শারদীয় দুর্গোৎসবের আর বেশি দেরি নেই। ইতিমধ্যেই রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে প্রতিমা তৈরির কাজ জোরকদমে চলছে, কোথাও আবার কাঠামো পুজোও শুরু হয়ে গিয়েছে। এই আবহেই দুর্গাপুজোর সরকারি অনুদান নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। বিভিন্ন মহলে জল্পনা, এবার পুজো কমিটিগুলির জন্য রাজ্য সরকারের আর্থিক সহায়তার পরিমাণ বাড়তে পারে।
তবে এই জল্পনার মধ্যেই একটি বিষয় স্পষ্ট—এখনও পর্যন্ত সরকারিভাবে অনুদানের নতুন অঙ্ক ঘোষণা করা হয়নি। ফলে ১ লক্ষ ২০ হাজার টাকা অনুদানের দাবি নিয়ে যে আলোচনা চলছে, সেটিকে আপাতত সরকারি সিদ্ধান্ত হিসেবে ধরা যাবে না।
দুর্গাপুজোর অনুদান কি সত্যিই বাড়ছে?
বিভিন্ন সূত্রে দাবি করা হচ্ছে, এবার দুর্গাপুজোর জন্য যোগ্য পুজো কমিটিগুলিকে ১ লক্ষ ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত অনুদান দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনায় রয়েছে। তবে এই বিষয়ে এখনও রাজ্য সরকারের তরফে কোনও আনুষ্ঠানিক বিজ্ঞপ্তি বা ঘোষণা প্রকাশ করা হয়নি।
ফলে অনুদান বৃদ্ধির খবরটি আপাতত জল্পনার পর্যায়েই রয়েছে। সরকারিভাবে সিদ্ধান্ত জানানো না হওয়া পর্যন্ত পূর্ববর্তী নীতিই কার্যকর বলে ধরে নেওয়া হচ্ছে।
বড় বাজেটের পুজো কমিটিগুলি কি অনুদান পাবে?
বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী আগেই জানিয়েছিলেন, সরকারি আর্থিক সহায়তা এমন পুজো কমিটিগুলিকেই দেওয়া হবে, যাদের প্রকৃতপক্ষে সরকারি অনুদানের প্রয়োজন রয়েছে।
তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, যেসব বড় পুজো কমিটির নিজস্ব আর্থিক সামর্থ্য রয়েছে বা শক্তিশালী স্পনসরশিপের মাধ্যমে আয়োজন করা হয়, তাদের ক্ষেত্রে সরকারি অর্থ বরাদ্দ না করার নীতি বিবেচনা করা হচ্ছে। ফলে বড় বাজেটের একাধিক ক্লাব এবার অনুদানের তালিকার বাইরে থাকতে পারে বলে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে আলোচনা চলছে।
অনুদান পাওয়ার ক্ষেত্রে কী বদল আসতে পারে?
সরকারের অবস্থান অনুযায়ী, ভবিষ্যতে শুধু আর্থিকভাবে নির্ভরশীল বা ছোট ও মাঝারি পুজো কমিটিগুলিকেই অগ্রাধিকার দেওয়া হতে পারে।
এর ফলে সরকারি অনুদান প্রকৃত প্রয়োজনের জায়গায় পৌঁছবে—এমনটাই প্রশাসনের ভাবনা বলে জানা যাচ্ছে। যদিও যোগ্যতা নির্ধারণের চূড়ান্ত মানদণ্ড এখনও প্রকাশ্যে আসেনি।
দুর্গাপুজোর অনুদান প্রকল্পের ইতিহাস
রাজ্যে দুর্গাপুজো কমিটিগুলিকে সরকারি অনুদান দেওয়ার প্রকল্প চালু হয় ২০১৮ সালে। সে সময় প্রতিটি কমিটিকে ১০ হাজার টাকা করে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়েছিল।
পরবর্তী কয়েক বছরে ধাপে ধাপে অনুদানের পরিমাণ বাড়ানো হয়। সর্বশেষ তৃণমূল কংগ্রেস সরকারের আমলে অনুদানের অঙ্ক ১ লক্ষ ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত পৌঁছায়। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, গত বছর প্রায় ৪৪ থেকে ৪৫ হাজার দুর্গাপুজো কমিটি এই সুবিধা পেয়েছিল।
রাজ্যের উপর কতটা আর্থিক চাপ পড়ে?
বিভিন্ন প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, গত বছর দুর্গাপুজোর অনুদান বাবদ রাজ্য সরকারের কয়েকশো কোটি টাকা ব্যয় হয়েছিল। সেই কারণেই এবার অনুদান বণ্টনের ক্ষেত্রে আরও বাছাই করা নীতি গ্রহণের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা চলছে।
যদিও এই ব্যয়ের নির্দিষ্ট অঙ্ক এবং চলতি বছরের সম্ভাব্য বরাদ্দ সম্পর্কে এখনও সরকারিভাবে কোনও ঘোষণা করা হয়নি।
পুজো কমিটিগুলির জন্য এখন কী গুরুত্বপূর্ণ?
যে সব পুজো কমিটি সরকারি অনুদানের আশা করছে, তাদের এখন রাজ্য সরকারের আনুষ্ঠানিক নির্দেশিকার অপেক্ষায় থাকতে হবে।
অনুদানের পরিমাণ, আবেদন পদ্ধতি, যোগ্যতার শর্ত এবং কোন কমিটিগুলি সুবিধা পাবে—এসব বিষয় সরকারিভাবে জানানো হলে তবেই চূড়ান্ত ছবি স্পষ্ট হবে।
দুর্গাপুজোর অনুদান ১ লক্ষ ২০ হাজার টাকা হতে পারে—এমন জল্পনা রাজ্যজুড়ে ছড়িয়ে পড়লেও, এখনও পর্যন্ত তা সরকারিভাবে নিশ্চিত করা হয়নি। একই সঙ্গে বড় আর্থিক সামর্থ্যসম্পন্ন পুজো কমিটিগুলিকে অনুদানের বাইরে রাখার নীতির কথাও প্রশাসনের তরফে আগে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে।
তাই পুজো কমিটি এবং উদ্যোক্তাদের জন্য সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য তথ্যের উৎস হবে রাজ্য সরকারের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা ও বিজ্ঞপ্তি। নতুন নির্দেশিকা প্রকাশের পরেই অনুদানের অঙ্ক এবং যোগ্যতা সম্পর্কে নিশ্চিতভাবে জানা যাবে।

