আউট হয়ে মাঠ ছেড়েও ফের ব্যাট! আম্পায়ারিং বিতর্কে ৭৮ রানে ম্যাচ জেতালেন জসন চার্লস
আউট হয়ে ডাগআউটে ফিরে গিয়েছিলেন চার্লস, তারপরই বদল সিদ্ধান্ত—CPL ম্যাচে তুমুল বিতর্ক
ক্যারিবিয়ান প্রিমিয়ার লিগে (CPL) সেন্ট কিটস অ্যান্ড নেভিস প্যাট্রিয়টস বনাম বার্বাডোজ ট্রাইডেন্টস ম্যাচে আম্পায়ারিংয়ের একটি সিদ্ধান্তকে ঘিরে তুমুল বিতর্ক তৈরি হয়েছে। প্রথমে আউট হয়ে মাঠ ছেড়ে বেরিয়ে যাওয়ার পরও জসন চার্লসকে ফের ব্যাট করার সুযোগ দেওয়া হয়। আর সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে ৪৫ বলে ৭৮ রানের বিধ্বংসী ইনিংস খেলেন তিনি। তাঁর ব্যাটেই শেষ পর্যন্ত ২১৭ রানের বড় লক্ষ্য তাড়া করে জয় তুলে নেয় প্যাট্রিয়টস।
ওয়ার্নার পার্কে প্রথমে ব্যাট করে বার্বাডোজ ট্রাইডেন্টস ২০ ওভারে ৪ উইকেটে ২১৭ রান তোলে। কুইন্টন ডি ককের দুরন্ত ব্যাটিংয়ে তৈরি হয় বড় স্কোর। জবাবে রান তাড়া করতে নেমে প্যাট্রিয়টসের ইনিংসের চতুর্থ ওভারেই ঘটে বিতর্কিত ঘটনা।
র্যামন সিমন্সের করা একটি উঁচু ফুলটস (Full Toss) স্কোয়ার লেগের দিকে তুলে দেন জসন চার্লস। সেখানে শেরফেন রাদারফোর্ড দুর্দান্ত ক্যাচ নিলে মাঠের আম্পায়াররা চার্লসকে আউট ঘোষণা করেন। সিদ্ধান্ত মেনে মাঠ ছেড়ে ডাগআউটে ফিরে যান চার্লস।
কিন্তু এরপরই বদলে যায় ম্যাচের পরিস্থিতি। প্যাট্রিয়টসের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, সিমন্সের বলটি চার্লসের কোমরের উচ্চতার উপরে ছিল। ফলে সেটি নো-বল (No Ball) হওয়া উচিত ছিল। বিষয়টি টেলিভিশন আম্পায়ার কার্ল টাকেটের কাছে যায়। রিপ্লে পরীক্ষা করার পর তিনি মাঠের আগের সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করে নো-বল ঘোষণা করেন। ফলে চার্লসের উইকেট বাতিল হয়ে যায়।
তবে মূল বিতর্ক তৈরি হয় চার্লসকে ফের মাঠে নামানোর সিদ্ধান্তকে ঘিরে। কারণ, নো-বল ঘোষণার আগেই তিনি মাঠ ছেড়ে চলে গিয়েছিলেন। আম্পায়ার ভুল সিদ্ধান্ত বুঝতে পারলে সিদ্ধান্ত সংশোধনের সুযোগ থাকলেও, একজন ব্যাটার মাঠ ছেড়ে চলে যাওয়ার পর তাঁকে কীভাবে পুনরায় ব্যাট করতে ফেরানো যায়, তা নিয়েই প্রশ্ন ওঠে। এই সিদ্ধান্তে অসন্তোষ প্রকাশ করেন বার্বাডোজের অধিনায়ক ক্রিস গ্রিন এবং ক্যাচ নেওয়া রাদারফোর্ড।
এরপর ঘটনাটি আরও নাটকীয় মোড় নেয়। নো-বলের কারণে পাওয়া ফ্রি হিটে ছক্কা হাঁকান চার্লস। সেখান থেকেই শুরু হয় তাঁর বিধ্বংসী ব্যাটিং। ৪৫ বলে ৭৮ রান করে রান তাড়ার ভিত শক্ত করে দেন তিনি। শেষ পর্যন্ত ১৯.১ ওভারে ৪ উইকেট হারিয়ে ২১৭ রান তুলে নেয় সেন্ট কিটস অ্যান্ড নেভিস প্যাট্রিয়টস। ৬ উইকেটে জয় আসে তাদের।
ম্যাচ শেষ হওয়ার পরও আম্পায়ারিং নিয়ে বিতর্ক থামেনি। বার্বাডোজের অধিনায়ক ক্রিস গ্রিন মনে করেন, পরিস্থিতিটি আরও সঠিকভাবে পরিচালনা করা প্রয়োজন ছিল। প্যাট্রিয়টস অধিনায়ক জেসন হোল্ডারও স্বীকার করেন, আম্পায়ারিংয়ের সিদ্ধান্ত নিয়ে বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছিল এবং বিষয়টি আরও পরিষ্কারভাবে সামলানো যেত।
অন্যদিকে, বিতর্কের কেন্দ্রে থাকা জসন চার্লস বিষয়টিকে আম্পায়ারদের সিদ্ধান্ত হিসেবেই দেখেছেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, ম্যাচে এমন বিতর্ক তৈরি হতে পারে এবং সিদ্ধান্ত নেওয়ার দায়িত্ব আম্পায়ারদের।
ফলে চার্লসের ৭৮ রান ও প্যাট্রিয়টসের দুর্দান্ত রানচেজ ছাপিয়ে ম্যাচের সবচেয়ে আলোচিত বিষয় হয়ে উঠেছে আম্পায়ারিংয়ের এই ঘটনা। বিশেষ করে মাঠ ছেড়ে যাওয়া একজন ব্যাটারকে সিদ্ধান্ত বদলের পর ফের ব্যাট করতে দেওয়ার প্রক্রিয়াই এখন ক্রিকেট মহলে সবচেয়ে বেশি প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।


