দলবদল করা ২০ তৃণমূল সাংসদকে লোকসভার নোটিস, ৭ দিনের মধ্যে জবাব তলব
সুপ্রিম কোর্টে মামলার পরেই বড় পদক্ষেপ, ২০ বিদ্রোহী তৃণমূল সাংসদকে লোকসভার নোটিস
তৃণমূল কংগ্রেস (TMC) ছেড়ে Nationalist Citizens Party of India (NCPI)-তে যোগ দেওয়া ২০ বিদ্রোহী লোকসভা সাংসদকে এবার নোটিস পাঠাল লোকসভা সচিবালয়। দলত্যাগ-বিরোধী আইন (Anti-Defection Law)-এর আওতায় তাঁদের সাংসদ পদ খারিজের দাবিতে তৃণমূলের জাতীয় সাধারণ সম্পাদক তথা লোকসভায় দলের নেতা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের করা আবেদনের ভিত্তিতে এই নোটিস জারি হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সাংসদদের নোটিস পাওয়ার সাত দিনের মধ্যে নিজেদের বক্তব্য বা জবাব জমা দিতে বলা হয়েছে। নোটিসগুলি ২৫ আগস্টের তারিখে জারি হয়েছে বলে একাধিক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
এই পদক্ষেপে তৃণমূলের সঙ্গে দলবদলকারী সাংসদদের নিয়ে চলা সাংসদীয় ও আইনি লড়াই আরও গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ে পৌঁছেছে। ২০২৬ সালের জুনে ওই ২০ সাংসদ তৃণমূল থেকে বেরিয়ে NCPI-তে যোগ দেন এবং লোকসভায় তাঁদের নতুন রাজনৈতিক অবস্থান স্বীকৃতির চেষ্টা করেন। তাঁদের এই পদক্ষেপের বিরোধিতা করে তৃণমূলের পক্ষ থেকে লোকসভার স্পিকারের কাছে অযোগ্য ঘোষণার আবেদন করা হয়। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ১৮ জুনের আবেদনের ভিত্তিতেই বর্তমান নোটিস জারি হয়েছে।
এই আবেদনের পরবর্তী প্রক্রিয়ায় মঙ্গলবার, ২৫ আগস্ট সুপ্রিম কোর্টেও বিষয়টি ওঠে। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় অভিযোগ করেছিলেন, ২০ সাংসদের বিরুদ্ধে দলত্যাগের আবেদন নিয়ে লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা এখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেননি। তাঁর আবেদনের শুনানি করে প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ সংশ্লিষ্ট ২০ সাংসদকে নোটিস দেয়। বেঞ্চে ছিলেন বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী এবং বিচারপতি ভি. মোহনা। তবে আদালত লোকসভার স্পিকারের বিরুদ্ধে সরাসরি নোটিস জারি করেনি।
শুনানির সময় Solicitor General তুষার মেহতা আদালতকে জানান, স্পিকার ইতিমধ্যেই ২০ সাংসদকে নোটিস জারি করেছেন। এরপরই স্পষ্ট হয় যে, সাংসদদের বক্তব্য জানার প্রক্রিয়া শুরু হয়ে গিয়েছে। লোকসভা সচিবালয়ের নোটিসে ১৯৮৫ সালের Members of Lok Sabha (Disqualification on Ground of Defection) Rules-এর Rule 6-এর উল্লেখ রয়েছে। অর্থাৎ, সংশ্লিষ্ট সাংসদদের বক্তব্য নেওয়ার পরই পরবর্তী সাংসদীয় প্রক্রিয়া এগোবে।
তবে নোটিস জারি হওয়াকে সাংসদ পদ খারিজের সিদ্ধান্ত হিসেবে দেখা যাবে না। সাত দিনের মধ্যে সংশ্লিষ্ট সাংসদদের জবাব পাওয়ার পর তাঁদের বক্তব্য এবং তৃণমূলের অভিযোগ বিবেচনা করা হবে। এরপর স্পিকার কী সিদ্ধান্ত নেন, সেটিই হবে পরবর্তী গুরুত্বপূর্ণ ধাপ।
এই মামলার রাজনৈতিক গুরুত্বও যথেষ্ট। ২০ জন সাংসদের দলবদল লোকসভায় তৃণমূলের শক্তি ও রাজনৈতিক সমীকরণে প্রভাব ফেলতে পারে। অন্যদিকে বিদ্রোহী সাংসদরা তাঁদের NCPI-তে যোগদানের সাংবিধানিক ও আইনি অবস্থান কীভাবে ব্যাখ্যা করেন, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে। বিশেষ করে দলত্যাগ-বিরোধী আইনের অধীনে তাঁদের অবস্থান গ্রহণযোগ্য কি না, তা নিয়ে মূল বিতর্ক তৈরি হবে।
এখন নজর থাকবে সাত দিনের সময়সীমার মধ্যে ২০ সাংসদের জবাবের দিকে। সেই জবাব পাওয়ার পর লোকসভার স্পিকার কী পদক্ষেপ করেন এবং একইসঙ্গে সুপ্রিম কোর্টে চলা মামলায় পরবর্তী শুনানিতে কী অবস্থান সামনে আসে, তার উপরই নির্ভর করবে এই রাজনৈতিক-সাংসদীয় লড়াইয়ের পরবর্তী গতি।


