উৎসবের মরশুমে বাংলায় আরও ৫০ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী? বাড়ছে নিরাপত্তা নজরদারি
পুজোর আগে বাংলায় বাড়ছে কেন্দ্রীয় বাহিনী, আরও ৫০ কোম্পানি আসার প্রস্তুতি
পশ্চিমবঙ্গে আসন্ন উৎসবের মরশুমকে সামনে রেখে আরও ৫০ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েনের প্রস্তুতি শুরু হয়েছে বলে খবর। সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই অতিরিক্ত বাহিনী রাজ্যে পৌঁছতে পারে। রাজ্য পুলিশের অনুরোধের ভিত্তিতেই এই বাহিনী চাওয়া হয়েছে বলে সূত্রের দাবি। তবে বাহিনী মোতায়েনের বিষয়ে কেন্দ্র বা রাজ্য সরকারের তরফে বিস্তারিত আনুষ্ঠানিক ঘোষণা এখনও প্রকাশ্যে আসেনি। ফলে বাহিনীর সুনির্দিষ্ট সংখ্যা, দায়িত্ব বণ্টন এবং মোতায়েনের সময়সূচি নিয়ে সরকারি নির্দেশ না আসা পর্যন্ত বিষয়টি সূত্রনির্ভর হিসেবেই দেখা হচ্ছে।
প্রকাশিত প্রতিবেদনে জানা যাচ্ছে, বিধানসভা নির্বাচনের পর ভোট-পরবর্তী আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সামলাতে রাজ্যে ইতিমধ্যেই প্রায় ৫০ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী রয়েছে। তার সঙ্গে আরও ৫০ কোম্পানি যোগ হলে রাজ্যে কেন্দ্রীয় বাহিনীর উপস্থিতি প্রায় ১০০ কোম্পানিতে পৌঁছতে পারে। অতিরিক্ত বাহিনীকে রাজ্যের বিভিন্ন পুলিশ জেলায় পাঠানোর পরিকল্পনা রয়েছে বলে সূত্রের খবর। কোথায় কত সংখ্যক জওয়ান মোতায়েন করা হবে, তা রাজ্য প্রশাসন চূড়ান্ত করবে বলে জানা যাচ্ছে।
এই অতিরিক্ত মোতায়েনের প্রধান প্রেক্ষাপট হিসেবে সামনে আসছে আসন্ন উৎসবের মরশুম। দুর্গাপুজো-সহ একাধিক বড় উৎসবকে কেন্দ্র করে কলকাতা এবং রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় বিপুল জনসমাগম হয়। মণ্ডপ, মিছিল, ধর্মীয় অনুষ্ঠান, বাজার, পরিবহণ কেন্দ্র এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় নিরাপত্তা বজায় রাখতে অতিরিক্ত বাহিনীর প্রয়োজন হতে পারে। কেন্দ্রীয় বাহিনীকে সাধারণত স্থানীয় পুলিশের সঙ্গে সমন্বয় করে টহলদারি, স্পর্শকাতর এলাকায় নজরদারি এবং জনসমাগম নিয়ন্ত্রণের কাজে ব্যবহার করা হয়।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, অতিরিক্ত ৫০ কোম্পানি বাহিনী রাজ্যের বিভিন্ন পুলিশ জেলার পাশাপাশি কলকাতাতেও দায়িত্ব পেতে পারে। তবে কোন জেলায় কত কোম্পানি থাকবে, সেই বণ্টন এখনও চূড়ান্ত হয়নি। ফলে নির্দিষ্ট কোনও এলাকা বা বিশেষ ঘটনার সঙ্গে এই বাহিনী মোতায়েনকে সরাসরি যুক্ত করার মতো সরকারি তথ্য এই মুহূর্তে নেই।
অন্যদিকে, সাম্প্রতিক সময়ে রাজ্যের বিভিন্ন জায়গায় নিরাপত্তা সংক্রান্ত একাধিক ঘটনা এবং সন্দেহভাজন জঙ্গি নেটওয়ার্কের বিরুদ্ধে তদন্তও হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে উৎসবের আগে রাজ্যজুড়ে নজরদারি বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তা নিয়ে প্রশাসনিক স্তরে আলোচনা থাকতেই পারে। তবে অতিরিক্ত বাহিনী মোতায়েনের মূল কারণ হিসেবে কোনও নির্দিষ্ট গোয়েন্দা ইনপুট বা নাশকতার আশঙ্কার কথা সরকারি ভাবে জানানো হয়নি। তাই বাহিনী আসছে মানেই বড় কোনও নিরাপত্তা হুমকি রয়েছে—এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছনোও যুক্তিযুক্ত নয়।
২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের সময় পশ্চিমবঙ্গে বিপুল সংখ্যক কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন হয়েছিল। নির্বাচন কমিশন নির্বাচনী নিরাপত্তার জন্য একাধিক ধাপে CAPF মোতায়েনের পরিকল্পনা করেছিল। পরবর্তী সময়ে ভোট-পরবর্তী পরিস্থিতিতেও কিছু বাহিনী রাজ্যে থেকে যায়।
এবার উৎসবের মরশুমে সেই উপস্থিতি আরও বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হলে তার মূল লক্ষ্য হবে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখা এবং স্থানীয় প্রশাসনের উপর চাপ কমানো। বিশেষ করে কলকাতা ও জেলার স্পর্শকাতর এলাকাগুলিতে রুট মার্চ, টহল এবং দ্রুত প্রতিক্রিয়া ব্যবস্থায় কেন্দ্রীয় বাহিনীকে ব্যবহার করা হতে পারে।
সব মিলিয়ে, পশ্চিমবঙ্গে আরও ৫০ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী আসার খবর এখন রাজ্য প্রশাসন ও নিরাপত্তা মহলে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। তবে কত বাহিনী আসবে, কখন আসবে এবং কোথায় তাদের মোতায়েন করা হবে—এই তিনটি প্রশ্নের চূড়ান্ত উত্তর সরকারি নির্দেশ প্রকাশের পরই স্পষ্ট হবে। তার আগে এই খবরকে সম্ভাব্য অতিরিক্ত নিরাপত্তা প্রস্তুতি হিসেবেই দেখা উচিত।

