Snow Leopard সংরক্ষণে জাপানের সঙ্গে প্রাণী বিনিময়, Darjeeling Zoo-র নতুন উদ্যোগ

NEWS INDIA বাংলা
0

তুষার চিতার জিনগত বৈচিত্র্য বাড়াতে বড় উদ্যোগ, জাপানের চিড়িয়াখানার সঙ্গে প্রাণী বিনিময়ের পরিকল্পনা দার্জিলিংয়ে

দার্জিলিংয়ের তুষার চিতা সংরক্ষণে নতুন ভাবনা, জাপানের সঙ্গে হতে পারে প্রাণী বিনিময়

দার্জিলিং চিড়িয়াখানায় তুষার চিতা সংরক্ষণ ও জাপানের সঙ্গে প্রাণী বিনিময়ের উদ্যোগ


 দার্জিলিংয়ের Padmaja Naidu Himalayan Zoological Park-এ তুষার চিতা (Snow Leopard) সংরক্ষণে এবার আন্তর্জাতিক সহযোগিতার উদ্যোগ। বন্দি অবস্থায় থাকা তুষারচিতাদের জিনগত বৈচিত্র্য (Genetic Diversity) বাড়াতে জাপানের একটি চিড়িয়াখানার সঙ্গে প্রাণী বিনিময়ের পরিকল্পনা করছে পশ্চিমবঙ্গের বন দফতর। তবে এখনও চূড়ান্ত চুক্তি হয়নি। প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক অনুমোদন এবং বিধিবদ্ধ ছাড়পত্র পাওয়ার পরই পরবর্তী পদক্ষেপ করা হবে বলে জানা যাচ্ছে।

বন দফতর সূত্রে জানা গিয়েছে, দার্জিলিংয়ের তোপকেদারার প্রজনন কেন্দ্রে বর্তমানে প্রায় ১৩টি তুষার চিতা রয়েছে। তাদের মধ্যে পাঁচটি পুরুষ এবং আটটি স্ত্রী। এই প্রাণীদের একটি বড় অংশ সিকিম থেকে আসা একই বংশধারার সঙ্গে যুক্ত। ফলে দীর্ঘদিন ধরে ঘনিষ্ঠ বংশের প্রাণীদের মধ্যে প্রজনন চলায় ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জিনগত বৈচিত্র্য কমে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

এই পরিস্থিতির মোকাবিলায় জাপানের Tama Zoo-র সঙ্গে প্রাথমিক আলোচনা শুরু হয়েছে। প্রস্তাবিত পরিকল্পনা অনুযায়ী, জাপান থেকে একটি স্ত্রী তুষার চিতা দার্জিলিংয়ে আনার কথা ভাবা হচ্ছে। বিনিময়ে দার্জিলিংয়ের একটি স্ত্রী তুষার চিতাকে জাপানে পাঠানোর পরিকল্পনাও রয়েছে। তবে কোন প্রাণী বিনিময় করা হবে, তাদের স্বাস্থ্য, বয়স, প্রজনন ইতিহাস এবং জেনেটিক প্রোফাইল কী হবে—এসব বিষয় এখনও আলোচনার পর্যায়ে রয়েছে।

বন্যপ্রাণী সংরক্ষণে এই ধরনের প্রাণী বিনিময়ের লক্ষ্য শুধুমাত্র নতুন একটি প্রাণী সংগ্রহ নয়। মূল উদ্দেশ্য হল captive population-এর gene pool-এ নতুন জিনগত বৈচিত্র্য যোগ করা। দীর্ঘদিন একই বা ঘনিষ্ঠ বংশধারার প্রাণীদের মধ্যে প্রজনন চললে genetic diversity কমে যেতে পারে। এর ফলে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা, শারীরিক সক্ষমতা এবং প্রজননক্ষমতার উপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। তাই পরিকল্পিত breeding programme-এ বিভিন্ন চিড়িয়াখানা ও সংরক্ষণকেন্দ্রের মধ্যে প্রাণী বিনিময় একটি গুরুত্বপূর্ণ ব্যবস্থাপনা পদ্ধতি।

দার্জিলিংয়ের এই চিড়িয়াখানার তুষার চিতা সংরক্ষণ কর্মসূচির অবশ্য দীর্ঘ ইতিহাস রয়েছে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ১৯৮৩ সাল থেকে এখানে তুষার চিতার captive breeding programme চলছে। পরবর্তীতে ২০০৭ সালে Central Zoo Authority তুষার চিতা সংরক্ষণে পার্কটিকে coordinating zoo হিসেবে চিহ্নিত করে। আন্তর্জাতিক studbook-এও এখানকার breeding programme সংক্রান্ত তথ্য নথিভুক্ত রয়েছে।

চিড়িয়াখানার conservation records-এ দীর্ঘদিন ধরেই genetic variability বজায় রাখতে বৈজ্ঞানিক breeding management এবং প্রয়োজন অনুযায়ী animal exchange-এর গুরুত্ব উঠে এসেছে। সেই দিক থেকে জাপানের সঙ্গে প্রস্তাবিত উদ্যোগকে দার্জিলিংয়ের দীর্ঘমেয়াদি conservation strategy-রই একটি আধুনিক সম্প্রসারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

তবে এই মুহূর্তে ‘জাপান থেকে তুষার চিতা আসছে’—এমন চূড়ান্ত ঘোষণা করা ঠিক হবে না। কারণ আন্তর্জাতিকভাবে বন্যপ্রাণী পরিবহণের ক্ষেত্রে একাধিক নিয়ম ও অনুমোদন প্রয়োজন। প্রাণীর স্বাস্থ্য পরীক্ষা, জেনেটিক মূল্যায়ন, পরিবহণের ব্যবস্থা এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমোদন—সবকিছু সম্পন্ন হওয়ার পরেই বিনিময় কার্যকর হতে পারে।

উদ্যোগটি বাস্তবায়িত হলে দার্জিলিংয়ের captive snow leopard population-এর জিনগত স্বাস্থ্য বজায় রাখার ক্ষেত্রে তা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক সংরক্ষণ ব্যবস্থার সঙ্গে রাজ্যের বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ কর্মসূচির সমন্বয় আরও শক্তিশালী হওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন (0)

#buttons=(Ok, Go it!) #days=(20)

Our website uses cookies to enhance your experience. Check Now
Ok, Go it!