আশিস বন্দ্যোপাধ্যায়ের মৃত্যু থেকে হালিশহর-শ্যামবাজার, উত্তপ্ত বাংলার রাজনীতি!
একাধিক ঘটনায় ফের সরগরম বাংলা, আশিসের মৃত্যু থেকে মমতার কনভয় ঘিরে উত্তেজনা
পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে ফের উত্তেজনার আবহ। একদিকে প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক, প্রাক্তন মন্ত্রী এবং বিধানসভার প্রাক্তন ডেপুটি স্পিকার আশিস বন্দ্যোপাধ্যায়ের রহস্যমৃত্যু ঘিরে তদন্ত, অন্যদিকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের রাজনৈতিক কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে হালিশহর ও কলকাতার শ্যামবাজারে উত্তেজনা। সব মিলিয়ে বিধানসভা নির্বাচনের পর রাজ্যের রাজনৈতিক সংঘাত নতুন মাত্রা পেয়েছে।
রবিবার সকালে বীরভূমের রামপুরহাটে বাড়ির কাছেই একটি তৃণমূল কার্যালয় থেকে আশিস বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার হয়। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে একটি চিঠি বা সুইসাইড নোট উদ্ধার করেছে বলে একাধিক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। পাঁচবারের বিধায়ক আশিস বন্দ্যোপাধ্যায় ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপির ধ্রুব সাহার কাছে পরাজিত হন। তার পর থেকে তিনি সক্রিয় রাজনীতি থেকে কিছুটা দূরে ছিলেন বলেও রিপোর্টে উঠে এসেছে। মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানতে তদন্ত এবং ময়নাতদন্তের প্রক্রিয়া চলছে।
ঘটনাকে ঘিরে ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক চাপানউতোর শুরু হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানিয়েছেন, আশিস বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপর কোনও ধরনের চাপ, হুমকি বা ব্ল্যাকমেলিং ছিল কি না, তা তদন্ত করে দেখা প্রয়োজন। তৃণমূলের অন্দরের কোনও দুর্নীতিগ্রস্ত অংশ তাঁকে চাপ দিয়েছিল কি না, সেই সম্ভাবনার কথাও তিনি বলেছেন। একইসঙ্গে পরিবারের সঙ্গে কথা বলা এবং ফোনের তথ্য খতিয়ে দেখার প্রয়োজনীয়তার কথাও উঠে এসেছে। তবে এগুলি রাজনৈতিক বক্তব্য এবং তদন্তের চূড়ান্ত ফল এখনও প্রকাশ্যে আসেনি।
অন্যদিকে, আশিস বন্দ্যোপাধ্যায়ের মৃত্যু ঘিরে তৃণমূলের তরফেও নানা প্রশ্ন তোলা হয়েছে। দলের নেতারা ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। ফলে রাজনৈতিক অভিযোগের পাশাপাশি পুলিশের তদন্তেই এখন নজর রয়েছে।
এর মধ্যেই হালিশহরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কনভয়কে ঘিরে উত্তেজনার ঘটনাও রাজনৈতিক পরিবেশকে আরও সরগরম করেছে। সেখানে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কনভয়ের দিকে জুতো ও পাথর ছোড়া এবং ‘চোর চোর’ স্লোগানের অভিযোগ ওঠে। তৃণমূল এই ঘটনাকে পরিকল্পিত হামলা বলে অভিযোগ করলেও বিজেপি সেই অভিযোগ অস্বীকার করেছে এবং ঘটনাটিকে স্থানীয় ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ হিসেবে ব্যাখ্যা করেছে।
এর কয়েকদিনের মধ্যেই কলকাতার শ্যামবাজারেও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপস্থিতিতে ‘চোর চোর’ স্লোগানকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা তৈরি হয়। নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু ও স্বাধীনতা সংগ্রামীদের নিয়ে আয়োজিত তৃণমূলের কর্মসূচির সময় এই স্লোগান ওঠে। পরিস্থিতি সামাল দিতে পুলিশ ও নিরাপত্তারক্ষীদের হস্তক্ষেপ করতে হয়। এই ঘটনাতেও তৃণমূল বিজেপির দিকে অভিযোগের আঙুল তুলেছে।
২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের পর পশ্চিমবঙ্গে ক্ষমতার পালাবদল হয়েছে এবং শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বে বিজেপি সরকার ক্ষমতায় এসেছে। ৯ মে তিনি মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন। ফলে দীর্ঘদিনের তৃণমূল-বিজেপি রাজনৈতিক সংঘাত এখন নতুন প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক সমীকরণের মধ্যে প্রবেশ করেছে।
আশিস বন্দ্যোপাধ্যায়ের মৃত্যু, হালিশহরের উত্তেজনা এবং শ্যামবাজারের বিক্ষোভ, তিনটি ঘটনাই আপাতত রাজনৈতিক বিতর্কের কেন্দ্রে। তবে অভিযোগ-পাল্টা অভিযোগের বাইরে তদন্তের ফলাফল এবং নির্ভরযোগ্য প্রমাণই শেষ পর্যন্ত প্রতিটি ঘটনার প্রকৃত ছবি স্পষ্ট করবে।

