কলকাতা-হাওড়া পুরভোটে বড় সাংগঠনিক সিদ্ধান্ত BJP-র, কলকাতার দায়িত্বে সুকান্ত, হাওড়ায় রাহুল
পুরভোটের আগে কলকাতা-হাওড়ায় BJP-র বড় প্রস্তুতি, দুই পুরনিগমের দায়িত্ব পেলেন সুকান্ত-রাহুল
কলকাতা, ২৬ আগস্ট: কলকাতা ও হাওড়া পুরনিগমের সম্ভাব্য নির্বাচনের প্রস্তুতিতে সাংগঠনিক তৎপরতা বাড়াল পশ্চিমবঙ্গ বিজেপি। দুই পুরনিগমের জন্য পৃথক নির্বাচনী কমিটি গঠন করে দায়িত্ব ভাগ করে দিয়েছে রাজ্য বিজেপি। কলকাতা পুরনিগমের (KMC) নির্বাচনী প্রস্তুতির ইন-চার্জ করা হয়েছে কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী ও দলের প্রাক্তন রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদারকে। অন্যদিকে হাওড়া পুরনিগমের (HMC) দায়িত্ব পেয়েছেন রাজ্যসভার সাংসদ রাহুল সিনহা। ২৫ আগস্ট এই সিদ্ধান্ত ঘোষণা করা হলেও ২৬ আগস্ট তা প্রকাশ্যে আসে। একাধিক প্রতিবেদনেও দুই নেতার নিয়োগের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।
বিজেপির প্রকাশিত সাংগঠনিক কাঠামো অনুযায়ী, কলকাতা পুরভোটের জন্য সুকান্ত মজুমদারের সঙ্গে কো-ইন-চার্জ হিসেবে থাকছেন দলের রাজ্য সহ-সভাপতি অনিন্দ্য বন্দ্যোপাধ্যায়, যিনি রাজু বন্দ্যোপাধ্যায় নামেও পরিচিত। রাজ্যের মন্ত্রী তথা দলের বিধায়ক তাপস রায়কে করা হয়েছে কমিটির কনভেনর। কাশীপুর-বেলগাছিয়ার বিধায়ক রীতেশ তিওয়ারি পেয়েছেন কো-কনভেনরের দায়িত্ব।
হাওড়ার ক্ষেত্রে রাহুল সিনহাকে ইন-চার্জ এবং বালির বিধায়ক সঞ্জয় কুমার সিংহকে কনভেনর করা হয়েছে। তবে প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তিতে হাওড়ার জন্য আলাদা কো-ইন-চার্জ বা কো-কনভেনরের নাম উল্লেখ করা হয়নি। অর্থাৎ দুই পুরনিগমের জন্য বিজেপির সাংগঠনিক কাঠামো এক নয়—কলকাতায় চার সদস্যের টিম এবং হাওড়ায় দু’জনকে নিয়ে দায়িত্ব বণ্টন করা হয়েছে।
এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে পুরভোটের প্রস্তুতিকে আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচনী কাঠামোর মধ্যে নিয়ে এল বঙ্গ বিজেপি। দলের কেন্দ্রীয় পর্যবেক্ষক সুনীল বনসলের নেতৃত্বে রাজ্য দফতরে বৈঠকের পরই এই সাংগঠনিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় বলে প্রতিবেদনগুলিতে উল্লেখ করা হয়েছে। কলকাতা এলাকার বিজেপি বিধায়কদের নিয়েও সংগঠন, প্রচার এবং ভোটের প্রস্তুতি নিয়ে আলোচনা হয়েছে।
কলকাতা পুরসভাকে বিজেপি কেন বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে, তার রাজনৈতিক কারণও রয়েছে। রাজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নগর প্রশাসন কলকাতা পুরসভা। পুরভোটে স্থানীয় সংগঠন, ওয়ার্ডভিত্তিক জনসংযোগ, প্রার্থী বাছাই এবং নাগরিক পরিষেবা সংক্রান্ত ইস্যুগুলি বড় ভূমিকা নিতে পারে। ফলে কেন্দ্রীয় ও রাজ্য স্তরের অভিজ্ঞ নেতাদের সামনে রেখে নির্বাচনী প্রস্তুতি শুরু করেছে বিজেপি।
তবে একটি বিষয় স্পষ্ট—কলকাতা ও হাওড়া পুরনিগম নির্বাচনের চূড়ান্ত ভোটের দিন এখনও সরকারি ভাবে ঘোষণা হয়নি। বিভিন্ন প্রতিবেদনে চলতি বছরের শেষ দিকে ভোট হওয়ার সম্ভাবনার কথা বলা হলেও সেটিকে এখনও নির্দিষ্ট নির্বাচনী সূচি হিসেবে ধরা যায় না। একইভাবে প্রার্থী বাছাই বা চূড়ান্ত প্রচার কৌশল নিয়েও দলের পক্ষ থেকে এখনও পূর্ণাঙ্গ ঘোষণা হয়নি।
এদিকে পুরভোটের আগে ওয়ার্ড পুনর্বিন্যাস বা delimitation-ও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। কিছু প্রতিবেদনে প্রস্তাবিত পুনর্বিন্যাসে কলকাতা পুরসভার ওয়ার্ড সংখ্যা ১৪৪ থেকে ২০৯ এবং হাওড়ার ৫০ থেকে ৬৮ হওয়ার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। তবে এই সংখ্যা ও চূড়ান্ত সীমানা কার্যকর হওয়ার আগে সরকারি বিজ্ঞপ্তিই হবে চূড়ান্ত ভিত্তি।
সব মিলিয়ে, কলকাতা ও হাওড়া—দুই গুরুত্বপূর্ণ নগরাঞ্চলের পুরভোটকে সামনে রেখে বিজেপি যে আগেভাগেই সংগঠন সাজাতে শুরু করেছে, এই সিদ্ধান্ত তারই ইঙ্গিত। এখন নজর থাকবে ওয়ার্ডভিত্তিক সংগঠন, সম্ভাব্য প্রার্থী, স্থানীয় ইস্যু এবং প্রচার কৌশল কীভাবে তৈরি করে গেরুয়া শিবির।


