ডেঙ্গিতে স্বস্তির বার্তা রাজ্যের, গত বছরের তুলনায় আক্রান্ত প্রায় ৫০% কম: শুভেন্দু
ডেঙ্গি নিয়ে স্বস্তি, বাংলায় গত বছরের তুলনায় আক্রান্ত অর্ধেকের কাছাকাছি কম—নজরে মুর্শিদাবাদ-নদিয়া
বর্ষার মরশুমে ডেঙ্গির (Dengue) প্রকোপ নিয়ে উদ্বেগ থাকলেও পশ্চিমবঙ্গে চলতি বছরের পরিস্থিতি গত বছরের তুলনায় কিছুটা নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বলে দাবি করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। মঙ্গলবার স্বাস্থ্যভবনে ডেঙ্গি পরিস্থিতি নিয়ে পর্যালোচনা বৈঠকের পর মুখ্যমন্ত্রী জানান, গত বছরের একই সময়ের তুলনায় এ বছর ডেঙ্গি আক্রান্তের সংখ্যা প্রায় ৫০ শতাংশ কম। তবে ডেঙ্গির মরশুম এখনও শেষ হয়নি বলে সতর্ক করে অন্তত অক্টোবরের মাঝামাঝি পর্যন্ত নজরদারি চালিয়ে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
মুখ্যমন্ত্রীর দেওয়া হিসাব অনুযায়ী, ২০২৫ সালের এই সময় পর্যন্ত রাজ্যে ডেঙ্গি পজিটিভ (Dengue Positive) রোগীর সংখ্যা ছিল ৭,৬০০-র বেশি। চলতি বছরে এখনও পর্যন্ত সেই সংখ্যা ৪,০০০-এর কিছু বেশি। একই সময়ে বর্তমানে রাজ্যে ১৪৮ জন সক্রিয় আক্রান্ত রয়েছেন বলে জানিয়েছেন তিনি। একটি ডেঙ্গি-জনিত মৃত্যুর কথাও মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন।
তবে আক্রান্তের সংখ্যা কমে যাওয়াকে শুধুমাত্র সরকারি সাফল্য হিসেবে দেখেননি মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্য, সাধারণ মানুষের মধ্যে ডেঙ্গি প্রতিরোধ নিয়ে সচেতনতা বেড়েছে, যার প্রভাব আক্রান্তের সংখ্যায় পড়েছে। পাশাপাশি পরিস্থিতি নিয়ে অযথা আতঙ্ক না ছড়ানোর আবেদন জানালেও স্বাস্থ্য দফতরকে সতর্ক থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
রাজ্যের মধ্যে বর্তমানে মুর্শিদাবাদ ও নদিয়া জেলা প্রশাসনের বিশেষ নজরে রয়েছে। মুখ্যমন্ত্রীর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, মুর্শিদাবাদের নওদা থানা এলাকার আমতলায় ৯টি এবং নদিয়ার চাকদহে ১১টি ডেঙ্গি আক্রান্তের খবর রয়েছে। কলকাতাতেও কয়েকটি ওয়ার্ডে সংক্রমণের খবর মিলেছে। কলকাতা পুরসভার ১৪৪টি ওয়ার্ডের মধ্যে ৬১টি ওয়ার্ডে এখনও কোনও ডেঙ্গি আক্রান্তের খবর নেই বলে জানানো হয়েছে।
ডেঙ্গি মোকাবিলায় পরীক্ষার পরিকাঠামোর দিকেও জোর দেওয়া হয়েছে। স্বাস্থ্য দফতরের কাছে পর্যাপ্ত ডেঙ্গি পরীক্ষার কিট রয়েছে বলে জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। জ্বর হলে তা অবহেলা না করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে জ্বর দু’দিনের বেশি স্থায়ী হলে বা উচ্চমাত্রার জ্বর থাকলে বিনামূল্যে ডেঙ্গি পরীক্ষা করানোর ব্যবস্থা থাকবে বলে জানানো হয়েছে। বাড়ি বাড়ি নজরদারির মাধ্যমে জ্বরের রোগীদের চিহ্নিত করার উপরেও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
মশার প্রজননস্থল ধ্বংস, আক্রান্ত এলাকার পরিচ্ছন্নতা এবং প্রয়োজন অনুযায়ী মশারি বিতরণের মতো পদক্ষেপের কথাও জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে ফগিং (Fogging) নিয়ে বিশেষ সতর্কতা অবলম্বনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। যেখানে একাধিক আক্রান্তের ক্লাস্টার (Cluster) তৈরি হচ্ছে, সেখানেই সীমিতভাবে ফগিং ব্যবহারের কথা বলা হয়েছে। চিকিৎসকদের পরামর্শ ছাড়া অতিরিক্ত ফগিং না করার নির্দেশও রয়েছে।
কলকাতা ও KMDA এলাকার জন্য ৩, ৪ এবং ৫ সেপ্টেম্বর বিশেষ পরিচ্ছন্নতা অভিযান চালানোর কথাও মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন। ডেঙ্গি নিয়ন্ত্রণে স্বাস্থ্য দফতরের পাশাপাশি পুরসভা, প্রশাসন এবং অন্যান্য সংশ্লিষ্ট সংস্থাকে সমন্বিতভাবে কাজ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
তবে সংখ্যার এই পতনকে পরিস্থিতি সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে চলে এসেছে বলে ধরে নেওয়ার সুযোগ নেই। ডেঙ্গির প্রকোপ সাধারণত অগস্ট ও সেপ্টেম্বর মাসে বেশি দেখা যায়। ফলে আগামী কয়েক সপ্তাহের সংক্রমণ পরিস্থিতিই আসল ছবি স্পষ্ট করবে। রাজ্য সরকারের তরফে অন্তত অক্টোবরের মাঝামাঝি পর্যন্ত সতর্কতা বজায় রাখার বার্তা দেওয়া হয়েছে।
সব মিলিয়ে, চলতি বছরে আক্রান্তের সংখ্যা গত বছরের তুলনায় প্রায় অর্ধেক হওয়ায় প্রশাসনের তরফে স্বস্তির বার্তা মিলেছে। কিন্তু ডেঙ্গির মরশুম এখনও চলায় নজরদারি, দ্রুত পরীক্ষা, মশার প্রজননস্থল ধ্বংস এবং আক্রান্ত এলাকায় কার্যকর pest control-ই আগামী দিনের প্রধান চ্যালেঞ্জ।


