চম্পাহাটিতে বাজি কারখানায় ভয়াবহ বিস্ফোরণ, আহতের সংখ্যা নিয়ে ধোঁয়াশা; লাইসেন্স ঘিরে উঠছে প্রশ্ন
চম্পাহাটিতে ফের বাজি কারখানায় বিস্ফোরণ, আগুনের পর আহতের সংখ্যা নিয়ে কেন তৈরি হল ধোঁয়াশা?
দক্ষিণ ২৪ পরগনার চম্পাহাটিতে বাজি তৈরির একটি ইউনিটে বিস্ফোরণকে কেন্দ্র করে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। বৃহস্পতিবার দুপুরে বিস্ফোরণের পর ওই ইউনিটে আগুন ধরে যায়। ঘটনাস্থল থেকে ঘন কালো ধোঁয়া বের হতে দেখা যায়। খবর পেয়ে পুলিশ ও দমকল বাহিনী দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার কাজ শুরু করে। বিস্ফোরণের সঠিক কারণ এখনও স্পষ্ট নয়।
ঘটনায় আহতের সংখ্যা নিয়ে অবশ্য বিভিন্ন প্রতিবেদনে ভিন্ন তথ্য সামনে এসেছে। PTI-ভিত্তিক প্রতিবেদনে অন্তত পাঁচজন আহত হওয়ার কথা বলা হয়েছে। একটি প্রতিবেদনে আরও জানানো হয়েছে, আহত পাঁচজনের মধ্যে দু’জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক, আর তিনজনকে প্রাথমিক চিকিৎসার পর ছেড়ে দেওয়া হয়। অন্যদিকে, কলকাতাভিত্তিক একাধিক প্রতিবেদনে পুলিশ সূত্রে এখনও পর্যন্ত দু’জন আহত হওয়ার তথ্য নিশ্চিত করার কথা বলা হয়েছে। ফলে সরকারি ভাবে চূড়ান্ত সংখ্যা নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত আহতের সংখ্যা নিয়ে সতর্ক থাকাই নিরাপদ।
প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, চম্পাহাটি-পিয়ালি এলাকায় জনবসতি থেকে কিছুটা দূরে একটি জমির মধ্যে তৈরি করা ঘরে বাজি তৈরির কাজ চলছিল। সেখানেই বিস্ফোরণ ঘটে বলে জানা গিয়েছে। বিস্ফোরণের তীব্রতায় স্থানীয় এলাকায় আতঙ্ক ছড়ায়। আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে। স্থানীয় বাসিন্দারা ঘটনাস্থলে ছুটে যান এবং পরে পুলিশ ও দমকল এসে উদ্ধার ও আগুন নেভানোর কাজ শুরু করে।
ঘটনার পর সবচেয়ে বড় প্রশ্ন উঠেছে ইউনিটটির বৈধতা নিয়ে। পুলিশের তরফে বিস্ফোরণের প্রকৃত কারণ খতিয়ে দেখার পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট ইউনিটের প্রয়োজনীয় লাইসেন্স ছিল কি না এবং সেখানে নিরাপত্তা বিধি মানা হয়েছিল কি না, তা পরীক্ষা করা হচ্ছে। কী ধরনের বাজি বা রাসায়নিক উপাদান সেখানে মজুত ছিল, সেগুলি নির্ধারিত নিয়ম মেনে রাখা হয়েছিল কি না, সেই বিষয়ও তদন্তের আওতায় রয়েছে।
চম্পাহাটি দীর্ঘদিন ধরেই বাজি তৈরির জন্য পরিচিত এলাকা। ফলে সেখানে বেআইনি ভাবে বাজি তৈরি বা অনুমোদনহীন ইউনিট চালানোর অভিযোগ নতুন নয়। চলতি বছরের শুরুতেও চম্পাহাটির হাড়াল এলাকায় বাজি কারখানায় বিস্ফোরণের ঘটনায় একাধিক ব্যক্তি আহত হয়েছিলেন। অতীতের ঘটনাগুলির পরও নিরাপত্তা ব্যবস্থা কতটা কার্যকর হয়েছে, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে।
এবারের বিস্ফোরণের পর প্রশাসনের নজর মূলত তিনটি বিষয়ে—আহতদের প্রকৃত সংখ্যা, বিস্ফোরণের উৎস এবং ইউনিটটির বৈধতা। তদন্তকারীরা কারখানায় ব্যবহৃত উপকরণ, অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা এবং নিরাপত্তা বিধি খতিয়ে দেখছেন। একই সঙ্গে ইউনিটটি কারা পরিচালনা করছিল এবং সেখানে শ্রমিকদের কী ধরনের কাজ করানো হচ্ছিল, সেটিও তদন্তের অংশ।
ঘটনার পর এলাকায় নতুন করে বেআইনি বাজি কারখানা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। তবে তদন্ত শেষ হওয়ার আগে ইউনিটটি বেআইনি ছিল বা বিস্ফোরণের নির্দিষ্ট কারণ কী—তা নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছনো ঠিক হবে না। পুলিশি তদন্ত এবং প্রশাসনের পরবর্তী রিপোর্টেই ঘটনার সম্পূর্ণ ছবি স্পষ্ট হবে।

