অগ্নিবীরদের জন্য ২০% সংরক্ষণ, সেপ্টেম্বরে ‘অর্জুন বাহিনী’! বড় ঘোষণা শুভেন্দু সরকারের
অগ্নিবীরদের চাকরিতে বড় সুযোগ, বিপর্যয় মোকাবিলায় সেপ্টেম্বরে শুরু হচ্ছে ‘অর্জুন বাহিনী’
পশ্চিমবঙ্গে অগ্নিবীরদের জন্য বড় ঘোষণা রাজ্য সরকারের। একদিকে বিপর্যয় মোকাবিলায় NDRF-এর ধাঁচে ‘অর্জুন বাহিনী’ তৈরির সিদ্ধান্ত, অন্যদিকে পুলিশ, দমকল, বন দফতর এবং Civil Defence-সহ সংশ্লিষ্ট নিয়োগে প্রাক্তন Agniveer-দের জন্য ২০ শতাংশ সংরক্ষণের ঘোষণা। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানিয়েছেন, সেপ্টেম্বর থেকেই নতুন Disaster Response Force কাজ শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে।
প্রাথমিক পর্যায়ে ‘অর্জুন বাহিনী’-তে ২০০ জন কর্মীকে যুক্ত করা হয়েছে। তবে তাঁরা এখনও Agniveer নন। মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য অনুযায়ী, প্রথম Agniveer ব্যাচের চার বছরের পরিষেবার মেয়াদ শেষ হয়ে তাঁরা রাজ্যে কর্মসংস্থানের জন্য উপলব্ধ হবেন ২০২৭ সালের জানুয়ারি নাগাদ। সেই কারণে বাহিনীকে সেপ্টেম্বরেই চালু করতে Sainik Board-এর মাধ্যমে আপাতত ২০০ জন প্রাক্তন সেনাকর্মীকে নেওয়া হয়েছে।
প্রস্তাবিত বাহিনীটি NDRF-এর আদলে আধুনিক সরঞ্জাম ও দ্রুত উদ্ধারকাজের সক্ষমতা নিয়ে কাজ করবে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০০ জনের মধ্যে ১০০ জনকে কলকাতায়, ৫০ জনকে পাহাড়ি এলাকায় এবং আরও ৫০ জনকে সাগর-কাকদ্বীপ অঞ্চলে মোতায়েন করা হবে। লক্ষ্য হল ভূমিকম্প, বন্যা, ঘূর্ণিঝড়, ভূমিধস বা বড় ধরনের দুর্ঘটনার মতো পরিস্থিতিতে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার ও বিপর্যয় মোকাবিলার কাজ করা।
নতুন বাহিনী তৈরির পেছনে সাম্প্রতিক দুর্ঘটনার অভিজ্ঞতাকেও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। বিশেষ করে তারাতলায় নির্মীয়মাণ একটি গুদামের ছাদ ধসে ১৬ জনের মৃত্যুর ঘটনাকে সামনে রেখে রাজ্য প্রশাসনের তরফে দ্রুত প্রতিক্রিয়াশীল একটি বিশেষ দল তৈরির প্রয়োজনীয়তার কথা বলা হয়েছে। বিভিন্ন বিপর্যয়ে একাধিক সংস্থার মধ্যে সমন্বয় এবং দ্রুত উদ্ধারকাজের প্রয়োজনীয়তাই এই উদ্যোগের অন্যতম কারণ বলে মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন।
অগ্নিবীরদের জন্য ২০ শতাংশ সংরক্ষণের ঘোষণাও একই সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ। Agnipath প্রকল্পে সেনা, নৌসেনা ও বায়ুসেনায় চার বছরের জন্য নিয়োগ করা হয়। নির্দিষ্ট সংখ্যক সদস্যকে পরবর্তী সময়ে নিয়মিত বাহিনীতে রাখার সুযোগ থাকলেও বাকিদের জন্য চার বছর পর বিকল্প কর্মসংস্থানের প্রশ্নটি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। রাজ্য সরকারের নতুন সিদ্ধান্ত সেই অংশের প্রার্থীদের জন্য সরকারি চাকরির একটি সম্ভাব্য পথ তৈরি করতে পারে।
মুখ্যমন্ত্রীর ঘোষণায় পুলিশ, Fire and Emergency Services, Forest Department এবং Civil Defence বা Disaster Management-সংক্রান্ত নিয়োগে ২০ শতাংশ সংরক্ষণের কথা বলা হয়েছে। সামরিক প্রশিক্ষণ, শৃঙ্খলা এবং জরুরি পরিস্থিতিতে কাজের অভিজ্ঞতাকে এই ধরনের পরিষেবায় কাজে লাগানোই এই সিদ্ধান্তের মূল যুক্তি।
তবে ঘোষণার পর এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হবে এর বাস্তব নিয়োগ কাঠামো। কোন কোন পদে ২০ শতাংশ কোটা প্রযোজ্য হবে, কীভাবে recruitment roster-এ তা কার্যকর হবে, বয়স বা নিয়োগ পরীক্ষায় কোনও বিশেষ সুবিধা থাকবে কি না—এসব বিষয়ে বিস্তারিত সরকারি বিজ্ঞপ্তি প্রয়োজন। ফলে ঘোষণা হয়েছে, কিন্তু এর পূর্ণ বাস্তবায়ন পদ্ধতি এখনও স্পষ্ট হওয়ার অপেক্ষায়।
এর পাশাপাশি রাজ্যের স্কুল ও কলেজে NCC প্রশিক্ষণ ফের চালুর পরিকল্পনার কথাও জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। সরকারের বক্তব্য, NCC-এর মাধ্যমে তরুণদের মধ্যে শৃঙ্খলা, নেতৃত্ব এবং দায়িত্ববোধ তৈরি করা সম্ভব। ফলে ‘অর্জুন বাহিনী’, Agniveer সংরক্ষণ এবং NCC—এই তিনটি উদ্যোগকে মিলিয়ে রাজ্য সরকারের লক্ষ্য একদিকে দুর্যোগ মোকাবিলায় প্রশিক্ষিত জনবল তৈরি করা, অন্যদিকে সামরিক প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত তরুণদের জন্য বেসামরিক কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়ানো।
এখন নজর থাকবে সেপ্টেম্বর মাসে ‘অর্জুন বাহিনী’ কতটা কার্যকরভাবে চালু হয় এবং Agniveer-দের জন্য ঘোষিত ২০ শতাংশ সংরক্ষণের বিস্তারিত নিয়ম কবে প্রকাশ করা হয়, তার দিকে।

