দিল্লির বন্যপ্রাণী সংস্থাকে ঘিরে পাচারচক্রের অভিযোগ, চিতাবাঘের চামড়া উদ্ধারে তদন্তে নতুন মোড়
চিতাবাঘের চামড়া উদ্ধারের পর দিল্লির বন্যপ্রাণী সংস্থাকে ঘিরে প্রশ্ন, তদন্তে বাড়ছে নজর
দিল্লির একটি পরিচিত বন্যপ্রাণী সংস্থাকে ঘিরে চিতাবাঘের চামড়া উদ্ধারের ঘটনায় ওঠা অভিযোগ তদন্তে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। উদ্ধার অভিযানটি কীভাবে পরিচালিত হয়েছিল, কারা এর সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এবং চিতাবাঘের চামড়াটি কোথা থেকে এসেছিল, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে প্রকাশিত প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। একই সঙ্গে উদ্ধার অভিযানকে ঘিরে কোনও অনিয়ম বা ঘটনাটিকে নিজেদের কৃতিত্ব হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টা হয়েছিল কি না, সেই অভিযোগও তদন্তের আওতায় রয়েছে। তবে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট কোনও ব্যক্তি বা সংস্থাকে দোষী বলা যায় না।
ঘটনার কেন্দ্রে রয়েছে একটি চিতাবাঘের চামড়া উদ্ধারের মামলা। প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, এই ঘটনায় ওই বন্যপ্রাণী সংস্থার সঙ্গে যুক্ত দু’জন কর্মীকে আটক করা হয়েছে। পাশাপাশি সংস্থার প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা কার্তিক সত্যনারায়ণকে তদন্তে যোগ দেওয়ার জন্য নোটিস পাঠানো হয়েছে বলেও উল্লেখ করা হয়েছে। অভিযোগের প্রকৃত ভিত্তি, আটক ব্যক্তিদের ভূমিকা এবং উদ্ধার অভিযানের পদ্ধতি তদন্তের পরেই স্পষ্ট হবে।
কার্তিক সত্যনারায়ণ Wildlife SOS-এর সহ-প্রতিষ্ঠাতা ও CEO হিসেবে দীর্ঘদিন ধরে বন্যপ্রাণী পাচারবিরোধী অভিযানে কাজ করছেন। বিভিন্ন সরকারি সংস্থার সঙ্গে যৌথ অভিযানে সংস্থাটির ভূমিকার নজিরও রয়েছে। চলতি বছরের জুলাইয়ে উত্তরপ্রদেশের আগ্রায় ১০টি চিতাবাঘের চামড়া ও দেহাংশ উদ্ধারের একটি আন্তঃরাজ্য পাচারবিরোধী অভিযানে Wildlife SOS-এর তথ্য ও নজরদারি দলের সহযোগিতার কথা সংস্থাটি নিজেই জানিয়েছিল। ওই ঘটনায় চারজনকে গ্রেফতার করা হয় এবং পাচার হওয়া সামগ্রী দিল্লি, হরিয়ানা-সহ উত্তর ভারতের বেআইনি বাজারে যাওয়ার কথা ছিল বলে তদন্তকারীরা জানিয়েছিলেন।
দিল্লিকে ঘিরে বন্যপ্রাণী পাচারের অভিযোগ অবশ্য নতুন নয়। অতীতেও রাজধানী ও দিল্লি-এনসিআর এলাকায় চিতাবাঘের চামড়া উদ্ধারের একাধিক ঘটনা সামনে এসেছে। এমনকি ২০২৬ সালের একটি দিল্লি হাইকোর্টের মামলাতেও চিতাবাঘের চামড়া উদ্ধারের পুরনো মামলার তদন্ত ও ফরেনসিক প্রমাণ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে।
বন্যপ্রাণী পাচারকারীদের কাছে চিতাবাঘের চামড়া, হাড়, নখ, দাঁত এবং অন্যান্য দেহাংশের অবৈধ বাজারে চাহিদা রয়েছে। ফলে কোনও একটি চামড়া উদ্ধার হলে শুধু সেটির মালিকানা নয়, প্রাণীটি কোথায় মারা হয়েছিল, কীভাবে চামড়া সংগ্রহ করা হয়েছিল, কার মাধ্যমে পরিবহণ হয়েছিল এবং সম্ভাব্য ক্রেতা কারা ছিলেন, সেই গোটা নেটওয়ার্কের সন্ধান করাই তদন্তের মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত।
এই মামলায় আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে উদ্ধার অভিযানের বিশ্বাসযোগ্যতা। যদি সত্যিই অভিযানের প্রক্রিয়া নিয়ে কোনও প্রশ্ন থেকে থাকে, তাহলে তদন্তকারীদের সামনে দুটি দিক সমান্তরালভাবে খতিয়ে দেখার বিষয় রয়েছে। একদিকে চিতাবাঘের চামড়ার উৎস ও পাচারচক্রের সন্ধান, অন্যদিকে উদ্ধার অভিযানের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের ভূমিকা এবং প্রমাণ সংগ্রহের পদ্ধতি যাচাই।
তবে অভিযোগ এবং প্রমাণের মধ্যে পার্থক্য বজায় রাখা জরুরি। বর্তমানে যে তথ্য সামনে এসেছে, তার ভিত্তিতে সংশ্লিষ্ট সংস্থা বা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে চিতাবাঘ পাচারে সরাসরি জড়িত থাকার চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছনো যায় না। তদন্তকারী সংস্থার নোটিস, জিজ্ঞাসাবাদ, ফরেনসিক বিশ্লেষণ এবং আদালতে পেশ করা তথ্য থেকেই মামলার প্রকৃত চিত্র পরিষ্কার হবে।
বন্যপ্রাণী পাচার রুখতে তদন্তের শেষ প্রান্ত পর্যন্ত পৌঁছনো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দিল্লির এই ঘটনায় উদ্ধার হওয়া চিতাবাঘের চামড়ার উৎস এবং তার সঙ্গে যুক্ত সম্ভাব্য নেটওয়ার্ক সম্পর্কে নতুন তথ্য সামনে আসে কি না, এখন সেদিকেই নজর। একই সঙ্গে তদন্তে যদি কোনও অনিয়মের প্রমাণ মেলে, তারও নিরপেক্ষভাবে অনুসন্ধান করা জরুরি।

.png)