দ্রুত বৃদ্ধির পর সোনার দামে কেন এল পতন? সামনে কী হতে পারে

NEWS INDIA বাংলা
0

 

দুই মাসের উচ্চতা ছুঁয়ে সোনার দামে সামান্য পতন

মুদ্রাস্ফীতির তথ্যের পর মুনাফা তুলে নিলেন বিনিয়োগকারীরা, তবু ভূরাজনৈতিক অনিশ্চয়তায় সোনার চাহিদা অটুট



নয়াদিল্লি, ১৪ আগস্ট: আন্তর্জাতিক বাজারে টানা উত্থানের পর সোনার দামে শুক্রবার কিছুটা সংশোধন দেখা গেল। এর আগে দুই মাসের সর্বোচ্চ স্তরে পৌঁছেছিল হলুদ ধাতু। দ্রুত বৃদ্ধির পর বিনিয়োগকারীদের একাংশ মুনাফা তুলে নেওয়ায় বাজারে চাপ তৈরি হয়েছে। Reuters-এর সাম্প্রতিক বাজার প্রতিবেদনে দেখা যাচ্ছে, বৃহস্পতিবার স্পট গোল্ড ১.২ শতাংশ কমে ৪,৩৫৪.৫৮ ডলার প্রতি আউন্সে নেমেছিল। এর আগে দিনের লেনদেনে দাম ৪,৪৪৯.৩৯ ডলার পর্যন্ত উঠেছিল, যা ৫ জুনের পর সর্বোচ্চ স্তর।

সোনার সাম্প্রতিক উত্থানের অন্যতম বড় কারণ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মুদ্রাস্ফীতির পরিসংখ্যান। জুলাইয়ের Consumer Price Index বা CPI বাজারের প্রত্যাশার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ থাকায় Federal Reserve-এর সেপ্টেম্বরের বৈঠকে সুদের হার বাড়ানোর সম্ভাবনা নিয়ে নতুন করে হিসাব শুরু হয়েছে। জুলাইয়ে মার্কিন ভোক্তা মূল্যস্ফীতি বার্ষিক হিসাবে ৩.৪ শতাংশে পৌঁছেছে, যা জুনের ৩.৫ শতাংশের তুলনায় সামান্য কম। পরবর্তী সময়ে Producer Price Index বা PPI-তেও বড় ধরনের বৃদ্ধি দেখা যায়নি।

এই পরিস্থিতিতে বাজারে সেপ্টেম্বরের বৈঠকে Fed-এর সুদের হার বাড়ানোর সম্ভাবনা কমেছে। CME FedWatch-এর হিসাবে এই সম্ভাবনা প্রায় ৩৫ শতাংশে নেমে এসেছে। সাধারণত সুদের হার কমার সম্ভাবনা বাড়লে সোনার মতো non-yielding asset-এর আকর্ষণ বাড়ে। কারণ সোনা নিজে থেকে সুদ দেয় না। ফলে উচ্চ সুদের পরিবেশে সোনা ধরে রাখার সুযোগ-ব্যয় বেশি হলেও সুদের হার কমার প্রত্যাশায় সেই চাপ কিছুটা কমে যায়।

মার্কিন ডলারের গতিপথও সোনার বাজারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। ডলার দুর্বল হলে আন্তর্জাতিক বাজারে ডলার-নির্ধারিত সোনা অন্যান্য মুদ্রার বিনিয়োগকারীদের কাছে তুলনামূলক সস্তা হয়ে ওঠে। সাম্প্রতিক সময়ে দুর্বল ডলার, মার্কিন অর্থনৈতিক তথ্য এবং প্রযুক্তিগত বাজার-প্রবণতা মিলিয়ে সোনার দামে শক্তিশালী গতি তৈরি হয়েছিল।

তবে এই দ্রুত উত্থানের পর মুনাফা তোলার প্রবণতা তৈরি হওয়াও স্বাভাবিক। Reuters-এর রিপোর্ট অনুযায়ী, এক সপ্তাহে সোনার দাম প্রায় ৯ শতাংশ বেড়েছিল। ফলে ৪,৫০০ ডলারের গুরুত্বপূর্ণ প্রতিরোধ স্তরের কাছে এসে বিনিয়োগকারীদের একাংশ লাভ তুলে নেন। বাজার বিশ্লেষকদের মতে, এই স্তরটি এখন সোনার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ technical resistance।

অন্যদিকে, ভূরাজনৈতিক অনিশ্চয়তাও সোনার চাহিদাকে সমর্থন করছে। মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত, ইরানকে ঘিরে উত্তেজনা এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে অনিশ্চয়তার মতো বিষয়গুলি বিনিয়োগকারীদের নিরাপদ সম্পদের দিকে নজর দিতে বাধ্য করছে। এমন পরিস্থিতিতে সোনা দীর্ঘদিন ধরেই একটি গুরুত্বপূর্ণ safe-haven asset হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলির সোনা কেনার প্রবণতাও দীর্ঘমেয়াদে বাজারকে সমর্থন করছে। বিভিন্ন দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংক বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে বৈচিত্র্য আনতে সোনার অংশ বাড়ানোর দিকে নজর দিচ্ছে। ফলে স্বল্পমেয়াদে দাম ওঠানামা করলেও দীর্ঘমেয়াদে সোনার চাহিদার ভিত্তি এখনও শক্তিশালী বলে মনে করছেন বাজার বিশেষজ্ঞরা।

ভারতীয় বাজারেও আন্তর্জাতিক সোনার দামের ওঠানামার প্রভাব পড়ছে। আন্তর্জাতিক দাম, ডলারের সঙ্গে টাকার বিনিময় হার, আমদানি খরচ এবং দেশীয় চাহিদা মিলিয়ে ভারতে খুচরো সোনার দাম নির্ধারিত হয়। সামনে উৎসবের মরসুম শুরু হওয়ায় দেশীয় বাজারের চাহিদাও নজরে থাকবে।

সব মিলিয়ে সাম্প্রতিক পতনকে এখনই বড় ধরনের trend reversal হিসেবে দেখছেন না বাজার পর্যবেক্ষকরা। বরং দ্রুত উত্থানের পর এটি একটি স্বাভাবিক correction বলেই মনে করা হচ্ছে। আগামী দিনে মার্কিন মুদ্রাস্ফীতির পরবর্তী তথ্য, Federal Reserve-এর সুদের হার সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত, ডলারের গতিপথ এবং ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতিই সোনার দামের পরবর্তী দিক নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন (0)

#buttons=(Ok, Go it!) #days=(20)

Our website uses cookies to enhance your experience. Check Now
Ok, Go it!