East Bengal Final: ২২ বছর পর Durand Cup ফাইনালে ইস্টবেঙ্গল, টাইব্রেকারে SC Delhi-কে ৫-৩ হারাল

NEWS INDIA বাংলা
0

টাইব্রেকারে SC দিল্লিকে হারিয়ে ২২ বছর পর ডুরান্ড ফাইনালে ইস্টবেঙ্গল, সামনে ১৭তম শিরোপার হাতছানি

৯০ মিনিটে গোল নেই, টাইব্রেকারে বাজিমাত! ২২ বছর পর ডুরান্ড কাপের ফাইনালে ইস্টবেঙ্গল 

SC Delhi-কে টাইব্রেকারে হারিয়ে Durand Cup 2026 ফাইনালে East Bengal


২২ বছর পর ডুরান্ড কাপের ফাইনালে ইস্টবেঙ্গল। গোলশূন্য ৯০ মিনিটের পর টাইব্রেকারে SC দিল্লিকে ৫-৩ ব্যবধানে হারিয়ে লাল-হলুদ শিবির এখন ১৭তম শিরোপা জয়ের লক্ষ্যে। বুধবার, ১৯ আগস্ট কলকাতার যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে (VYBK) অনুষ্ঠিত প্রথম সেমিফাইনালে নির্ধারিত সময়ে গোলের দেখা না মিললেও পেনাল্টি শুটআউটে কোনও ভুল করেনি আন্তোনিও লোপেজ হাবাসের দল।

ম্যাচে ইস্টবেঙ্গলের নায়ক হয়ে উঠলেন গোলরক্ষক প্রভসুখন সিং গিল। নির্ধারিত সময়েই তাঁর গুরুত্বপূর্ণ পেনাল্টি সেভ দলকে বড় বিপদ থেকে রক্ষা করে। ৩৩ মিনিটে SC দিল্লি পেনাল্টি পেলে স্পটকিক নিতে আসেন রদ্রিগুইনহো। তাঁর শটের দিক ঠিক বুঝে ডানদিকে ঝাঁপিয়ে বল আটকে দেন গিল। পরবর্তীতেও একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সেভ করে লাল-হলুদের রক্ষণকে ভরসা দেন তিনি।

অন্যদিকে, ম্যাচের ৯০ মিনিটে ইস্টবেঙ্গলের বড় সমস্যা ছিল সুযোগ কাজে লাগাতে না পারা। অধিনায়ক মহম্মদ বাসিম রশিদের ফ্রি-কিক ক্রসবারে লেগে ফিরে আসে। পরে তাঁর আরও একটি দূরপাল্লার শট পোস্টে আঘাত করে। স্ট্রাইকার জেসিন টিকে-র প্রচেষ্টাও গোলপোস্টের কাঠামোয় লাগে। অর্থাৎ একাধিকবার গোলের খুব কাছে পৌঁছেও ম্যাচের স্কোরলাইন বদলাতে পারেনি ইস্টবেঙ্গল।

পরিসংখ্যানেও লাল-হলুদের আক্রমণাত্মক আধিপত্য ছিল। প্রায় ৬০ শতাংশ বলের দখল রেখে মোট ২০টি শট নেয় ইস্টবেঙ্গল। কিন্তু SC দিল্লির গোলরক্ষক নোরা ফার্নান্দেস এবং রক্ষণভাগ বারবার আক্রমণ প্রতিহত করে। দ্বিতীয়ার্ধে হাবাস ক্রিস ইকোনোমিডিস ও লালচুংনুঙ্গাকে নামিয়ে আক্রমণের গতি বাড়ানোর চেষ্টা করেন। তাতেও গোল আসেনি।

ডুরান্ড কাপের নকআউট ম্যাচে ৯০ মিনিটের পর স্কোর সমান থাকলে অতিরিক্ত সময় না খেলে সরাসরি পেনাল্টি শুটআউটে যাওয়ার নিয়ম রয়েছে। ফলে নির্ধারিত সময় গোলশূন্য শেষ হওয়ার পর ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারিত হয় টাইব্রেকারে।

সেখানেই ঠান্ডা মাথায় কাজ করে ইস্টবেঙ্গল। আনোয়ার আলি, রোহিত দানু, লালচুংনুঙ্গা, ক্রিস ইকোনোমিডিস এবং মহম্মদ রশিদ—পাঁচ শুটারই নিজেদের পেনাল্টি সফলভাবে জালে পাঠান। SC দিল্লিও তিনটি পেনাল্টি কাজে লাগালেও ইস্টবেঙ্গলের শতভাগ সাফল্যই শেষ পর্যন্ত পার্থক্য গড়ে দেয়। পঞ্চম ও निर्णায়ক শটে রশিদ গোল করতেই ৫-৩ জয় নিশ্চিত হয়।

এই জয়ের সঙ্গে দীর্ঘ ২২ বছরের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে ডুরান্ড কাপের ফাইনালে পৌঁছল ইস্টবেঙ্গল। শেষবার ২০০৪ সালে মোহনবাগানকে ২-১ গোলে হারিয়ে ট্রফি জিতেছিল লাল-হলুদ। সেটিই ছিল ক্লাবের ১৬তম ডুরান্ড কাপ শিরোপা। এবার ১৭তম ট্রফির সামনে দাঁড়িয়ে হাবাসের দল।

ফাইনালে ইস্টবেঙ্গলের প্রতিপক্ষ নির্ধারিত হবে মোহনবাগান সুপার জায়ান্ট ও নর্থইস্ট ইউনাইটেডের দ্বিতীয় সেমিফাইনালের পর। ফাইনাল অনুষ্ঠিত হবে ২৩ আগস্ট যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে। মোহনবাগান উঠলে বহু প্রতীক্ষিত কলকাতা ডার্বির সম্ভাবনা তৈরি হবে।

তবে ফাইনালের আগে হাবাসের দলের সামনে বড় প্রশ্ন রয়ে যাচ্ছে—এত সুযোগ তৈরি করেও গোলের খাতা খুলতে সমস্যা হচ্ছে কেন? SC দিল্লির বিরুদ্ধে গিলের সেভ এবং টাইব্রেকারে নিখুঁত পারফরম্যান্স ইস্টবেঙ্গলকে ফাইনালে তুলেছে। কিন্তু ১৭তম ডুরান্ড কাপ জিততে হলে ফাইনালে সুযোগ নষ্টের প্রবণতা কমাতেই হবে। আপাতত অবশ্য ২২ বছর পর ফাইনালে ওঠার আনন্দই লাল-হলুদ শিবিরের কাছে সবচেয়ে বড় খবর।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন (0)

#buttons=(Ok, Go it!) #days=(20)

Our website uses cookies to enhance your experience. Check Now
Ok, Go it!