বিমল এলাচির বিজ্ঞাপনেই আইনি বিপাকে শাহরুখ-অজয়-টাইগার, তিন তারকাকে মহারাষ্ট্র FDA-এর নোটিশ
বিমল এলাচির বিজ্ঞাপন ঘিরে কেন শাহরুখ, অজয় ও টাইগারকে নোটিশ? উঠছে ‘Surrogate Advertising’-এর প্রশ্ন
বিমল এলাচির বিজ্ঞাপনে অভিনয় করে এবার আইনি জটিলতায় শাহরুখ খান, অজয় দেবগন এবং টাইগার শ্রফ। নিষিদ্ধ পান মশলার পরোক্ষ প্রচারের অভিযোগে বলিউডের এই তিন তারকাকে নোটিশ পাঠিয়েছে মহারাষ্ট্র ফুড অ্যান্ড ড্রাগ অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (FDA)। বিজ্ঞাপনে ‘বিমল এলাচি’ পণ্যকে সামনে রাখা হলেও, এর মাধ্যমে তামাক বা পান মশলার ব্র্যান্ডের প্রচার করা হচ্ছে কি না, তা নিয়েই প্রশ্ন তুলেছে প্রশাসন।
সরকারি সূত্রের খবর, তিন অভিনেতার কাছেই শো-কজ নোটিশ পৌঁছেছে। বিজ্ঞাপনে তাঁদের ভূমিকা এবং সংশ্লিষ্টতা নিয়ে ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে, বিতর্কিত বিজ্ঞাপনের প্রচার থেকে নিজেদের সরিয়ে নেওয়ার বিষয়েও প্রশাসনের পক্ষ থেকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে জানা যাচ্ছে। তবে নোটিশের পর শাহরুখ খান, অজয় দেবগন বা টাইগার শ্রফের পক্ষ থেকে কী আইনি বা আনুষ্ঠানিক জবাব দেওয়া হয়েছে, তা এখনও স্পষ্ট নয়।
মহারাষ্ট্রে তামাক, নিকোটিনযুক্ত গুটখা এবং পান মশলার বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরেই কড়া অবস্থান রয়েছে। প্রশাসনের অভিযোগ, ‘বিমল এলাচি’-র মতো একটি বৈধ পণ্যকে সামনে রেখে এমনভাবে বিজ্ঞাপন তৈরি করা হলে সাধারণ দর্শক বা ক্রেতার মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি হতে পারে। বিশেষ করে একই ব্র্যান্ডের সঙ্গে তামাকজাত বা পান মশলা পণ্যের পরিচিতি থাকলে বিজ্ঞাপনটি পরোক্ষ প্রচার বা ‘Surrogate Advertising’-এর আওতায় পড়তে পারে কি না, সেটিই এখন তদন্তের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।
মহারাষ্ট্র FDA-এর অবস্থান, নিষিদ্ধ বা নিয়ন্ত্রিত তামাকজাত পণ্যের সরাসরি বিজ্ঞাপন বন্ধ করার পাশাপাশি পরোক্ষ প্রচারের পথও আটকানো জরুরি। সেই কারণেই বিজ্ঞাপনের ভাষা, উপস্থাপনা, ব্র্যান্ডিং এবং বিজ্ঞাপনে তারকাদের ভূমিকা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। প্রশাসনের মতে, কোনও বৈধ পণ্যের বিজ্ঞাপনের আড়ালে নিষিদ্ধ পণ্যের ব্র্যান্ড-ইমেজকে জনপ্রিয় করার চেষ্টা করা হলে সেটিও জনস্বাস্থ্য ও বিজ্ঞাপন নিয়ন্ত্রণের দৃষ্টিকোণ থেকে গুরুতর বিষয় হতে পারে।
বিমল এলাচির বিজ্ঞাপনে শাহরুখ খান, অজয় দেবগন এবং টাইগার শ্রফের উপস্থিতি নতুন নয়। কিন্তু এবার তাঁদের সেই বিজ্ঞাপনী ভূমিকা নিয়েই প্রশ্ন উঠেছে প্রশাসনের তরফে। ফলে বিষয়টি শুধু বিজ্ঞাপন সংক্রান্ত বিতর্কে সীমাবদ্ধ না থেকে আইনি তদন্তের পর্যায়ে পৌঁছেছে।
তবে নোটিশ জারি হওয়া মানেই তিন অভিনেতা অপরাধ করেছেন, এমনটা বলা যায় না। প্রশাসনের অভিযোগ এবং তাঁদের জবাবের ভিত্তিতেই পরবর্তী পদক্ষেপ নির্ধারিত হবে। বিজ্ঞাপনটির মাধ্যমে সত্যিই নিষিদ্ধ পান মশলার প্রচার করা হয়েছে কি না, সেটিও আইনি প্রক্রিয়ায় নির্ধারিত হওয়ার বিষয়।
এদিকে মহারাষ্ট্রে তামাকজাত পণ্যের বিরুদ্ধে প্রশাসনের অভিযান আরও জোরদার হওয়ায় এই মামলায় পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে নজর রয়েছে। তিন অভিনেতা কী ব্যাখ্যা দেন এবং বিজ্ঞাপন নির্মাতা ও সংশ্লিষ্ট ব্র্যান্ডের বিরুদ্ধে প্রশাসন আরও কোনও ব্যবস্থা নেয় কি না, এখন সেটাই দেখার।

