‘পদ্মাবতীকে কাপুরুষ বলিনি’, বিতর্কের মাঝে মুখ খুলে স্বরা ভাস্কর
‘Padmaavat’-এর জহর দৃশ্য নিয়ে বিতর্ক, নিজের মন্তব্যের ব্যাখ্যা দিলেন স্বরা ভাস্কর
অভিনেত্রী স্বরা ভাস্কর সরাসরি খারিজ করলেন সেই অভিযোগ, যেখানে দাবি করা হচ্ছিল যে তিনি সঞ্জয় লীলা ভন্সালীর ছবি ‘Padmaavat’-এর রানি পদ্মাবতী এবং জহর (Jauhar) করা মহিলাদের ‘কাপুরুষ’ বলেছেন। সাম্প্রতিক এক আলোচনায় তাঁর মন্তব্যের একটি অংশ সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়ার পর নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়। এরপর একটি ভিডিও প্রকাশ করে নিজের বক্তব্যের প্রেক্ষাপট ব্যাখ্যা করেছেন অভিনেত্রী। তাঁর দাবি, বক্তব্যের একটি অংশ ভুলভাবে অনুবাদ ও উপস্থাপন করা হয়েছে।
ঘটনার সূত্রপাত ৩১ অগস্ট দিল্লির India International Centre-এ আয়োজিত ‘Woman, Life, Freedom’ শীর্ষক আলোচনাকে কেন্দ্র করে। সেখানে ২০১৮ সালে ‘Padmaavat’ মুক্তির পর পরিচালক সঞ্জয় লীলা ভন্সালীকে লেখা স্বরা ভাস্করের একটি খোলা চিঠি নিয়ে তাঁকে প্রশ্ন করা হয়। সেই প্রসঙ্গেই অভিনেত্রী ছবিতে জহরের দৃশ্য দেখানোর বিষয়ে নিজের আপত্তির কথা জানান।
স্বরা ভাস্করের বক্তব্য অনুযায়ী, যৌন হিংসার শিকার কোনও নারী যদি এই ধরনের দৃশ্য দেখেন, তাহলে সিনেমায় ঘটনাটির উপস্থাপন তাঁর মনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। তাঁর আপত্তির মূল জায়গা ছিল জহরের মতো একটি ঐতিহাসিক ঘটনার সিনেম্যাটিক উপস্থাপন এবং তার সম্ভাব্য সামাজিক বার্তা।
কিন্তু আলোচনার পর তাঁর বক্তব্যের একটি অংশ সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়ে। এরপর বিভিন্ন পোস্ট ও মন্তব্যে দাবি করা হয়, স্বরা নাকি রানি পদ্মাবতী এবং জহর করা নারীদের ‘কাপুরুষ’ বলেছেন। বিষয়টি নিয়ে সমালোচনাও শুরু হয়।
এর পরেই নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেন অভিনেত্রী। তাঁর দাবি, তিনি কখনও রানি পদ্মাবতী কিংবা জহর করা মহিলাদের ব্যক্তিগত সাহস নিয়ে এমন মন্তব্য করেননি। তাঁর কথার উদ্দেশ্য ছিল অন্য জায়গায়। বিশেষ করে যৌন হিংসার পর কোনও নারী বেঁচে থাকলে তাঁর সেই বেঁচে থাকাকে যেন লজ্জা, দুর্বলতা বা কাপুরুষতার সঙ্গে যুক্ত না করা হয়—এই বক্তব্যই তিনি তুলে ধরতে চেয়েছিলেন বলে জানিয়েছেন।
স্বরা আরও দাবি করেন, তাঁর ইংরেজি বক্তব্যের ভুল অনুবাদ বিতর্ককে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। তাই পুরো ভিডিও এবং বক্তব্যের প্রেক্ষাপট দেখার জন্য তিনি সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের অনুরোধ করেছেন। তাঁর বক্তব্যে ঐতিহাসিক চরিত্রকে অপমান করার কোনও উদ্দেশ্য ছিল না বলেও স্পষ্ট করেছেন অভিনেত্রী।
তবে স্বরার clarification-এর পরেও বিতর্ক পুরোপুরি থামেনি। সোশ্যাল মিডিয়ায় তাঁর বক্তব্য নিয়ে পক্ষে-বিপক্ষে মতামত দেখা যাচ্ছে। রাজনৈতিক মহলেও বিষয়টি নিয়ে প্রতিক্রিয়া এসেছে। রাজ্যসভার সাংসদ প্রিয়াঙ্কা চতুর্বেদীও এই বিতর্কে মন্তব্য করেছেন বলে জানা গিয়েছে।
ফলে ২০১৮ সালে মুক্তির সময় ‘Padmaavat’-এর জহর দৃশ্যকে ঘিরে যে বিতর্ক তৈরি হয়েছিল, সেটিই নতুন করে আলোচনায় ফিরে এসেছে। সেই সময়ও ছবিতে ইতিহাসের উপস্থাপন, রাজপুত সংস্কৃতি এবং জহর প্রদর্শনের যৌক্তিকতা নিয়ে তীব্র মতবিরোধ দেখা গিয়েছিল।
বর্তমান বিতর্কে অবশ্য স্বরা ভাস্করের বক্তব্যের মূল বিষয় হিসেবে উঠে আসছে সিনেমায় যৌন হিংসা এবং তার শিকার নারীদের মানসিক অবস্থার বিষয়টি। তিনি ঐতিহাসিক চরিত্রকে ‘কাপুরুষ’ বলেছেন কি না, সেই অভিযোগ অস্বীকার করে অভিনেত্রী নিজের বক্তব্যের অন্য অর্থ তুলে ধরেছেন।
এখন বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দু তাই শুধু ‘Padmaavat’-এর জহর দৃশ্য নয়, বরং একটি বক্তব্য কীভাবে অনুবাদ, সম্পাদনা বা সোশ্যাল মিডিয়ার প্রচারের মাধ্যমে ভিন্ন অর্থ পেতে পারে, সেই প্রশ্নও। স্বরার ব্যাখ্যার পরেও বিষয়টি নিয়ে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে।


