Uttar Pradesh Flood: গঙ্গার জল বিপদসীমার ওপরে, Ballia-তে ২০ হাজার ক্ষতিগ্রস্ত

NEWS INDIA বাংলা
0

উত্তরপ্রদেশে বন্যার দাপট, ২০ হাজার মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত! বিপদসীমার ওপরে গঙ্গা, বাড়ছে উদ্বেগ

ভারী বৃষ্টিতে উত্তরপ্রদেশে বাড়ছে বন্যার জল, বলিয়া থেকে বারাণসী—একাধিক জেলায় উদ্বেগ

ভারী বৃষ্টিতে উত্তরপ্রদেশের বন্যা পরিস্থিতি এবং বেড়ে চলা গঙ্গার জলস্তর


 উত্তরপ্রদেশে (Uttar Pradesh) ভারী বৃষ্টি এবং একাধিক নদীর জলস্তর বৃদ্ধির জেরে বন্যা পরিস্থিতি ক্রমশ জটিল হয়ে উঠেছে। রাজ্যের একাধিক জেলায় জল ঢুকে পড়েছে বসতবাড়ি ও নিচু এলাকায়। প্রশাসনের হিসাবে, শুধুমাত্র বলিয়া (Ballia) জেলাতেই প্রায় ২০ হাজার মানুষ বন্যার প্রভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। একই সঙ্গে বারাণসীতে (Varanasi) গঙ্গার জল সতর্কতা-সীমা (Warning Level) পার করায় পরিস্থিতির উপর নজরদারি আরও বাড়ানো হয়েছে।

বলিয়ায় পরিস্থিতি বিশেষভাবে উদ্বেগজনক। জেলা প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, গঙ্গার জলস্তর বিপদসীমার (Danger Mark) প্রায় ১.৬০ মিটার ওপরে উঠে গিয়েছে। গঙ্গার তীরবর্তী ৩৯টি গ্রাম বলিয়া সদর এলাকার অন্তর্ভুক্ত। পাশাপাশি আরও ১৭টি গ্রামেও প্রশাসনের তরফে সতর্কতা জারি রয়েছে। জলস্তর আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় ৪৭টি নৌকা মোতায়েন করা হয়েছে। দুর্গত মানুষের কাছে খাদ্য, ওষুধ এবং রান্না করা খাবার পৌঁছে দেওয়ার কাজও চলছে।

বারাণসীতেও গঙ্গার জলস্তর বৃদ্ধির কারণে একাধিক নিচু এলাকা জলমগ্ন হয়েছে। সেন্ট্রাল ওয়াটার কমিশনের (Central Water Commission) তথ্য অনুযায়ী, সকাল ১০টায় বারাণসীতে গঙ্গার জলস্তর ছিল ৭০.২৮ মিটার। সেখানে সতর্কতা-সীমা ৭০.২৬ মিটার। অর্থাৎ সতর্কতা-সীমা সামান্য অতিক্রম করেছে জলস্তর। তবে বিপদসীমা এখনও ৭১.২৬২ মিটার। সেই সময় জলস্তর প্রতি ঘণ্টায় প্রায় ০.৫ সেন্টিমিটার করে বাড়ছিল।

জল ঢুকে পড়ায় বারাণসীর কয়েকটি এলাকায় নৌকা চলাচল করতে দেখা গিয়েছে। গঙ্গার জল পৌঁছে গিয়েছে ঐতিহ্যবাহী মণিকর্ণিকা ও হরিশচন্দ্র ঘাটেও। ফলে শেষকৃত্যের ব্যবস্থাও ছাদ এবং অপেক্ষাকৃত উঁচু জায়গায় সরিয়ে নিতে হয়েছে। পরিস্থিতির উপর প্রশাসন ও জলসম্পদ দফতরের নজর রয়েছে।

চিত্রকূটেও (Chitrakoot) বন্যা পরিস্থিতি গুরুতর। সেখানে মন্দাকিনী নদীর জলস্তর বিপদসীমার প্রায় চার মিটার ওপরে উঠে গিয়েছে বলে প্রশাসনিক সূত্রে জানা গিয়েছে। রামঘাট-সহ একাধিক এলাকা জলমগ্ন হয়েছে। পরিস্থিতি খারাপ হওয়ায় কিছু মানুষকে নিরাপদ জায়গায় সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। উদ্ধার ও ত্রাণকাজে State Disaster Response Force (SDRF) এবং National Disaster Response Force (NDRF)-এর দল কাজ করছে।

বন্যার পাশাপাশি প্রাণহানির ঘটনাও ঘটেছে। সীতাপুরে টানা বৃষ্টির জেরে মাটির দেওয়াল ভেঙে পড়ে ৩২ বছরের এক ব্যক্তি এবং তাঁর পাঁচ বছরের ভাইঝির মৃত্যু হয়েছে। গাজিপুরে গঙ্গায় স্নান করতে গিয়ে দুই নাবালিকা নিখোঁজ হয়েছে। তাঁদের উদ্ধারে পুলিশ, প্রশাসন এবং স্থানীয় নৌকাচালকদের সহায়তায় তল্লাশি চালানো হচ্ছে।

লখিমপুর খেরিতে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। জল ঢুকে পড়ায় মেলানি-নানপাড়া রেলপথের কিছু অংশেও পরিষেবা ব্যাহত হয়েছে। অন্যদিকে, মির্জাপুরের আহরৌরা জলাধারে জলস্তর দ্রুত বাড়তে থাকায় নিয়ন্ত্রিতভাবে জল ছাড়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাসের মধ্যে আগামী কয়েক দিন উত্তরপ্রদেশে পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে বলে আশঙ্কা রয়েছে। নদীগুলির জলস্তর, বাঁধ ও জলাধারের পরিস্থিতি এবং নিচু এলাকাগুলিতে জল ঢোকার বিষয়টি নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করছে প্রশাসন। দুর্গত এলাকায় উদ্ধার, ত্রাণ ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন (0)

#buttons=(Ok, Go it!) #days=(20)

Our website uses cookies to enhance your experience. Check Now
Ok, Go it!