কলকাতা থেকে জেলা, একদিনে একাধিক ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা নিয়ে চাপ! তৎপর পুলিশ-প্রশাসন
যাদবপুর থেকে মালদহ, ফ্রি স্কুল স্ট্রিট থেকে মুর্শিদাবাদ—একদিনে একাধিক ঘটনায় নজরে আইনশৃঙ্খলা
কলকাতা থেকে জেলার বিভিন্ন প্রান্তে একের পর এক ঘটনা ঘিরে বৃহস্পতিবার, ২০ আগস্ট, পশ্চিমবঙ্গের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র সংগঠনগুলির সংঘর্ষ ও বিক্ষোভ, ফ্রি স্কুল স্ট্রিটের হোটেল অগ্নিকাণ্ডের তদন্ত, মালদহে কিশোর খুন এবং মুর্শিদাবাদে সীমান্ত-সংক্রান্ত অভিযানে তৎপরতা—দিনভর একাধিক ঘটনায় ব্যস্ত থেকেছে পুলিশ ও প্রশাসন।
দিনের শুরুতেই উত্তেজনা ছড়ায় যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়কে কেন্দ্র করে। আগের রাতের বামপন্থী ছাত্র সংগঠন এবং ABVP-র সংঘর্ষের পর বৃহস্পতিবারও দু’পক্ষ পৃথক কর্মসূচি নেয়। যাদবপুর থানার সামনে বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে পুলিশের সঙ্গে ধস্তাধস্তির পরিস্থিতি তৈরি হয়। পুলিশি ব্যারিকেড ভাঙার চেষ্টা হলে পরিস্থিতি সামাল দিতে র্যাফ (RAF) মোতায়েন করা হয়। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের অনুরোধে পুলিশ ক্যাম্পাসে ঢুকে বহিরাগতদের সরানোর চেষ্টা করে। ঘটনায় একাধিক ব্যক্তির আহত হওয়ার খবরও সামনে এসেছে। দুই পক্ষই পরস্পরের বিরুদ্ধে বহিরাগতদের এনে উত্তেজনা তৈরির অভিযোগ তুলেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পুলিশি নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।
এর মধ্যেই কলকাতার ফ্রি স্কুল স্ট্রিটের হোটেল অগ্নিকাণ্ডের তদন্তও গুরুত্বপূর্ণ জায়গা নিয়েছে। ভয়াবহ ওই ঘটনায় ন’জনের মৃত্যু হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। মৃতদের মধ্যে অন্তত পাঁচজন বাংলাদেশি নাগরিক বলে পুলিশ এবং বাংলাদেশের বিদেশ মন্ত্রকের তরফে নিশ্চিত করা হয়েছে। আগুন লাগার কারণের পাশাপাশি হোটেলের অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা (Fire Safety), অনুমোদন এবং জরুরি পরিস্থিতিতে অতিথিদের বের করে আনার ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। তদন্তে হোটেলের লিজ-হোল্ডার আবু জাফরকে গ্রেফতার করেছে কলকাতা পুলিশ। আরও দু’জন কর্মীকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে।
অগ্নিকাণ্ডের পর শহরের অন্যান্য guesthouse ও bar-এর নিরাপত্তা ব্যবস্থাও প্রশাসনের নজরে এসেছে। কোথাও অগ্নিনিরাপত্তা সংক্রান্ত ত্রুটি রয়েছে কি না, জরুরি নির্গমনপথ যথাযথ কি না—সেসব খতিয়ে দেখার প্রয়োজন তৈরি হয়েছে। ফলে একটি নির্দিষ্ট হোটেলের তদন্তের পাশাপাশি কলকাতার বাণিজ্যিক আবাসনগুলির সামগ্রিক নিরাপত্তা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে।
জেলাগুলিতেও পরিস্থিতি কম চাপের নয়। মালদহের কালিয়াচকে ১২ বছরের এক কিশোরকে হত্যার ঘটনায় দু’জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। অভিযোগ, ছাগল চুরির ঘটনা দেখে ফেলার পর বিষয়টি স্থানীয়দের জানিয়ে দেওয়ায় কিশোরটিকে ডেকে নিয়ে হত্যা করা হয়। অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ের পাশাপাশি ঘটনায় আরও কেউ জড়িত কি না, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।
মুর্শিদাবাদের রানিনগরে সীমান্ত এলাকায় অভিযানে সাত বাংলাদেশি নাগরিককে গ্রেফতার করা হয়েছে বলেও পুলিশ সূত্রে খবর। তাঁদের কাছে বৈধ নথি ছিল না বলে অভিযোগ। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তাঁরা কাজের সন্ধানে ভারতে প্রবেশের কথা জানিয়েছেন। তাঁদের সঙ্গে কোনও পাচারচক্র বা অন্য কোনও নেটওয়ার্কের যোগ রয়েছে কি না, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
ফলে বৃহস্পতিবারের ঘটনাপ্রবাহে কলকাতা থেকে জেলা—একাধিক ফ্রন্টে পুলিশের সামনে চ্যালেঞ্জ স্পষ্ট। রাজনৈতিক সংঘর্ষ থেকে অগ্নিনিরাপত্তা, খুনের তদন্ত থেকে সীমান্ত-সংক্রান্ত অভিযান—প্রতিটি ক্ষেত্রেই দ্রুত তদন্ত এবং কার্যকর প্রশাসনিক পদক্ষেপ এখন গুরুত্বপূর্ণ। তবে কোনও ঘটনায় অভিযোগ বা প্রাথমিক তথ্যকে চূড়ান্ত সত্য হিসেবে দেখার আগে তদন্তের ফলাফলের জন্য অপেক্ষা করাই প্রয়োজন।

