদ ও ঐতিহাসিক উত্তরাধিকার নিয়ে বিজেপির আক্রমণের মোকাবিলায় দলের রাজনৈতিক অবস্থানও CWC-তে আলোচনার বিষয় হতে পারে।
CWC-র বৈঠকে রাহুল গান্ধী (Rahul Gandhi), প্রিয়াঙ্কা গান্ধী বঢরা (Priyanka Gandhi Vadra), কে সি বেণুগোপাল (K. C. Venugopal), জয়ারাম রমেশ (Jairam Ramesh)-সহ দলের শীর্ষ নেতাদের উপস্থিত থাকার কথা। ফলে বৈঠকটি শুধুমাত্র সাংগঠনিক পর্যালোচনায় সীমাবদ্ধ থাকবে না বলেই মনে করা হচ্ছে।
কংগ্রেসের সামনে অবশ্য বড় চ্যালেঞ্জ বিরোধী শিবিরকে একই ইস্যুতে কতটা ঐক্যবদ্ধ রাখা যায়। ছাত্র আন্দোলন, কর্মসংস্থান, মূল্যবৃদ্ধি, শিক্ষা এবং বিভিন্ন জনস্বার্থের বিষয়কে সামনে রেখে ধারাবাহিক আন্দোলন গড়ে তুলতে পারলে কেন্দ্রের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক চাপ বাড়ানো সম্ভব বলে মনে করছে দল। তবে সেই কৌশল বাস্তবে কতটা কার্যকর হবে, তা নির্ভর করবে মাঠপর্যায়ের সংগঠন এবং বিরোধী দলগুলির সমন্বয়ের উপর।
সব মিলিয়ে, বুধবারের CWC বৈঠক কংগ্রেসের আগামী রাজনৈতিক লড়াইয়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ মঞ্চ হতে চলেছে। মোদি সরকারের বিরুদ্ধে কোন ইস্যুগুলিকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে, আন্দোলনের রূপরেখা কী হবে এবং সংগঠনকে কীভাবে আরও সক্রিয় করা হবে, সেই প্রশ্নের উত্তর এই বৈঠক থেকেই উঠে আসতে পারে।

