ডুরান্ড ফাইনালে ফের কলকাতা ডার্বি, ২২ বছরের খরা কাটাতে মরিয়া ইস্টবেঙ্গল
শুরুটা ডার্বিতে, শেষটাও ডার্বিতে—ডুরান্ড কাপের ফাইনালে ফের মুখোমুখি মোহনবাগান-ইস্টবেঙ্গল
কলকাতা আবারও প্রস্তুত এক মহারণের জন্য। এশিয়ার অন্যতম প্রাচীন ফুটবল প্রতিযোগিতা ১৩৫তম ডুরান্ড কাপের ফাইনালে মুখোমুখি হচ্ছে কলকাতার দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী—মোহনবাগান সুপার জায়ান্ট এবং ইস্টবেঙ্গল এফসি। ২৩ আগস্ট সন্ধ্যায় বিবেকানন্দ যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে আয়োজিত এই ফাইনাল শুধু একটি ট্রফির লড়াই নয়, বরং কলকাতা ফুটবলের ঐতিহ্য, আবেগ এবং দীর্ঘদিনের ডার্বি-প্রতিদ্বন্দ্বিতার নতুন অধ্যায়।
দুই দলই কঠিন সেমিফাইনাল পেরিয়ে ফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে। ১৯ আগস্ট প্রথম সেমিফাইনালে ইস্টবেঙ্গল নির্ধারিত সময়ে গোলশূন্য থাকার পর টাইব্রেকারে SC Delhi-কে ৫-৩ গোলে হারায়। গোলরক্ষক প্রভসুখন সিং গিলের পারফরম্যান্সও সেই ম্যাচে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। অন্যদিকে, ২০ আগস্ট শিলংয়ে দ্বিতীয় সেমিফাইনালে মোহনবাগানও ৯০ মিনিটে গোল করতে পারেনি। শেষ পর্যন্ত পেনাল্টি শুটআউটে NorthEast United-কে ৪-৩ গোলে হারিয়ে ফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করে সবুজ-মেরুন শিবির।
মোহনবাগানের জয়ের অন্যতম নায়ক ছিলেন গোলরক্ষক বিশাল কাইথ। টাইব্রেকারে তাঁর দুটি গুরুত্বপূর্ণ সেভ দলকে ফাইনালে পৌঁছে দেয়। ফলে ফাইনালে কাইথ এবং ইস্টবেঙ্গলের প্রভসুখন সিং গিলের দ্বৈরথও বিশেষ আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠছে। দু’জনই সেমিফাইনালে পেনাল্টি শুটআউটে নিজেদের দক্ষতার প্রমাণ দিয়েছেন। ম্যাচ যদি নির্ধারিত সময়ে নিষ্পত্তি না হয়, তাহলে গোলরক্ষকদের ভূমিকা আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।
এই ডুরান্ড কাপের শুরুটাও হয়েছিল কলকাতা ডার্বি দিয়ে। ২৫ জুলাই উদ্বোধনী ম্যাচে মোহনবাগান ১-০ গোলে ইস্টবেঙ্গলকে হারিয়েছিল। ৫২ মিনিটে সাহাল আবদুল সামাদের গোল ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণ করে। তবে ফাইনালের পরিস্থিতি সম্পূর্ণ আলাদা। নকআউট ম্যাচে একটি মুহূর্ত, একটি ভুল বা একটি সেট-পিসই বদলে দিতে পারে গোটা ম্যাচের চিত্র।
ইতিহাসও এই ফাইনালের উত্তেজনা বাড়াচ্ছে। ডুরান্ড কাপের ফাইনালে দুই দল এর আগে ১২ বার মুখোমুখি হয়েছে। সেই লড়াইয়ে ইস্টবেঙ্গল ১৯৭৩, ১৯৭৮ এবং ২০০৪ সালে মোহনবাগানকে হারিয়ে ট্রফি জিতেছে। অন্যদিকে মোহনবাগান ১৯৮৪, ১৯৯৪ এবং ২০২৩ সালের ফাইনালে ইস্টবেঙ্গলকে হারিয়েছে। অর্থাৎ রবিবারের ম্যাচটি হবে ডুরান্ড ফাইনালে দুই দলের ১৩তম সাক্ষাৎ।
শিরোপার সংখ্যাতেও মোহনবাগান সামান্য এগিয়ে। সবুজ-মেরুনের ঝুলিতে রয়েছে ১৭টি ডুরান্ড কাপ, আর ইস্টবেঙ্গল জিতেছে ১৬ বার। তাই মোহনবাগানের সামনে রেকর্ড ১৮তম শিরোপা জয়ের সুযোগ। অন্যদিকে ইস্টবেঙ্গলের লক্ষ্য ২০০৪ সালের পর দীর্ঘ ২২ বছরের ডুরান্ড-খরা কাটিয়ে ফের ট্রফি ঘরে তোলা।
সব মিলিয়ে ২৩ আগস্টের ফাইনাল কলকাতা ফুটবলের জন্য বিশেষ এক রাত হতে চলেছে। একদিকে মোহনবাগানের রেকর্ড বাড়ানোর লক্ষ্য, অন্যদিকে ইস্টবেঙ্গলের দীর্ঘ অপেক্ষার অবসানের স্বপ্ন। ৯০ মিনিটে ম্যাচের নিষ্পত্তি হবে, নাকি আবারও টাইব্রেকারে নির্ধারিত হবে চ্যাম্পিয়ন—সেই উত্তর মিলবে যুবভারতীর মাঠেই।

