শিলিগুড়িতে অমিত শাহ, সীমান্ত নিরাপত্তায় বড় জোর—SSB পরিকাঠামো প্রকল্পের সূচনা
শিলিগুড়িতে অমিত শাহের ব্যস্ত কর্মসূচি, সীমান্ত নিরাপত্তা থেকে নতুন ফৌজদারি আইন—নজরে একাধিক বিষয়
পশ্চিমবঙ্গ সফরের তৃতীয় দিনে শুক্রবার শিলিগুড়িতে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচিতে অংশ নিলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। সফরের অন্যতম প্রধান বিষয় ছিল সীমান্ত নিরাপত্তা, সশস্ত্র সীমা বল (SSB)-এর পরিকাঠামো শক্তিশালী করা এবং দেশের নতুন ফৌজদারি আইন সম্পর্কে জনসচেতনতা তৈরি। কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ শিলিগুড়িতে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর একাধিক কর্মসূচিকে ঘিরে নিরাপত্তা ও প্রশাসনিক মহলে বিশেষ গুরুত্ব দেখা গিয়েছে।
শুক্রবার সকালে শিলিগুড়ির SSB Frontier Headquarters-এ পৌঁছন অমিত শাহ। সেখানে তিনি বাহিনীর বিভিন্ন পরিকাঠামো প্রকল্পের উদ্বোধন ও ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। SSB জওয়ানদের সঙ্গে তাঁর সরাসরি মতবিনিময় এবং ‘Bara Khana’-য় অংশ নেওয়ার কর্মসূচিও ছিল। সীমান্তরক্ষী বাহিনীর পরিকাঠামো উন্নয়ন এবং জওয়ানদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগের মাধ্যমে সীমান্ত নিরাপত্তাকে আরও শক্তিশালী করার বার্তাই সামনে এসেছে।
শিলিগুড়ির গুরুত্ব অবশ্য শুধু প্রশাসনিক বা আঞ্চলিক নয়। শহরটি নেপাল, ভুটান ও বাংলাদেশের সীমান্তের কাছাকাছি এবং এখানেই রয়েছে দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সঙ্গে মূল ভূখণ্ডের যোগাযোগের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ Siliguri Corridor, যা ‘Chicken’s Neck’ নামেও পরিচিত। ফলে এই অঞ্চলের নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে জাতীয় নিরাপত্তার বৃহত্তর কাঠামোর অংশ হিসেবেই দেখা হয়।
সীমান্ত নিরাপত্তার পাশাপাশি অমিত শাহের কর্মসূচিতে জায়গা পেয়েছে দেশের নতুন তিন ফৌজদারি আইন—Bharatiya Nyaya Sanhita (BNS), Bharatiya Nagarik Suraksha Sanhita (BNSS) এবং Bharatiya Sakshya Adhiniyam (BSA)। কাঠামোগতভাবে এই তিন আইন যথাক্রমে Indian Penal Code, Code of Criminal Procedure এবং Indian Evidence Act-এর জায়গা নিয়েছে এবং ১ জুলাই ২০২৪ থেকে কার্যকর হয়েছে। শিলিগুড়ির Kawakhali Ground-এ নতুন আইনগুলির উপর একটি সচেতনতা প্রদর্শনীতেও অংশ নেওয়ার কর্মসূচি রয়েছে।
এদিন সীমান্তে fencing নিয়েও গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য করেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। অমিত শাহের দাবি, পশ্চিমবঙ্গে BSF ও SSB-এর সীমান্ত নিরাপত্তা সংক্রান্ত পরিকাঠামোর জন্য ১,১২৯ একর জমি দেওয়া হয়েছে। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, নতুন রাজ্য সরকার ক্ষমতায় আসার পর দ্রুত জমি হস্তান্তর হয়েছে এবং সীমান্তে fencing সম্পূর্ণ করার ক্ষেত্রে এখন মাত্র ২৯ একর জমি বাকি রয়েছে।
এই দাবির রাজনৈতিক তাৎপর্যও রয়েছে। অমিত শাহ পূর্ববর্তী রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে সীমান্ত fencing-এর প্রয়োজনীয় জমি দিতে দেরি করার অভিযোগ তোলেন এবং বর্তমান সরকারের সহযোগিতার প্রশংসা করেন। তবে ১,১২৯ একর জমি হস্তান্তর ও বাকি জমির পরিমাণকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্য হিসেবে দেখা উচিত; চূড়ান্ত সরকারি পরিসংখ্যান হিসেবে উপস্থাপনের আগে সংশ্লিষ্ট সরকারি নথির সঙ্গে তা মিলিয়ে দেখা প্রয়োজন।
শিলিগুড়ি সফরের পর সীমান্ত নিরাপত্তা নিয়ে আরও উচ্চপর্যায়ের পর্যালোচনা বৈঠকের কর্মসূচি রয়েছে। BSF, SSB, গোয়েন্দা সংস্থা এবং রাজ্য প্রশাসনের মধ্যে সমন্বয় কীভাবে আরও জোরদার করা যায়, তা নিয়েও আলোচনা হওয়ার কথা। বিশেষ করে Siliguri Corridor এবং নেপাল-ভুটান সীমান্ত সংলগ্ন অঞ্চলের নিরাপত্তা ব্যবস্থার দিকে কেন্দ্রের নজর রয়েছে।
সব মিলিয়ে, অমিত শাহের শিলিগুড়ি সফরে সীমান্ত নিরাপত্তা, SSB পরিকাঠামো, fencing এবং নতুন ফৌজদারি আইন—চারটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় সামনে এসেছে। উত্তরবঙ্গের কৌশলগত অবস্থান এবং উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সঙ্গে যোগাযোগের কারণে শিলিগুড়িকে কেন্দ্র করে নিরাপত্তা পরিকাঠামো আগামী দিনে আরও শক্তিশালী করার দিকেই কেন্দ্রের নজর থাকবে বলে মনে করা হচ্ছে।

