কর্তারপুর করিডর এখনই খুলছে না, নিরাপত্তার কারণ দেখিয়ে সিদ্ধান্তে অনড় কেন্দ্র
শিখ সংগঠনগুলির দ্রুত করিডর খোলার দাবি, কিন্তু বর্তমান নিরাপত্তা পরিস্থিতিতে আপাতত পরিষেবা স্থগিত রাখছে সরকার
নিউজ ইন্ডিয়া ওয়েব ডেস্কঃ কর্তারপুর সাহিব করিডর পুনরায় চালুর দাবি জোরালো হলেও আপাতত তা খোলার কোনও সিদ্ধান্ত নেয়নি কেন্দ্রীয় সরকার। বর্তমান নিরাপত্তা পরিস্থিতির কথা উল্লেখ করে কেন্দ্র জানিয়েছে, পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত শ্রী কর্তারপুর সাহিব করিডরের পরিষেবা স্থগিত থাকবে। ফলে দীর্ঘদিন ধরে পাকিস্তানের কর্তারপুর সাহিবে তীর্থযাত্রার অপেক্ষায় থাকা শিখ ভক্তদের আপাতত আরও অপেক্ষা করতে হচ্ছে।
ভারতের পঞ্জাবের ডেরা বাবা নানককে পাকিস্তানের নারোয়াল জেলার গুরুদ্বার দরবার সাহিব, কর্তারপুরের সঙ্গে যুক্ত করেছে এই করিডর। ২০১৯ সালে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে চুক্তির মাধ্যমে কর্তারপুর করিডর চালু হয়। এর ফলে ভারতীয় শিখ তীর্থযাত্রীরা ভিসা ছাড়াই পাকিস্তানের কর্তারপুর সাহিবে গিয়ে গুরু নানক দেবের স্মৃতিবিজড়িত পবিত্র স্থান দর্শনের সুযোগ পান। ২০২৪ সালের অক্টোবরে দুই দেশের মধ্যে চুক্তিটির মেয়াদ আরও পাঁচ বছরের জন্য বাড়ানো হয়েছিল।
তবে ২০২৫ সালের এপ্রিল মাসে পহেলগাঁওয়ে ভয়াবহ সন্ত্রাসবাদী হামলার পর ভারত-পাকিস্তান সম্পর্কের পরিস্থিতি দ্রুত বদলে যায়। নিরাপত্তাজনিত কারণে ৭ মে ২০২৫ থেকে কর্তারপুর করিডরের পরিষেবা স্থগিত করা হয়। এরপর এক বছরেরও বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও এখনও তীর্থযাত্রীদের জন্য করিডরটি পুনরায় চালু হয়নি।
এই পরিস্থিতিতে করিডর দ্রুত খুলে দেওয়ার দাবি ক্রমশ জোরালো হয়েছে। শিখ ধর্মীয় সংগঠনগুলির অন্যতম প্রধান প্রতিষ্ঠান শিরোমণি গুরুদ্বারা প্রবন্ধক কমিটি বা SGPC-এর পক্ষ থেকেও কেন্দ্রের কাছে আবেদন জানানো হয়েছে। SGPC-এর সভাপতি হরজিন্দর সিং ধামি জানিয়েছেন, কর্তারপুর করিডর শুধু দুই দেশের মধ্যে যাতায়াতের মাধ্যম নয়, বিশ্বের শিখ সম্প্রদায়ের ধর্মীয় আবেগের সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত। তাই নিরাপত্তার বিষয়টি বিবেচনায় রেখেই কীভাবে করিডর পুনরায় চালু করা যায়, সেই বিষয়ে কেন্দ্রকে উদ্যোগ নেওয়ার আবেদন জানানো হয়েছে।
প্রবাসী শিখ সংগঠনগুলিও একই দাবি তুলেছে। North American Punjabi Association বা NAPA-এর পক্ষ থেকে আধুনিক নজরদারি প্রযুক্তি, কঠোর যাচাইকরণ এবং নিরাপত্তা সংস্থাগুলির মধ্যে সমন্বয়ের মাধ্যমে করিডর চালুর প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। তাদের বক্তব্য, জাতীয় নিরাপত্তার বিষয়টি অগ্রাধিকার দিয়েও শিখ সম্প্রদায়ের ধর্মীয় অনুভূতির প্রতি সম্মান দেখিয়ে একটি নিরাপদ ব্যবস্থা তৈরি করা সম্ভব।
তবে কেন্দ্রীয় সরকারের অবস্থান আপাতত বদলায়নি। লোকসভায় বিদেশ মন্ত্রকের প্রতিমন্ত্রী কীর্তি বর্ধন সিং জানিয়েছেন, করিডর দ্রুত পুনরায় চালুর জন্য শিখ ধর্মীয় সংগঠন ও বিভিন্ন মহল থেকে আবেদন এসেছে। কিন্তু বর্তমান নিরাপত্তা পরিস্থিতির কারণে পরিষেবা স্থগিত রাখার সিদ্ধান্তই বহাল রয়েছে।
কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের সরকারি কর্তারপুর পোর্টালেও একই অবস্থানের কথা জানানো হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, বিদ্যমান নিরাপত্তা পরিস্থিতির কারণে শ্রী কর্তারপুর সাহিব করিডরের পরিষেবা পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত স্থগিত রয়েছে।
ফলে আপাতত করিডর খোলার কোনও নির্দিষ্ট তারিখ ঘোষণা হয়নি। একদিকে সীমান্ত নিরাপত্তা ও ভারত-পাকিস্তান সম্পর্কের বাস্তবতা, অন্যদিকে শিখ সম্প্রদায়ের দীর্ঘদিনের ধর্মীয় দাবি, এই দুইয়ের মধ্যে ভারসাম্য রেখেই পরবর্তী সিদ্ধান্ত নিতে হবে কেন্দ্রকে। এখন নজর থাকবে নিরাপত্তা পরিস্থিতির পরিবর্তন এবং করিডর পুনরায় চালু করা নিয়ে সরকারের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে।

