পশ্চিমবঙ্গ বার কাউন্সিল নির্বাচনে TMC-র বড় জয়, ২৩টির মধ্যে ১৫ আসন তৃণমূল-সমর্থিতদের
বিধানসভা ভোটের ফলের উল্টো ছবি বার কাউন্সিলে, ১৫ আসনে জয় TMC-সমর্থিত প্রার্থীদের
পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে বিধানসভা নির্বাচনের ফলের সঙ্গে সম্পূর্ণ ভিন্ন ছবি দেখা গেল West Bengal Bar Council নির্বাচনে। ২৩টি নির্বাচিত আসনের মধ্যে ১৫টিতেই জয় পেয়েছেন তৃণমূল কংগ্রেস (TMC)-সমর্থিত প্রার্থীরা। বিজেপি পেয়েছে ৩টি আসন। একই সংখ্যক আসন, অর্থাৎ ৩টি পেয়েছে বামফ্রন্ট। কংগ্রেসের দখলে গিয়েছে ২টি আসন। ফলে রাজ্যের আইনজীবীদের প্রতিনিধিত্বকারী এই গুরুত্বপূর্ণ পেশাদার সংগঠনে তৃণমূল-সমর্থিত শিবিরের প্রভাব যথেষ্ট শক্তিশালী থাকল।
তবে এই নির্বাচনের সময়কাল নিয়ে একটি বিষয় স্পষ্ট করা জরুরি। সম্প্রতি নতুন করে ভোটগ্রহণ হয়নি। বার কাউন্সিলের ভোটগ্রহণ শুরু হয়েছিল ৯ মার্চ ২০২৬, অর্থাৎ পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের কয়েক দিন আগে। ভোটগ্রহণের প্রায় ছয় মাস পর গণনা ও ফল প্রকাশের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে। TV9 Bangla-র প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে গঠিত কমিটির তত্ত্বাবধানে ভোট গণনা শেষ হওয়ার পর মঙ্গলবার ফল প্রকাশ করা হয়।
এই নির্বাচনে মোট ৭৫ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন। তৃণমূল-সমর্থিত শিবির ২৩টি নির্বাচিত আসনেই প্রার্থী দিয়েছিল। বিজেপির প্রার্থী ছিলেন ২২ জন, বামফ্রন্টের ১২ জন এবং ১৮ জন নির্দল প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। নির্বাচিত ২৩টি আসনের মধ্যে পাঁচটি আসন মহিলাদের জন্য সংরক্ষিত ছিল। সেই পাঁচটির মধ্যে চারটিতেই জয় পেয়েছেন তৃণমূল-সমর্থিত প্রার্থীরা। বাকি একটি আসনে জয় পেয়েছে কংগ্রেস।
ফলাফল সামনে আসার পর স্বাভাবিকভাবেই তৃণমূল শিবিরে রাজনৈতিক স্বস্তি তৈরি হয়েছে। বিধানসভা নির্বাচনের পর দলীয় সংগঠন ও রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে নানা প্রশ্নের মধ্যে আইনজীবীদের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিনিধিত্বকারী সংস্থার নির্বাচনে ১৫টি আসনে জয় দলটির জন্য তাৎপর্যপূর্ণ। তবে এই ফলকে সরাসরি রাজ্যের সামগ্রিক রাজনৈতিক জনমতের প্রতিফলন হিসেবে দেখা ঠিক হবে না। কারণ বার কাউন্সিল নির্বাচনের ভোটাররা মূলত আইনজীবী এবং তাঁদের পেশাগত প্রতিনিধিত্বের বিষয়টি এখানে প্রধান।
তৃণমূল-সমর্থিত বিজয়ীদের মধ্যে একাধিক পরিচিত আইনজীবী ও রাজনৈতিকভাবে সক্রিয় ব্যক্তির নাম রয়েছে। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন বার কাউন্সিলের প্রাক্তন চেয়ারম্যান ও বিধায়ক অশোক কুমার দেব এবং বৈশ্বানর চট্টোপাধ্যায়-সহ আরও কয়েকজন। Moneycontrol-এর প্রতিবেদনে তৃণমূলের আইনজীবী সেলের শুভাশিস চক্রবর্তীকেও উল্লেখযোগ্য ব্যবধানে জয়ী প্রার্থীদের অন্যতম হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে।
অন্যদিকে বিজেপি পেয়েছে তিনটি আসন, যা আগের নির্বাচনের আসনসংখ্যার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। কংগ্রেসও তাদের আগের দুটি আসন ধরে রেখেছে। বামফ্রন্টের আসনসংখ্যা অবশ্য চার থেকে কমে তিন হয়েছে। ফলে বিরোধী শিবিরগুলির মধ্যে বড় কোনও পরিবর্তন দেখা না গেলেও তৃণমূল-সমর্থিত প্রার্থীদের ১৫টি আসনে জয় কাউন্সিলে তাঁদের প্রভাব স্পষ্ট করেছে।
এবার নজর নতুন বার কাউন্সিলের গঠন ও পরবর্তী কার্যক্রমের দিকে। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী মহিলা প্রার্থীদের মধ্য থেকে Bar Council of India আরও দু’জন মহিলা সদস্য মনোনীত করবে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। সেই প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে মোট সদস্যসংখ্যা ২৩ থেকে বেড়ে ২৫ হতে পারে।
আইনজীবীদের পেশাগত স্বার্থ, আদালতকেন্দ্রিক প্রশাসনিক বিষয় এবং আইনজগতের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে নতুন কাউন্সিল কী অবস্থান নেয়, এখন সেদিকেই নজর। পাশাপাশি এই নির্বাচনী ফল ভবিষ্যতে রাজ্যের আইনজীবী মহলের সংগঠনগত সমীকরণে কতটা প্রভাব ফেলে, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।

