Meghna Gulzar Career: ব্যর্থতা ও কাজ না পাওয়ার কঠিন সময়ের কথা জানালেন মেঘনা

NEWS INDIA বাংলা
0

পরপর ব্যর্থতা, দীর্ঘদিন কাজও নেই! কেরিয়ারের কঠিন সময় নিয়ে মুখ খুললেন মেঘনা গুলজার

বাবা-মা প্রতিষ্ঠিত, তবু কাজের অভাবে কঠিন সময়! মেঘনার কেরিয়ারের শুরুর গল্প

পরিচালক মেঘনা গুলজার Bollywood career ও কঠিন সময় নিয়ে কথা বলছেন


বলিউডে পরিচালক হিসেবে নিজের আলাদা পরিচয় তৈরি করেছেন মেঘনা গুলজার। ‘তলভার’, ‘রাজি’, ‘ছপাক’ এবং ‘সাম বাহাদুর’-এর মতো ছবির মাধ্যমে বিষয়নির্ভর গল্প বলার নিজস্ব ধরন তৈরি করেছেন তিনি। তবে প্রতিষ্ঠিত পরিবার থেকে আসা সত্ত্বেও তাঁর কেরিয়ারের শুরুটা যে মোটেই সহজ ছিল না, সম্প্রতি সেই কঠিন সময়ের কথা প্রকাশ্যে এনেছেন মেঘনা।

এক সাক্ষাৎকারে নিজের কেরিয়ারের শুরুর দিকের ব্যর্থতা, দীর্ঘদিন কাজ না পাওয়া এবং সেই সময়ের মানসিক চাপ নিয়ে কথা বলেছেন পরিচালক। তাঁর বাবা বিশিষ্ট কবি-গীতিকার ও পরিচালক গুলজার এবং মা বর্ষীয়ান অভিনেত্রী রাখি গুলজার—দু’জনেই মেয়ের পেশাগত সমস্যার সমাধান করতে না পেরে নিজেদের অসহায় মনে করতেন বলে জানিয়েছেন মেঘনা।

চলচ্চিত্রে তাঁর প্রবেশও হয়েছিল পরিবারের সূত্র ধরেই। গুলজারের পরিচালিত ‘হু তু তু’ ছবিতে সহকারী পরিচালক হিসেবে কাজ করেছিলেন তিনি। এরপর ২০০২ সালে ‘ফিলহাল’ দিয়ে পরিচালক হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন। পরবর্তী ছবি ‘জাস্ট ম্যারেড’-ও প্রত্যাশিত সাফল্য পায়নি। পরপর ব্যর্থতার পর তাঁর কেরিয়ারে তৈরি হয় দীর্ঘ বিরতি। কাজের সুযোগ না থাকায় অনিশ্চয়তার মধ্যে সময় কাটাতে হয় তাঁকে।

মেঘনার বক্তব্যে উঠে এসেছে সেই সময়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ বাস্তবতা। বাবা-মা দু’জনেই চলচ্চিত্র জগতের প্রতিষ্ঠিত নাম হলেও তাঁদের পরিচিতি বা যোগাযোগ মেয়ের কেরিয়ারের প্রতিটি সমস্যা দূর করতে পারেনি। বরং পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছিল যে, মেয়েকে কাজ পাইয়ে দিতে না পারার কারণে তাঁর বাবা-মা নিজেদের অসহায় মনে করতেন। অর্থাৎ, চলচ্চিত্রে পারিবারিক পরিচয় দরজা খুলে দিতে পারে, কিন্তু দীর্ঘমেয়াদি সাফল্যের নিশ্চয়তা দেয় না—মেঘনার নিজের অভিজ্ঞতা সেই কথাই সামনে আনে।

পরিস্থিতি বদলাতে শুরু করে ‘তলভার’-এর মাধ্যমে। ২০১৫ সালে মুক্তি পাওয়া ছবিটি সমালোচকদের প্রশংসা অর্জন করে এবং মেঘনার পরিচালনাশৈলীকে নতুন করে প্রতিষ্ঠা করে। বাস্তব ঘটনার অনুপ্রেরণায় তৈরি এই ক্রাইম ড্রামায় জটিল তদন্ত ও মানুষের মনস্তত্ত্বকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছিল।

এরপর ২০১৮ সালের ‘রাজি’ তাঁর কেরিয়ারে আরও বড় মোড় এনে দেয়। আলিয়া ভাট অভিনীত ছবিটি বক্স অফিসে সাফল্যের পাশাপাশি সমালোচকদের প্রশংসাও পায়। এই ছবির জন্য মেঘনা সেরা পরিচালকের ফিল্মফেয়ার পুরস্কারও পান। পরবর্তীতে ‘ছপাক’ এবং ‘সাম বাহাদুর’-এর মতো ছবির মাধ্যমে ভিন্ন বিষয় ও চরিত্র নিয়ে কাজ করেছেন তিনি।

এখন মেঘনার পরবর্তী ছবি ‘দায়রা’ নিয়েও আগ্রহ রয়েছে। ছবিতে করিনা কাপুর খান এবং পৃথ্বীরাজ সুকুমারন অভিনয় করছেন। এটি তদন্তমূলক ক্রাইম থ্রিলার হিসেবে তৈরি হয়েছে এবং ২০২৬ সালে মুক্তির কথা রয়েছে।

মেঘনার কেরিয়ারের গল্প তাই শুধু একজন প্রতিষ্ঠিত পরিচালকের সাফল্যের কাহিনি নয়। ব্যর্থতা, দীর্ঘ অপেক্ষা এবং কাজ না পাওয়ার সময় পেরিয়ে কীভাবে নিজের জায়গা তৈরি করতে হয়, তাঁর অভিজ্ঞতা তারই একটি উদাহরণ। পরিবারের পরিচিতি থাকা সত্ত্বেও কেরিয়ারের কঠিন পর্যায়ে তাঁকেও যে নিজের পথ নিজেকেই তৈরি করতে হয়েছে, সাম্প্রতিক বক্তব্যে সেই বাস্তবতাই ফের সামনে এসেছে।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন (0)

#buttons=(Ok, Go it!) #days=(20)

Our website uses cookies to enhance your experience. Check Now
Ok, Go it!