ভারতের ভোটব্যবস্থাকে উদাহরণ ট্রাম্পের! SAVE America Act নিয়ে ফের কড়া বার্তা, শুরু নতুন বিতর্ক
ভারতের Voter ID-র প্রশংসা ট্রাম্পের, আমেরিকার নির্বাচনী নিয়মে বড় বদলের দাবিতে ফের সরব
আমেরিকার নির্বাচনী ব্যবস্থায় আরও কড়া নিয়ম চালুর দাবিতে ফের সরব মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প (Donald Trump)। এবার সেই প্রচারে ভারতের ভোটব্যবস্থাকে উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরলেন তিনি। ‘Safeguard American Voter Eligibility Act’ বা ‘SAVE America Act’-এর পক্ষে সওয়াল করতে গিয়ে ট্রাম্প ভারতের ভোটার পরিচয়পত্র (Voter ID), বিপুল ভোটার অংশগ্রহণ এবং পোস্টাল ব্যালটের সীমিত ব্যবহারের প্রসঙ্গ টেনেছেন। তাঁর মন্তব্য ঘিরে মার্কিন রাজনীতির পাশাপাশি ভারতেও নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্ক শুরু হয়েছে।
১৭ আগস্টের সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টে ট্রাম্প ভারতের সাম্প্রতিক সাধারণ নির্বাচনের কথা উল্লেখ করেন। তাঁর দাবি, ভারতে বিপুল সংখ্যক মানুষ ভোট দিলেও পোস্টাল ব্যালটের ব্যবহার খুবই কম এবং ভোটারদের পরিচয় যাচাইয়ের ক্ষেত্রে Photo ID ব্যবস্থার প্রচলন রয়েছে। একই সঙ্গে ভারতের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার (Chief Election Commissioner) জ্ঞানেশ কুমারের সঙ্গে সাম্প্রতিক আলোচনার প্রসঙ্গও তোলেন তিনি। ট্রাম্পের বক্তব্য অনুযায়ী, মার্কিন নির্বাচনে বৈধ Photo ID ছাড়াই ভোট দেওয়ার বিষয়টি নিয়ে জ্ঞানেশ কুমার প্রশ্ন তুলেছিলেন।
এই বক্তব্যের পরই ফের সামনে এসেছে SAVE America Act। মার্কিন প্রশাসনের দাবি, প্রস্তাবিত আইন কার্যকর হলে ফেডারেল নির্বাচনে ভোটার হিসেবে নিবন্ধনের সময় নাগরিকত্বের প্রমাণ এবং ভোট দেওয়ার ক্ষেত্রে পরিচয় যাচাই আরও কঠোর হবে। হোয়াইট হাউসের তথ্য অনুযায়ী, আইনে Valid ID, Proof of Citizenship এবং নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় Mail-in Ballot ব্যবহারের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট বিধিনিষেধের প্রস্তাব রয়েছে।
মার্চে ট্রাম্প প্রশাসন Federal elections-এ নাগরিকত্ব যাচাই ও ভোটার যোগ্যতা নিশ্চিত করতে একটি Executive Order-ও জারি করেছিল। ওই নির্দেশে ফেডারেল নির্বাচনের জন্য নাগরিকত্ব যাচাইয়ে সরকারি তথ্যভান্ডার ব্যবহারের কথা বলা হয়। পাশাপাশি Mail-in ও Absentee Ballot ব্যবস্থাকে আরও সুরক্ষিত করার বিষয়েও পদক্ষেপের নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল।
ভারতের প্রসঙ্গ টেনে ট্রাম্প মূলত আমেরিকায় নিজের নির্বাচনী সংস্কারের পক্ষে রাজনৈতিক সমর্থন বাড়ানোর চেষ্টা করছেন। তাঁর প্রশাসনের বক্তব্য, ভোটার পরিচয় যাচাই এবং নাগরিকত্ব নিশ্চিত করা হলে নির্বাচনের নিরাপত্তা ও বিশ্বাসযোগ্যতা আরও শক্তিশালী হবে। হোয়াইট হাউসও দীর্ঘদিন ধরে SAVE America Act পাশের দাবি জানিয়ে আসছে।
তবে ট্রাম্পের এই মন্তব্য ভারতে রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়াও তৈরি করেছে। কংগ্রেস নেতা পবন খেরা ব্যঙ্গাত্মক প্রতিক্রিয়ায় জ্ঞানেশ কুমারকে আমেরিকায় নিয়ে যাওয়ার কথা বলেছেন। ফলে ভারতের নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা এবং ভোটার তালিকা নিয়েও নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্ক শুরু হয়েছে।
অন্যদিকে SAVE America Act এখনও মার্কিন নির্বাচনী ব্যবস্থায় সম্পূর্ণ কার্যকর আইন নয়। ফলে ট্রাম্পের ভারতীয় ভোটব্যবস্থার উদাহরণ তুলে ধরা মূলত তাঁর নির্বাচনী সংস্কারের পক্ষে প্রচারের অংশ। এই প্রস্তাব নিয়ে মার্কিন রাজনীতিতে সমর্থন ও বিরোধিতা দু’টিই রয়েছে।
সব মিলিয়ে, বিশ্বের দুই বৃহৎ গণতন্ত্রের ভোটব্যবস্থার তুলনা টেনে ট্রাম্পের মন্তব্য নতুন বিতর্ক তৈরি করেছে। ভারতের Voter ID ব্যবস্থাকে সামনে রেখে আমেরিকায় কঠোর নির্বাচনী নিয়মের পক্ষে তাঁর সওয়াল আগামী দিনে মার্কিন কংগ্রেসের রাজনৈতিক আলোচনায় কতটা প্রভাব ফেলে, এখন সেদিকেই নজর।

