তারাপীঠে ভয়াবহ হোটেল অগ্নিকাণ্ড, মৃত ৮ পুণ্যার্থী! শেষ শ্রাবণ সোমবারে শোকের ছায়া
পুজো দিতে গিয়ে আর ফেরা হল না, তারাপীঠের হোটেলে ভয়াবহ আগুনে প্রাণ গেল ৮ পুণ্যার্থীর
শ্রাবণ মাসের শেষ সোমবার পুজো দিতে গিয়ে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের শিকার হলেন পুণ্যার্থীরা। সোমবার ভোরে বীরভূমের তারাপীঠ মন্দিরের কাছে একটি বেসরকারি হোটেলে ভয়াবহ আগুনে এখনও পর্যন্ত ৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। ঘটনায় আরও বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে জানা গিয়েছে। প্রাথমিকভাবে মৃতের সংখ্যা ৭ বলা হলেও পরবর্তী আপডেটে সেই সংখ্যা বেড়ে ৮ হয়েছে।
প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, ভোর সাড়ে ৪টা নাগাদ তারাপীঠের পুকুরপাড় এলাকার হোটেল ‘বিদেশিনী’-র নিচের তলায় আগুন লাগে। সেই সময় অধিকাংশ আবাসিক ঘুমিয়ে ছিলেন। মুহূর্তের মধ্যে আগুন ও ঘন ধোঁয়া হোটেলের উপরের তলাগুলিতে ছড়িয়ে পড়ে। ফলে ঘুমন্ত অবস্থায় বহু পুণ্যার্থী আটকে পড়েন। ধোঁয়ায় শ্বাসরোধ এবং আগুনে দগ্ধ হওয়ার জেরে প্রাণহানির ঘটনা ঘটে বলে জানা গিয়েছে।
ঘটনার খবর পেয়েই পুলিশ ও দমকল বাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছয়। শুরু হয় দ্রুত উদ্ধারকাজ। হোটেলের ভিতরে আটকে থাকা আবাসিকদের উদ্ধার করে বাইরে বের করে আনার পাশাপাশি আহতদের রামপুরহাট মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে পাঠানো হয়। দমকলকর্মীরা মই ব্যবহার করে বহু মানুষকে উদ্ধার করেন বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
অগ্নিকাণ্ডের কারণ নিয়ে প্রাথমিক তদন্তে বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিটের (Electrical Short Circuit) সম্ভাবনার কথা উঠে এসেছে। তবে আগুন কীভাবে এত দ্রুত ছড়িয়ে পড়ল এবং হোটেলের অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা যথাযথ ছিল কি না, তা এখনও তদন্তাধীন।
এই দুর্ঘটনার পর হোটেলের Fire Safety ব্যবস্থা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন উঠেছে। পরবর্তী তদন্তে আরও কিছু নিরাপত্তাজনিত ত্রুটির অভিযোগ সামনে এসেছে। একটি প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, হোটেলের জরুরি বহির্গমন পথ বন্ধ ছিল এবং ফায়ার অ্যালার্মও কাজ করছিল না। হোটেল কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও জানা গিয়েছে।
তারাপীঠ পশ্চিমবঙ্গের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ তীর্থস্থান। শ্রাবণের শেষ সোমবার উপলক্ষে সেখানে বিপুল সংখ্যক ভক্ত ও পুণ্যার্থীর সমাগম হয়েছিল। সেই সময়েই এমন মর্মান্তিক অগ্নিকাণ্ডে একাধিক প্রাণহানির ঘটনায় গোটা এলাকায় শোক ও আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি হয়েছে। মৃতদের মধ্যে কয়েকজন ভিন্জেলার বাসিন্দা বলেও বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
ঘটনার পর স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠেছে, তীর্থস্থানগুলির হোটেল ও লজে অগ্নিনিরাপত্তা বিধি কতটা কার্যকরভাবে মানা হচ্ছে। পর্যাপ্ত Fire Alarm, অগ্নিনির্বাপণ যন্ত্র, জরুরি বহির্গমন পথ এবং নিরাপদ বৈদ্যুতিক পরিকাঠামো না থাকলে অগ্নিকাণ্ডের সময় বিপদ আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে। পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের নিজস্ব পরামর্শেও হোটেল ও গেস্ট হাউসে প্রয়োজনীয় অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা রাখার কথা বলা হয়েছে।
এখন তদন্তকারীদের সামনে মূল প্রশ্ন আগুনের প্রকৃত কারণ এবং হোটেলে কোনও গাফিলতি ছিল কি না। ফরেনসিক পরীক্ষা, বৈদ্যুতিক সংযোগ ও অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থার পর্যালোচনার পরই দুর্ঘটনার সম্পূর্ণ কারণ স্পষ্ট হবে। আপাতত তারাপীঠের এই মর্মান্তিক ঘটনায় শোকস্তব্ধ পুণ্যার্থী, স্থানীয় বাসিন্দা এবং মৃতদের পরিবার।

