সিন্ধু-আয়ুষের জয়, লক্ষ্য সেনের অঘটন! বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপে মিশ্র ফল ভারতের
ঘরের মাঠে বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপে একদিকে সিন্ধু-আয়ুষের জয়, অন্যদিকে লক্ষ্য সেনের বিদায়
নয়াদিল্লিতে চলতি BWF World Championships 2026-এ ভারতীয় ব্যাডমিন্টনে একই দিনে ধরা পড়ল সাফল্য ও হতাশার ছবি। দুইবারের অলিম্পিক পদকজয়ী পিভি সিন্ধু (PV Sindhu) এবং তরুণ শাটলার আয়ুষ শেট্টি (Ayush Shetty) দ্বিতীয় রাউন্ডের বাধা পেরিয়ে প্রি-কোয়ার্টার ফাইনালে জায়গা করে নিয়েছেন। অন্যদিকে ভারতের তারকা শাটলার লক্ষ্য সেন (Lakshya Sen) দ্বিতীয় রাউন্ডেই বিদায় নিয়েছেন। ফলে ঘরের মাঠে বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপে ভারতের পদকের লড়াইয়ে একদিকে নতুন আশার আলো তৈরি হয়েছে, অন্যদিকে বড় ধাক্কাও এসেছে।
মহিলাদের সিঙ্গলসে নবম বাছাই সিন্ধু কানাডার ঝাং ওয়েন ইউ-কে (Zhang Wen Yu) ২১-১৬, ২১-১৭ ব্যবধানে হারিয়ে শেষ ষোলোয় পৌঁছেছেন। শুরু থেকেই ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজের হাতে রাখেন অভিজ্ঞ ভারতীয় শাটলার। প্রতিপক্ষের পাল্টা লড়াইয়ের মুহূর্তেও সিন্ধু ধৈর্য ধরে র্যালি তৈরি করেন এবং গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে ভুল কম করে ম্যাচটি সরাসরি দুই গেমে শেষ করেন। এই জয় তাঁকে ঘরের দর্শকদের সামনে বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপের পরের ধাপে এগিয়ে দিয়েছে।
পুরুষদের সিঙ্গলসে আরও বড় খবর আয়ুষ শেট্টিকে ঘিরে। মাত্র ২১ বছরের এই ভারতীয় শাটলার দ্বিতীয় রাউন্ডে শ্রীলঙ্কার দুমিন্দু আবেবিক্রমাকে মাত্র ২৬ মিনিটে ২১-৮, ২১-১০ ব্যবধানে হারিয়ে প্রি-কোয়ার্টার ফাইনালে উঠেছেন। এর আগে প্রথম রাউন্ডেই তিনি বিশ্বসেরা ও ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন শি ইউকিকে (Shi Yuqi) হারিয়ে বড় অঘটন ঘটিয়েছিলেন। তিন গেমের সেই ম্যাচে আয়ুষ ২১-১৪, ১৩-২১, ২১-১৯ ব্যবধানে জয় পান।
আয়ুষের এই পারফরম্যান্স বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ, কারণ বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপে এটাই তাঁর অভিষেক। প্রথম ম্যাচে বিশ্ব নম্বর এককে হারানোর পর দ্বিতীয় ম্যাচেও কোনও ভুল না করে দাপুটে জয় তুলে নেওয়া তাঁর আত্মবিশ্বাস এবং বড় মঞ্চে মানিয়ে নেওয়ার ক্ষমতার ইঙ্গিত দিচ্ছে। এখন তাঁর সামনে আরও কঠিন পরীক্ষা—প্রি-কোয়ার্টার ফাইনালে প্রতিপক্ষ ইন্দোনেশিয়ার ১১ নম্বর বাছাই আলফি ফারহান (Alfie Farhan)।
অন্যদিকে লক্ষ্য সেনের বিদায় ভারতীয় শিবিরে বড় ধাক্কা। দ্বিতীয় রাউন্ডে আমেরিকার বিশ্ব র্যাঙ্কিংয়ে ৯২ নম্বরে থাকা গ্যারেট টানের (Garret Tan) বিরুদ্ধে প্রথম গেমে ১৯-২১ ব্যবধানে হেরে পিছিয়ে পড়লেও দ্বিতীয় গেমে ২১-১৯ জিতে ম্যাচে ফেরেন লক্ষ্য। কিন্তু সিদ্ধান্তমূলক তৃতীয় গেমে টানের আক্রমণাত্মক খেলা ও বৈচিত্র্যময় শটের সামনে ১৭-২১ ব্যবধানে হার মানেন তিনি। ৭৩ মিনিটের লড়াইয়ের পর লক্ষ্যর এই বিদয়কে টুর্নামেন্টের অন্যতম বড় অঘটন হিসেবে দেখা হচ্ছে।
বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপে ভারতের পদকের আশা অবশ্য এখনও পুরোপুরি শেষ হয়নি। সিন্ধুর সামনে প্রি-কোয়ার্টার ফাইনালে চিনের ওয়াং ঝি-ই (Wang Zhi Yi), আর আয়ুষের সামনে আলফি ফারহান। ঘরের মাঠে ভারতের হয়ে এখন অভিজ্ঞতা ও তারুণ্যের দুই ভিন্ন মুখই সামনে রয়েছে। সিন্ধুর দীর্ঘ আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা এবং আয়ুষের সাম্প্রতিক আত্মবিশ্বাস—দুইয়ের উপরই নজর থাকবে পরবর্তী ম্যাচে।
দিল্লিতে ১৭ বছর পর BWF World Championships ফিরেছে। তাই ভারতীয় খেলোয়াড়দের উপর প্রত্যাশার চাপও যথেষ্ট। সেই পরিস্থিতিতে সিন্ধু ও আয়ুষের জয় যেমন পদকের স্বপ্নকে বাঁচিয়ে রাখছে, তেমনই লক্ষ্য সেনের অকাল বিদায় দেখিয়ে দিল বিশ্ব মঞ্চে সামান্য ভুলেরও কত বড় মূল্য দিতে হয়। এখন ভারতের নজর শেষ ষোলোর লড়াইয়ে—সেখানেই ঠিক হবে এই বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপে ভারতীয় অভিযান কতটা দূর এগোয়।

