Swarupnagar News: ইছামতীর উপর বাঁশের সাঁকো ভেঙে বিপত্তি, ৩০ কিমি ঘুরপথে যাতায়াত

NEWS INDIA বাংলা
0

ইছামতীর উপর বাঁশের সাঁকো ভেঙে বিপাকে স্বরূপনগর! ৩০ কিমি ঘুরপথে যাতায়াতের আশঙ্কা

হঠাৎ ভেঙে পড়ল ইছামতীর বাঁশের সাঁকো, দুই পাড়ের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে চরম দুর্ভোগে বাসিন্দারা

স্বরূপনগরের কাঁটাবাগানে ইছামতী নদীর উপর ভেঙে পড়া বাঁশের সাঁকো


উত্তর ২৪ পরগনার স্বরূপনগর ব্লকের শাঁড়াপুল নির্মাণ গ্রাম পঞ্চায়েতের কাঁটাবাগান এলাকায় ইছামতী নদীর উপর থাকা বাঁশের সাঁকো ভেঙে পড়ায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন দুই পাড়ের বাসিন্দারা। কাঁটাবাগান এবং টিপির ঘাট এলাকার মধ্যে যোগাযোগের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম ছিল এই সাঁকো। আচমকা সেটি ভেঙে পড়ায় দৈনন্দিন যাতায়াত কার্যত সমস্যার মুখে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, মঙ্গলবার সকাল বা দুপুরের দিকে সাঁকোটির একটি বড় অংশ ভেঙে নদীতে পড়ে যায়। নদীতে দীর্ঘদিন ধরে জমে থাকা কচুরিপানার (Water Hyacinth) চাপে সাঁকোটি ভেঙে পড়েছে বলে প্রাথমিকভাবে স্থানীয়দের দাবি। প্রায় ২০০ মিটার লম্বা এবং ৬ ফুট চওড়া এই বাঁশের সাঁকো দিয়ে প্রতিদিন দুই পাড়ের বহু মানুষ যাতায়াত করতেন।

স্থানীয়দের বক্তব্য, শুধু সাধারণ যাতায়াত নয়, এলাকার ছাত্রছাত্রী, কৃষক, অফিসযাত্রী থেকে শুরু করে অসুস্থ রোগীদের কাছেও এই সাঁকোটি ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নদী পারাপারের এই সহজ পথ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় এখন বিকল্প রাস্তার উপর নির্ভর করতে হচ্ছে বাসিন্দাদের। ফলে সময় ও যাতায়াতের খরচ দু’টোই বাড়ছে।

 সাঁকোটি ভেঙে যাওয়ার পর স্থানীয়দের একাংশকে প্রায় ৩০ কিলোমিটার ঘুরপথে যাতায়াত করতে হতে পারে। বিশেষ করে প্রতিদিন স্কুল, কলেজ বা কর্মস্থলে যাতায়াত করা মানুষজনের ক্ষেত্রে এই পরিস্থিতি বড় সমস্যা তৈরি করতে পারে। কৃষিপ্রধান এলাকার বাসিন্দাদের কাছেও যোগাযোগ ব্যবস্থা ভেঙে পড়ার প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

ঘটনার খবর পাওয়ার পর দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছন স্বরূপনগরের বিডিও ধ্রুবজ্যোতি রায় এবং পুলিশকর্মীরা। প্রশাসনের পক্ষ থেকে পরিস্থিতি খতিয়ে দেখা হয়েছে। বিডিও জানিয়েছেন, এলাকার যোগাযোগ ব্যবস্থার গুরুত্ব বিবেচনা করে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে।

স্থানীয়দের মূল দাবি, যত দ্রুত সম্ভব সাঁকোটি মেরামত করে আবার চলাচলের উপযোগী করে তোলা হোক। কারণ বিকল্প পথে দীর্ঘ দূরত্ব ঘুরে যাতায়াত করা অনেকের পক্ষেই বাস্তবে কঠিন। বিশেষ করে জরুরি চিকিৎসার প্রয়োজন হলে দীর্ঘ পথ ঘুরে হাসপাতালে পৌঁছতে সময় বেড়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বাসিন্দারা।

ইছামতী নদীর উপর এই বাঁশের সাঁকোটি শুধু দুই এলাকার মধ্যে যাতায়াতের পথ ছিল না, স্থানীয় মানুষের দৈনন্দিন জীবন ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গেও এটি সরাসরি যুক্ত ছিল। তাই সাঁকো ভেঙে পড়ার ঘটনায় প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপের দাবি জোরালো হয়েছে।

এখন নজর প্রশাসন কীভাবে দ্রুত বিকল্প যোগাযোগ ব্যবস্থা তৈরি করে এবং ভেঙে পড়া সাঁকোটির পরিবর্তে স্থায়ী বা নিরাপদ পারাপারের ব্যবস্থা করা যায় কি না, সেদিকে। পাশাপাশি নদীতে কচুরিপানা জমে সাঁকোটির উপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি হয়েছিল কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা প্রয়োজন বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন (0)

#buttons=(Ok, Go it!) #days=(20)

Our website uses cookies to enhance your experience. Check Now
Ok, Go it!