শঙ্কুদেব-স্বর্ণালীর ১১ বছরের প্রেম থেকে বিয়ে, জানুন সম্পর্কের অজানা অধ্যায়

NEWS INDIA বাংলা
0

 

Shankudeb Panda and Swarnali Sarkar wedding ceremony love story

দীর্ঘদিনের জল্পনার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হয়েছেন বিজেপি নেতা, পরিচালক ও রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব শঙ্কুদেব পণ্ডা এবং সাংবাদিক স্বর্ণালী সরকার। ১২ জুলাই গঙ্গাবক্ষে একটি ভাসমান ফ্লোটেলে পরিবারের সদস্য, আত্মীয়স্বজন এবং ঘনিষ্ঠ আমন্ত্রিতদের উপস্থিতিতে তাঁদের বিয়ের অনুষ্ঠান সম্পন্ন হয়। বিয়ের পর থেকেই এই জুটির ব্যক্তিগত জীবন এবং দীর্ঘদিনের সম্পর্ক নিয়ে সাধারণ মানুষের কৌতূহল আরও বেড়েছে।


রাজনীতি এবং সংবাদমাধ্যম—দুটি ভিন্ন পেশার পরিচিত মুখ হওয়া সত্ত্বেও কীভাবে তাঁদের সম্পর্ক এতটা গভীর হল? দীর্ঘ প্রায় এক দশকেরও বেশি সময়ের সেই যাত্রাপথ নিয়েই নানা আলোচনা চলছে।



কীভাবে শুরু হয় পরিচয়?

অনেকের ধারণা, টেলিভিশনের রাজনৈতিক বিতর্ক অনুষ্ঠানে একসঙ্গে অংশগ্রহণ করতে গিয়েই শঙ্কুদেব ও স্বর্ণালীর পরিচয় হয়েছিল।


তবে তাঁদের ঘনিষ্ঠ মহলের দাবি, পরিচয়ের সূত্রপাত তারও আগে। জানা যায়, শঙ্কুদেব যখন ছাত্ররাজনীতির সঙ্গে সক্রিয়ভাবে যুক্ত ছিলেন, সেই সময় থেকেই দুজনের পরিচয়। ধীরে ধীরে সেই পরিচয় বন্ধুত্বে এবং পরে গভীর সম্পর্কে পরিণত হয়।



ভিন্ন ব্যক্তিত্ব, কিন্তু একই পথচলা

ঘনিষ্ঠদের মতে, স্বর্ণালী সরকার বরাবরই সংযত ও শান্ত স্বভাবের। অন্যদিকে শঙ্কুদেব পণ্ডা পরিচিত প্রাণবন্ত এবং মিশুক ব্যক্তিত্ব হিসেবে।


দুজনের স্বভাবের পার্থক্য কখনও তাঁদের সম্পর্কে বাধা হয়ে দাঁড়ায়নি। বরং একে অপরকে বোঝার মানসিকতা এবং পারস্পরিক শ্রদ্ধাই সম্পর্ককে আরও দৃঢ় করেছে বলে পরিচিত মহলের একাংশের দাবি।



সম্পর্কে এসেছিল দূরত্ব

জানা যায়, ২০১৮ সালে শঙ্কুদেব পণ্ডার রাজনৈতিক জীবনে বড় পরিবর্তনের পর তাঁদের সম্পর্কে কিছুটা দূরত্ব তৈরি হয়েছিল।


সে সময় স্বর্ণালী সরকার একটি সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করছিলেন। পেশাগত ব্যস্ততা এবং ব্যক্তিগত পরিস্থিতির কারণে যোগাযোগে কিছুটা ভাটা পড়লেও সেই দূরত্ব দীর্ঘস্থায়ী হয়নি।



নতুন করে শুরু সম্পর্কের

২০১৯ সালের পর থেকে দুজন আবার কাছাকাছি আসেন বলে জানা যায়।


সময়ের সঙ্গে ভুল বোঝাবুঝি কাটিয়ে সম্পর্ক নতুন করে এগোতে শুরু করে। পরিবারের সদস্যদের মধ্যেও বিয়ের বিষয়টি নিয়ে ইতিবাচক আলোচনা শুরু হয়।



