৩৪ লক্ষের বেশি SIR আপিল বিচারাধীন! ভোটার তালিকা নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের কড়া নজর পশ্চিমবঙ্গে
ভোটার তালিকা নিয়ে ফের চর্চায় পশ্চিমবঙ্গ, ৩৪ লক্ষের বেশি SIR আপিল ঘিরে সুপ্রিম কোর্টের নজর
পশ্চিমবঙ্গে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা Special Intensive Revision (SIR) নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্ক ফের তীব্র হয়েছে। ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ পড়া, সেই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল এবং আবেদনগুলির দ্রুত নিষ্পত্তি নিয়ে এবার সরাসরি নজর সুপ্রিম কোর্টের দিকে। ১২ আগস্টের শুনানিতে শীর্ষ আদালত পশ্চিমবঙ্গে SIR-সংক্রান্ত আপিলের অগ্রগতি নিয়ে নির্বাচন কমিশনের কাছে বিস্তারিত তথ্য চেয়েছে। প্রায় ৩৪ লক্ষ আপিল এখনও বিচারাধীন থাকার বিষয়টি শুনানিতে উঠে আসে।
নির্বাচন কমিশনের উদ্যোগে পশ্চিমবঙ্গে SIR প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ভোটার তালিকা পুনর্বিবেচনা করা হয়। কমিশনের বক্তব্য, ভোটার তালিকাকে নির্ভুল রাখতে মৃত ভোটার, স্থায়ীভাবে অন্যত্র চলে যাওয়া ব্যক্তি, একাধিক জায়গায় নাম থাকা বা ভোটার হিসেবে যোগ্যতার ক্ষেত্রে প্রশ্ন রয়েছে এমন নাম যাচাই করা জরুরি। কমিশনের সরকারি পোর্টালেও ২০২৬ সালের SIR সংক্রান্ত পরিষেবা, ভোটার তালিকা এবং সংশ্লিষ্ট তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে।
তবে এই প্রক্রিয়াকে ঘিরে বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলির অভিযোগ, যাচাইয়ের সময় প্রকৃত ও যোগ্য ভোটারদের নামও বাদ পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। তাঁদের বক্তব্য, ভোটার তালিকায় নাম না থাকলে সংশ্লিষ্ট নাগরিকের ভোটাধিকার সরাসরি প্রভাবিত হতে পারে। ফলে নাম বাদ পড়ার ক্ষেত্রে কার্যকর আপিলের সুযোগ এবং দ্রুত শুনানি নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
এই বিতর্কের কেন্দ্রে এখন রয়েছে আপিল নিষ্পত্তির গতি। ১২ আগস্টের শুনানিতে সুপ্রিম কোর্ট জানায়, এত বিপুল সংখ্যক আবেদন দীর্ঘ সময় ধরে ঝুলে থাকা নিয়ে আদালত উদ্বিগ্ন। তবে আদালত কোনও নির্দিষ্ট সময়সীমা বেঁধে দেয়নি। একই সঙ্গে আপিল ট্রাইব্যুনালগুলির কার্যকারিতা এবং তারা কতগুলি মামলা নিষ্পত্তি করেছে, সেই তথ্য নির্বাচন কমিশনের কাছ থেকে চাওয়া হয়েছে। পরবর্তী শুনানির দিকেও তাই নজর রয়েছে।
সুপ্রিম কোর্টের পর্যবেক্ষণের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হল, ভোটার তালিকা থেকে কোনও নাম বাদ পড়া মানেই নাগরিকত্ব হারানো নয়। এর আগে আদালত স্পষ্ট করেছে, নির্বাচন কমিশনের ভোটার তালিকা সংক্রান্ত ক্ষমতা থাকলেও নাগরিকত্ব নির্ধারণ করার সাংবিধানিক ক্ষমতা কমিশনের নেই। ফলে SIR-এর মাধ্যমে নাম বাদ পড়ার বিষয়টি এবং কোনও ব্যক্তির নাগরিকত্বের প্রশ্নকে এক করে দেখা যায় না।
রাজনৈতিক মহলে অবশ্য SIR নিয়ে অবস্থান একেবারেই আলাদা। তৃণমূল কংগ্রেস-সহ বিরোধী দলগুলি প্রক্রিয়াটির স্বচ্ছতা এবং প্রকৃত ভোটারদের নাম বাদ পড়ার সম্ভাবনা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। অন্যদিকে নির্বাচন কমিশনের অবস্থান ভোটার তালিকাকে নির্ভুল ও বিশ্বাসযোগ্য রাখার প্রয়োজনীয়তার উপর জোর দেয়। ফলে রাজনৈতিক অভিযোগ-পাল্টা অভিযোগের মাঝেও এখন মূল প্রশ্ন, প্রকৃত ভোটারদের অধিকার কীভাবে সুরক্ষিত থাকবে।
আদালতের নির্দেশে গঠিত আপিল ট্রাইব্যুনালগুলির সামনে বিপুল সংখ্যক আবেদন পড়ে রয়েছে। এপ্রিলের এক আদালতি নথিতেও ৩৪ লক্ষের বেশি আপিলের উল্লেখ ছিল এবং ন্যায্য শুনানি ও যথাযথভাবে রেকর্ড পর্যালোচনার ওপর জোর দেওয়া হয়েছিল।
সব মিলিয়ে, পশ্চিমবঙ্গের SIR বিতর্ক এখন শুধু রাজনৈতিক লড়াইয়ে সীমাবদ্ধ নেই। এর সঙ্গে সরাসরি যুক্ত ভোটাধিকার, নির্বাচন ব্যবস্থার স্বচ্ছতা এবং প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার বিশ্বাসযোগ্যতা। আগামী শুনানিতে আপিল নিষ্পত্তির অগ্রগতি নিয়ে নির্বাচন কমিশন কী তথ্য দেয় এবং সুপ্রিম কোর্ট কী নির্দেশ দেয়, এখন সেদিকেই নজর রাজনৈতিক মহল থেকে সাধারণ ভোটারদের।

