হঠাৎ মুখ বেঁকে যাওয়া বা কথা জড়িয়ে যাওয়া? শরীরের এই সংকেতকে সাধারণ ক্লান্তি ভাববেন না
Brain Stroke-এর আগে মুখ বেঁকে যাওয়া, কথা জড়িয়ে যাওয়া, হাত-পা অবশ হওয়া বা হঠাৎ তীব্র মাথাব্যথা দেখা দিতে পারে। TIA ও aneurysm-এর জরুরি লক্ষণ জানুন।
তীব্র মাথাব্যথার সঙ্গে কথা জড়িয়ে যাচ্ছে? শরীরের এক পাশ অবশ লাগছে? এমন উপসর্গকে সাধারণ ক্লান্তি ভেবে ভুল করলেও বিপদ হতে পারে। হঠাৎ মুখ বেঁকে যাওয়া, এক হাত বা পায়ে দুর্বলতা কিংবা অসাড়তা, কথা জড়িয়ে যাওয়া, কথা বুঝতে সমস্যা, দৃষ্টিতে হঠাৎ পরিবর্তন, হাঁটতে গিয়ে ভারসাম্য হারানো অথবা অজানা কারণে প্রচণ্ড মাথাব্যথা ব্রেন স্ট্রোকের গুরুত্বপূর্ণ সতর্ক সংকেত হতে পারে। চিকিৎসা সংক্রান্ত নির্ভরযোগ্য গাইডলাইন অনুযায়ী, এই ধরনের উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত জরুরি চিকিৎসা নেওয়া অত্যন্ত জরুরি।
অনেক সময় এই উপসর্গ কয়েক মিনিট বা কয়েক ঘণ্টার মধ্যে সেরে যেতে পারে। কিন্তু তাতেও নিশ্চিন্ত হওয়ার কারণ নেই। এমন সাময়িক উপসর্গ TIA বা Transient Ischaemic Attack, যাকে সাধারণভাবে ‘মিনি স্ট্রোক’ বলা হয়, তার লক্ষণ হতে পারে। TIA-র ক্ষেত্রে স্ট্রোকের মতোই হঠাৎ মুখ, হাত-পা বা কথাবার্তায় সমস্যা দেখা দিতে পারে এবং পরে তা সাময়িকভাবে চলে যেতে পারে। তাই উপসর্গ সেরে গেলেও চিকিৎসকের মূল্যায়ন জরুরি।
স্ট্রোকের ক্ষেত্রে সহজে মনে রাখার একটি পদ্ধতি হল FAST। ‘F’ অর্থ Face, অর্থাৎ হাসতে বললে মুখের এক পাশ বেঁকে যাচ্ছে কি না। ‘A’ অর্থ Arms, দুই হাত তুলতে বললে একটি হাত নিচে নেমে যাচ্ছে বা দুর্বল লাগছে কি না। ‘S’ অর্থ Speech, কথা জড়িয়ে যাচ্ছে কি না বা সহজ কথা বলতে কিংবা বুঝতে সমস্যা হচ্ছে কি না। আর ‘T’ অর্থ Time, অর্থাৎ এমন কোনও লক্ষণ দেখা দিলে সময় নষ্ট না করে দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছনো।
তবে হঠাৎ মাথাব্যথার ক্ষেত্রেও বিশেষ সতর্ক থাকতে হবে। মস্তিষ্কের রক্তনালিতে Brain Aneurysm তৈরি হলে অনেক সময় কোনও উপসর্গ নাও থাকতে পারে। কিন্তু aneurysm ফেটে গেলে মস্তিষ্কের চারপাশে রক্তক্ষরণ, অর্থাৎ Subarachnoid Haemorrhage, হতে পারে। এর অন্যতম প্রধান লক্ষণ হল আচমকা শুরু হওয়া অত্যন্ত তীব্র মাথাব্যথা, যাকে অনেক সময় ‘Thunderclap Headache’ বলা হয়। এর সঙ্গে ঘাড় শক্ত হয়ে যাওয়া, বমি, আলো সহ্য করতে না পারা, বিভ্রান্তি, অজ্ঞান হয়ে যাওয়া, খিঁচুনি বা কথা জড়িয়ে যাওয়ার মতো উপসর্গও থাকতে পারে।
তবে একটি বিষয় মনে রাখা জরুরি, aneurysm ফেটে যাওয়ার আগে শরীর সবসময় সতর্ক সংকেত দেয় না। তাই প্রচণ্ড ও হঠাৎ মাথাব্যথাকে শুধু ক্লান্তি বা গ্যাসের সমস্যা ভেবে ঘরে বসে থাকা বিপজ্জনক হতে পারে। হঠাৎ এমন মাথাব্যথার সঙ্গে কথা বলায় সমস্যা, শরীরের এক পাশ দুর্বল বা অবশ হওয়া, দৃষ্টির সমস্যা, অজ্ঞান হয়ে যাওয়া বা খিঁচুনি দেখা দিলে দ্রুত জরুরি চিকিৎসা প্রয়োজন।
ঝুঁকি কমাতে উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখা, ধূমপান বন্ধ করা, স্বাস্থ্যকর ওজন বজায় রাখা, নিয়মিত শারীরিক পরিশ্রম করা এবং সুষম খাবার খাওয়ার মতো অভ্যাস গুরুত্বপূর্ণ। উচ্চ রক্তচাপ ও ধূমপান মস্তিষ্কের রক্তনালির বিভিন্ন সমস্যার ঝুঁকির সঙ্গে যুক্ত।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, লক্ষণ সেরে যাওয়ার অপেক্ষা না করে দ্রুত চিকিৎসা নেওয়া। স্ট্রোক বা TIA-র ক্ষেত্রে সময় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। হঠাৎ মুখ বেঁকে যাওয়া, হাত-পা দুর্বল হওয়া, কথা জড়িয়ে যাওয়া বা অস্বাভাবিক তীব্র মাথাব্যথা দেখা দিলে দ্রুত হাসপাতালে যাওয়াই নিরাপদ সিদ্ধান্ত।

