কলকাতার নিউটাউন-এর একটি আবাসনে প্রবীণ মহিলার ফ্ল্যাট বেআইনিভাবে দখল করে রাখার অভিযোগে এক বিজেপি নেতাকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। ধৃতের নাম বরুণ বিশ্বাস। তাঁকে আটক করার সময় এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে এবং বিক্ষোভের ঘটনাও ঘটে।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, অভিযোগকারী প্রবীণ বাসিন্দা অনিতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দাবি, বরুণ বিশ্বাস প্রথমে বৈধ ভাড়াটিয়া হিসেবে ওই ফ্ল্যাটে থাকলেও পরবর্তীকালে ভাড়ার চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও তিনি ফ্ল্যাট খালি করেননি। অভিযোগ, নতুন কোনও বৈধ চুক্তি ছাড়াই দীর্ঘদিন ধরে তিনি সেখানে বসবাস করছিলেন।
অভিযোগকারীর আরও দাবি, ২০১৯ সালের পর থেকে নিয়মিত ভাড়া দেওয়া বন্ধ হয়ে যায়। এর ফলে প্রায় ১৬ লক্ষ টাকার ভাড়া বকেয়া রয়েছে বলে অভিযোগ। পাশাপাশি আবাসনের রক্ষণাবেক্ষণ খরচ এবং পুরসভার করও তাঁকেই বহন করতে হয়েছে বলে দাবি করেছেন তিনি। তবে এই আর্থিক দাবিগুলির সত্যতা এখনও আদালতে প্রমাণিত হয়নি।
জানা গিয়েছে, বিষয়টি নিয়ে অভিযোগকারী প্রথমে স্থানীয় প্রশাসন, আবাসনের পরিচালন সমিতি এবং পুলিশের দ্বারস্থ হন। পরবর্তীতে সমস্যার সমাধান না হওয়ায় আদালতের শরণাপন্ন হন। মামলাটি এখনও বিচারাধীন।
বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় অভিযোগকারী নিজের ফ্ল্যাটে গেলে বচসার সূত্রপাত হয়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে বরুণ বিশ্বাসকে আটক করে। সেই সময় একদল বিক্ষোভকারী ডিম ছোড়েন এবং ধাক্কাধাক্কির ঘটনাও ঘটে বলে অভিযোগ। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়।
পুলিশ জানিয়েছে, অভিযোগের ভিত্তিতে মামলা রুজু করে তদন্ত শুরু হয়েছে। তদন্তে ভাড়ার চুক্তিপত্র, মালিকানার নথি, আদালতের নথি-সহ সমস্ত প্রাসঙ্গিক তথ্য খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্তের ভিত্তিতেই পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত বরুণ বিশ্বাস বা বিজেপির পক্ষ থেকে অভিযোগের বিষয়ে কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। তাদের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা এই প্রতিবেদনে যুক্ত করা হবে।
আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, ভাড়াটিয়া ও বাড়ির মালিকের বিরোধে আদালতের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তই নির্ধারক। তদন্ত ও বিচারিক প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ হওয়ার আগে অভিযোগকে চূড়ান্ত সত্য হিসেবে ধরে নেওয়া উচিত নয়।