আংটি বদল থেকে বিয়ে

ঘনিষ্ঠ সূত্রের দাবি, ২০২২ সালেই পরিবারের উপস্থিতিতে নীরবে তাঁদের আংটি বদল হয়েছিল। যদিও সেই খবর প্রকাশ্যে আসেনি।


পরবর্তীতে কিছু ব্যক্তিগত কারণে বিয়ের পরিকল্পনা পিছিয়ে যায়। শেষ পর্যন্ত চলতি বছর পরিবার ও কাছের মানুষদের উপস্থিতিতে আনুষ্ঠানিকভাবে সাতপাকে বাঁধা পড়েন শঙ্কুদেব ও স্বর্ণালী।



জীবনের কঠিন সময়েও ছিলেন একে অপরের পাশে

জানা যায়, পরবর্তী সময়ে স্বর্ণালী সরকার আইভিএফ পদ্ধতির মাধ্যমে একক মাতৃত্ব গ্রহণের সিদ্ধান্ত নেন। তাঁর জীবনের এই গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ে শঙ্কুদেব পণ্ডা মানসিকভাবে তাঁর পাশে ছিলেন বলে ঘনিষ্ঠ সূত্রের দাবি।


তবে এই বিষয়গুলির অনেকটাই ব্যক্তিগত পরিসরের এবং সংশ্লিষ্টদের তরফে সব তথ্য আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়নি।



কেন আলোচনায় এই বিয়ে?

শঙ্কুদেব পণ্ডা এবং স্বর্ণালী সরকার—দুজনেই নিজ নিজ পেশায় পরিচিত মুখ। একজন রাজনীতি ও জনজীবনের সঙ্গে যুক্ত, অন্যজন দীর্ঘদিন সংবাদমাধ্যমে কাজ করেছেন।


এই দুই ভিন্ন ক্ষেত্রের দুই ব্যক্তিত্বের দীর্ঘ সম্পর্কের পর বিয়ে হওয়ায় স্বাভাবিকভাবেই তা সামাজিক ও রাজনৈতিক মহলে আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে।



এক নজরে শঙ্কুদেব-স্বর্ণালীর সম্পর্ক

বিয়ে: ১২ জুলাই, গঙ্গাবক্ষে একটি ফ্লোটেলে

সম্পর্কের সময়কাল: প্রায় ১১ বছর (বিভিন্ন সূত্র অনুযায়ী)

প্রথম পরিচয়: ছাত্ররাজনীতির সময় থেকেই বলে ঘনিষ্ঠ মহলের দাবি

দূরত্বের সময়: ২০১৮ সালের পর কিছু সময়

পুনর্মিলন: ২০১৯ সালের পর

আংটি বদল: ২০২২ সালে নীরবে হয়েছে বলে বিভিন্ন সূত্রের দাবি


দীর্ঘদিনের বন্ধুত্ব, সম্পর্কের উত্থান-পতন, সাময়িক দূরত্ব এবং শেষ পর্যন্ত বিবাহ—শঙ্কুদেব পণ্ডা ও স্বর্ণালী সরকারের ব্যক্তিগত জীবনের এই অধ্যায় অনেকের কাছেই আগ্রহের বিষয় হয়ে উঠেছে। তবে তাঁদের সম্পর্কের বেশ কিছু তথ্য বিভিন্ন সূত্র ও ঘনিষ্ঠ মহলের বক্তব্যের উপর ভিত্তি করে প্রকাশ্যে এসেছে। ভবিষ্যতে এই বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য সামনে এলে আরও স্পষ্ট তথ্য জানা যেতে পারে।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন (0)

#buttons=(Ok, Go it!) #days=(20)

Our website uses cookies to enhance your experience. Check Now
Ok, Go it!