পাকিস্তানকে ৫-৩ গোলে হারিয়ে দ্বিতীয় রাউন্ডে ভারত, জয়ের রাতেও রক্ষণ নিয়ে বড় প্রশ্ন
পাকিস্তানের বিরুদ্ধে দাপুটে জয় ভারতের, ৫-৩ গোলে ম্যাচ জিতেও কেন চিন্তায় হরমনপ্রীতরা?
ভারত-পাকিস্তান দ্বৈরথ মানেই বাড়তি উত্তেজনা। তার উপর বিশ্বকাপের মঞ্চ। বুধবার নেদারল্যান্ডসের আমস্টেলভিনের ওয়াগেনার হকি স্টেডিয়ামে সেই উত্তেজনাই দেখা গেল। শেষ পর্যন্ত পাকিস্তানকে ৫-৩ গোলে হারিয়ে এফআইএইচ পুরুষ হকি বিশ্বকাপের দ্বিতীয় রাউন্ডে জায়গা করে নিল ভারত। একই সঙ্গে এই হারে বিশ্বকাপ অভিযান শেষ হল পাকিস্তানের।
ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক মেজাজে ছিল ভারত। মাত্র পঞ্চম মিনিটে অধিনায়ক হরমনপ্রীত সিং (Harmanpreet Singh) পেনাল্টি কর্নার থেকে গোল করে দলকে এগিয়ে দেন। ১১ মিনিটে অভিষেক (Abhishek) দুর্দান্ত ফিল্ড গোল করে ব্যবধান বাড়ান। প্রথম কোয়ার্টার শেষেই ২-০ এগিয়ে যায় ভারত এবং ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নেয়।
দ্বিতীয় কোয়ার্টারেও ভারত দ্রুত আক্রমণ তৈরি করতে থাকে। ২১ মিনিটে ফের পেনাল্টি কর্নার থেকে গোল করেন হরমনপ্রীত। মাত্র তিন মিনিটের মধ্যে অভিষেকও নিজের দ্বিতীয় গোল করে ভারতকে ৪-০ ব্যবধানে এগিয়ে দেন। সেই সময় ম্যাচ ভারতের নিয়ন্ত্রণে চলে গিয়েছে বলেই মনে হচ্ছিল।
কিন্তু হাল ছাড়েনি পাকিস্তান। ২২ মিনিটে হানান শাহিদ (Hannan Shahid) গোল করে ব্যবধান কমান। ২৪ মিনিটে সুফিয়ান খান (Sufyan Khan) পেনাল্টি কর্নার থেকে গোল করায় স্কোরলাইন হয়ে যায় ৪-২। আচমকাই ম্যাচে ফিরে আসে উত্তেজনা। ভারতীয় আক্রমণ কার্যকর হলেও রক্ষণভাগে বেশ কিছু জায়গায় ফাঁক দেখা দিতে শুরু করে।
তৃতীয় কোয়ার্টারে ভারত ফের গুরুত্বপূর্ণ সময়ে গোল পায়। ৩৪ মিনিটে হার্দিক সিং (Hardik Singh) পেনাল্টি স্ট্রোক থেকে গোল করে ব্যবধান ৫-২ করেন। এই গোল ভারতকে কিছুটা স্বস্তি দিলেও পাকিস্তান ম্যাচ ছাড়েনি। ৪৬ মিনিটে হানান শাহিদ নিজের দ্বিতীয় গোল করে ব্যবধান ৫-৩ করেন। শেষ কয়েক মিনিটে পাকিস্তান চাপ বাড়ালেও ভারত আর গোল হজম করেনি এবং শেষ পর্যন্ত জয় নিশ্চিত করে।
ভারতের জয়ের অন্যতম প্রধান কারিগর ছিলেন হরমনপ্রীত ও অভিষেক। দু’জনেই জোড়া গোল করেন। হরমনপ্রীতের দুই গোলই আসে পেনাল্টি কর্নার থেকে, অভিষেকের দু’টি গোল ছিল ফিল্ড গোল। হার্দিকের পেনাল্টি স্ট্রোকের গোলটিও ম্যাচের গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে ভারতের তিন গোলের ব্যবধান ফিরিয়ে দেয়।
তবে ৫-৩ ব্যবধানে জয় পেলেও ভারতীয় দলের জন্য ম্যাচটি কিছু সতর্কবার্তা রেখে গেল। তিন গোল হজম করা বিশেষ করে নকআউট পর্যায়ের আগে রক্ষণ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। ম্যাচের পর হরমনপ্রীতও দলের ভুল কমানোর প্রয়োজনীয়তার কথা বলেছেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, উচ্চচাপের ম্যাচে এমন ভুলের সুযোগ কম।
অন্যদিকে, আট বছর পর বিশ্বকাপের মূল মঞ্চে ফিরে পাকিস্তান লড়াইয়ের মানসিকতা দেখিয়েছে। চার গোল পিছিয়ে পড়েও তারা ম্যাচে ফেরার চেষ্টা করে। কিন্তু ভারতের তৈরি করা বড় ব্যবধান আর পুরোপুরি মুছে ফেলতে পারেনি। এই পরাজয়ের ফলে তাদের বিশ্বকাপ অভিযান শেষ হয়ে গেল।
ম্যাচের বাইরে দুই দলের খেলোয়াড়দের আচরণও নজর কেড়েছে। ম্যাচের আগে প্রচলিত করমর্দনের পরিবর্তে খেলোয়াড়রা হাই-ফাইভ করেন এবং ম্যাচ শেষে ফের একে অপরের সঙ্গে হাত মেলান। তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতার মধ্যেও এই ক্রীড়াসুলভ আচরণ আলাদা করে নজর কাড়ে।
ভারতের সামনে এখন বিশ্বকাপের পরবর্তী রাউন্ড। পাকিস্তানের বিরুদ্ধে জয় আত্মবিশ্বাস বাড়াবে ঠিকই, কিন্তু পরের ধাপে আরও শক্তিশালী প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে সাফল্য পেতে হলে রক্ষণগত ভুল কমানোই হবে হরমনপ্রীতদের বড় পরীক্ষা।

