রেকর্ড রফতানির পরও বাড়ল ভারতের বাণিজ্য ঘাটতি, ৬ মাসে সর্বোচ্চ ৩১.৯৮ বিলিয়ন ডলার

NEWS INDIA বাংলা
0

 

ভারতের বাণিজ্য ঘাটতি ছয় মাসের সর্বোচ্চ

জুলাইয়ে পণ্য আমদানি-রফতানির ব্যবধান বেড়ে ৩১.৯৮ বিলিয়ন ডলার, তবে রেকর্ড রফতানি বৃদ্ধিতে আশার আলো



ভারতের পণ্য বাণিজ্যে ফের চাপের ছবি। ২০২৬ সালের জুলাইয়ে দেশের merchandise trade deficit বা পণ্য বাণিজ্য ঘাটতি বেড়ে হয়েছে ৩১.৯৮ বিলিয়ন ডলার। গত ছয় মাসের মধ্যে এটিই সর্বোচ্চ ঘাটতি। জুনে ভারতের পণ্য বাণিজ্য ঘাটতি ছিল ৩০.৪৩ বিলিয়ন ডলার। অর্থাৎ এক মাসের ব্যবধানেই ঘাটতি বেড়েছে প্রায় ১.৫৫ বিলিয়ন ডলার।

তবে এই পরিসংখ্যানের মধ্যেই রয়েছে স্বস্তির খবর। জুলাইয়ে ভারতের পণ্য রফতানি (Merchandise Exports) রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছেছে। রফতানি হয়েছে ৪৪.২৪ বিলিয়ন ডলার, যা আগের বছরের জুলাইয়ের তুলনায় উল্লেখযোগ্য বেশি এবং ২০২২ সালের জুলাইয়ের ৩৮.৩৪ বিলিয়ন ডলারের আগের রেকর্ডকেও ছাড়িয়ে গেছে। জুনে রফতানি ছিল ৪০.৪১ বিলিয়ন ডলার।

রফতানির এই শক্তিশালী বৃদ্ধির পিছনে রয়েছে পেট্রোলিয়ামজাত পণ্য, ইলেকট্রনিক্স এবং ইঞ্জিনিয়ারিং পণ্যের চাহিদা। বিশেষ করে ইলেকট্রনিক্স রফতানি ভারতের বাণিজ্য বৃদ্ধির অন্যতম বড় চালিকাশক্তি হয়ে উঠেছে। ফলে বিশ্ববাজারে ভারতীয় পণ্যের প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতা নিয়ে কিছুটা আশার আলো দেখা যাচ্ছে।

কিন্তু সমস্যা তৈরি করেছে আমদানির গতি। জুলাইয়ে ভারতের পণ্য আমদানি বেড়ে ৭৬.২২ বিলিয়ন ডলার হয়েছে। জুনে এই পরিমাণ ছিল ৭০.৮৪ বিলিয়ন ডলার। ইলেকট্রনিক্স পণ্য এবং সোনার আমদানি বৃদ্ধির পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি ও পরিবহণ ব্যয়ের চাপও আমদানি বিলকে বাড়িয়ে দিয়েছে।

জুলাইয়ে ভারতের ইলেকট্রনিক্স আমদানি বছরে প্রায় ৪৪ শতাংশ বেড়ে ১৪.৩৭ বিলিয়ন ডলার হয়েছে। সোনার আমদানিও প্রায় ৫ শতাংশ বেড়ে ৪.১৬ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। অন্যদিকে অপরিশোধিত তেল আমদানির মূল্য ছিল প্রায় ১৮.৩১ বিলিয়ন ডলার। যদিও জুনের তুলনায় তেল আমদানির মূল্য কিছুটা কমেছে, আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের তুলনামূলক উচ্চ দাম ভারতের আমদানি ব্যয়ে চাপ বজায় রেখেছে।

রফতানির বাজারেও ইতিবাচক কিছু পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে। জুলাইয়ে পশ্চিম এশিয়ার দেশগুলিতে ভারতের রফতানি ৮.৬ শতাংশ বেড়ে ৫.৭ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। যুক্তরাষ্ট্র এখনও ভারতের পণ্যের অন্যতম প্রধান বাজার। এপ্রিল থেকে জুলাইয়ের মধ্যে আমেরিকায় ভারতের পণ্য রফতানির পরিমাণ ছিল ৩৩.৪৯ বিলিয়ন ডলার।

তবে আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ থেকেই যাচ্ছে। মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতা, জাহাজ চলাচলে বিঘ্ন, কনটেনার ঘাটতি এবং freight cost বা পরিবহণ ব্যয় বৃদ্ধির কারণে ভারতীয় রফতানিকারকদের উপর চাপ বাড়ছে। বিশেষ করে চাল, বস্ত্র, ওষুধ এবং ইঞ্জিনিয়ারিং পণ্যের ক্ষেত্রে বাড়তি পরিবহণ খরচ রফতানিকারকদের লাভের মার্জিনে প্রভাব ফেলছে।

চলতি অর্থবর্ষের প্রথম চার মাসের হিসাবেও ছবিটা পুরোপুরি স্বস্তিদায়ক নয়। রফতানি বাড়লেও আমদানির গতি তার চেয়ে বেশি হওয়ায় সামগ্রিক merchandise trade deficit-এর উপর চাপ তৈরি হয়েছে। ফলে আগামী মাসগুলিতে আন্তর্জাতিক তেলের দাম, জাহাজ পরিবহণের খরচ, ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং বিশ্ববাজারে ভারতীয় পণ্যের চাহিদা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।

সব মিলিয়ে জুলাইয়ের পরিসংখ্যান ভারতের অর্থনীতির সামনে দুই ধরনের সংকেত দিচ্ছে। একদিকে রেকর্ড রফতানি ভারতীয় শিল্প ও পণ্যের আন্তর্জাতিক চাহিদার শক্তি দেখাচ্ছে। অন্যদিকে দ্রুত বাড়তে থাকা আমদানি এবং ৩১.৯৮ বিলিয়ন ডলারের বাণিজ্য ঘাটতি বৈদেশিক বাণিজ্যের উপর চাপের কথাও স্পষ্ট করছে।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন (0)

#buttons=(Ok, Go it!) #days=(20)

Our website uses cookies to enhance your experience. Check Now
Ok, Go it!