৬০তম বর্ষে বড় চমক! বারাসাতে বিদ্রোহী সংঘের কালীপুজোর থিম ‘গোল্ডেন বুদ্ধ মন্দির’
দুর্গাপুজোর রেশ কাটতেই বারাসাতে কালীপুজোর প্রস্তুতি, ৬০তম বর্ষে নতুন চমক বিদ্রোহী সংঘের
বারাসাত মানেই কালীপুজোর আলাদা উন্মাদনা। দুর্গাপুজোর রেশ কাটতে না কাটতেই উত্তর ২৪ পরগনার এই শহরে শুরু হয়ে যায় আলোর উৎসবের প্রস্তুতি। পুজোর এখনও কয়েকদিন বাকি থাকলেও ইতিমধ্যেই মণ্ডপ, প্রতিমা এবং আলোকসজ্জাকে ঘিরে ব্যস্ততা বাড়ছে। তারই মধ্যে ৬০তম বর্ষে নতুন থিম নিয়ে দর্শকদের সামনে আসার প্রস্তুতি শুরু করে দিয়েছে বারাসাতের অন্যতম পরিচিত পুজো কমিটি বিদ্রোহী সংঘ।
জন্মাষ্টমীর পুণ্যতিথিতে খুঁটি পুজোর (Khuti Puja) মধ্য দিয়ে এবারের কালীপুজোর আনুষ্ঠানিক প্রস্তুতি শুরু করে বিদ্রোহী সংঘ। ছয় দশকের ঐতিহ্যকে সঙ্গে নিয়ে এবারও দর্শকদের জন্য নতুন কিছু উপহার দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে উদ্যোক্তাদের। বারাসাতের কালীপুজোয় প্রতি বছরই বিভিন্ন মণ্ডপে দেখা যায় অভিনব থিম এবং শিল্পভাবনার প্রতিযোগিতা। সেই আবহেই এবার আন্তর্জাতিক স্থাপত্যের অনুপ্রেরণায় মণ্ডপ সাজানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিদ্রোহী সংঘ।
এবার তাদের মণ্ডপের মূল ভাবনা ‘গোল্ডেন বুদ্ধ মন্দির’ (Golden Buddha Temple)। ব্যাংককের বিখ্যাত গোল্ডেন বুদ্ধ মন্দিরের স্থাপত্যশৈলী ও আবহকে সামনে রেখে তৈরি হবে এবারের মণ্ডপ। থিমের পাশাপাশি আলোকসজ্জা এবং মণ্ডপের উপস্থাপনাতেও থাকবে বিশেষ পরিকল্পনা। উদ্যোক্তাদের আশা, আন্তর্জাতিক স্থাপত্যের এই ভাবনা বারাসাতের কালীপুজোর দর্শনার্থীদের নজর কাড়বে।
তবে মণ্ডপে আধুনিক থিম থাকলেও প্রতিমার ক্ষেত্রে ঐতিহ্য থেকে সরে যেতে চাইছেন না উদ্যোক্তারা। কালীপ্রতিমায় থাকবে সাবেকিয়ানার (Traditional) ছোঁয়া। অর্থাৎ একদিকে দর্শকদের সামনে থাকবে নতুন থিমের আকর্ষণ, অন্যদিকে দেবীর প্রতিমায় বজায় থাকবে বাঙালির চেনা ঐতিহ্য। আধুনিকতা এবং সাবেকিয়ানার এই সমন্বয়ই এবারের পুজোর অন্যতম বৈশিষ্ট্য হতে চলেছে।
পুজোর বাজেট নিয়েও এবার নির্দিষ্ট অঙ্কের মধ্যে নিজেদের আটকে রাখতে চাইছেন না উদ্যোক্তারা। প্রতিবছরই পরিকল্পনা করতে গিয়ে বাজেট নির্ধারিত সীমা ছাড়িয়ে যাওয়ার অভিজ্ঞতা হয়েছে বলে জানান তাঁরা। তবে এবার মূল লক্ষ্য কোনও নির্দিষ্ট বাজেটের মধ্যে প্রতিযোগিতা নয়। বরং দর্শকদের ভালোবাসা পাওয়া এবং সুন্দরভাবে মাতৃ আরাধনা সম্পন্ন করাকেই বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে বিদ্রোহী সংঘ।
বিদ্রোহী সংঘের সম্পাদক মানিক দত্তের কথায়, তাঁদের লক্ষ্য কৃত্রিমভাবে ভিড় তৈরি করা নয়। প্রতিবছরের মতো এবারও দর্শকদের জন্য ভালো কিছু করার চেষ্টা থাকবে। থিমে নতুনত্বের পাশাপাশি প্রতিমায় সাবেকিয়ানার ঐতিহ্য বজায় রাখার কথাও জানান তিনি।
৬০তম বর্ষ হওয়ায় এবারের পুজো বিদ্রোহী সংঘের কাছে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। দীর্ঘ পথচলার ঐতিহ্য ধরে রেখে নতুন প্রজন্মের দর্শকদের কাছেও পুজোকে আকর্ষণীয় করে তুলতে চাইছেন উদ্যোক্তারা। মণ্ডপ, প্রতিমা এবং আলোকসজ্জা— প্রতিটি ক্ষেত্রেই আলাদা পরিকল্পনা করা হচ্ছে।
বারাসাতের কালীপুজো বরাবরই থিমের বৈচিত্র্য এবং দর্শনার্থীদের ভিড়ের জন্য পরিচিত। শহরের বিভিন্ন পুজো কমিটি যখন নিজেদের প্রস্তুতি শুরু করে দিয়েছে, তখন ৬০তম বর্ষে বিদ্রোহী সংঘের ‘গোল্ডেন বুদ্ধ মন্দির’ কতটা নজর কাড়ে, সেটাই এখন দেখার। থিমের চমক এবং সাবেকিয়ানা প্রতিমার মেলবন্ধনে এবারের কালীপুজো যে আরও জমজমাট হতে চলেছে, তার ইঙ্গিত মিলেছে খুঁটি পুজোর সূচনাতেই।


