প্রায় ১০ বছর পর বড় স্বস্তি! সুদীপ্ত সেনকে জামিন দিল সুপ্রিম কোর্ট
সারদা কর্তা সুদীপ্ত সেনের দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ে বড় মোড়, CBI মামলায় সুপ্রিম কোর্টে মিলল জামিন
সারদা চিটফান্ড মামলায় বড় স্বস্তি পেলেন সংস্থার কর্তা সুদীপ্ত সেন। প্রায় এক দশক ধরে জেলবন্দি থাকার পর একটি CBI মামলায় তাঁর জামিন মঞ্জুর করেছে সুপ্রিম কোর্ট। বিচারপতি সঞ্জয় কারোল এবং বিচারপতি অগাস্টিন জর্জ মাসিহের ডিভিশন বেঞ্চ এই নির্দেশ দিয়েছে। আদালতের পর্যবেক্ষণে উঠে এসেছে, সুদীপ্ত সেন ৩০ ডিসেম্বর ২০১৬ থেকে একটানা হেফাজতে রয়েছেন। এই দীর্ঘ সময়ের কারাবাস এবং মামলার পরিস্থিতি বিবেচনা করেই জামিন দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
সুপ্রিম কোর্টের এই নির্দেশটি এসেছে Sudipta Sen v. Central Bureau of Investigation মামলায়। আদালত জানিয়েছে, জামিনের শর্ত ট্রায়াল কোর্ট ঠিক করবে। অর্থাৎ শীর্ষ আদালত জামিনের পথ খুলে দিলেও, নির্ধারিত আইনি প্রক্রিয়া এবং শর্ত পূরণ করেই তাঁকে পরবর্তী পদক্ষেপ নিতে হবে। আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী বিচারপ্রক্রিয়ায় সহযোগিতা করাও তাঁর জন্য বাধ্যতামূলক।
সারদা কেলেঙ্কারি প্রকাশ্যে আসার পর ২০১৩ সালে সুদীপ্ত সেনকে গ্রেফতার করা হয়েছিল। দীর্ঘ সময় ধরে বিভিন্ন মামলা চলতে থাকে তাঁর বিরুদ্ধে। পশ্চিমবঙ্গের একাধিক মামলায় জামিনের আইনি লড়াইও চলেছে। চলতি বছরের এপ্রিল মাসে কলকাতা হাইকোর্টের একটি নির্দেশের পর রাজ্য পুলিশের হাতে থাকা দুটি মামলাতেও তাঁর জামিনের পথ তৈরি হয়েছিল বলে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়।
তবে এখানেই গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, একটি মামলায় সুপ্রিম কোর্টের জামিন মানেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে জেল থেকে চূড়ান্ত মুক্তি নয়। কোনও অন্য মামলায় বৈধ হেফাজত বা আটকাদেশ কার্যকর থাকলে, সেই মামলার আইনি অবস্থাও দেখতে হয়। তাই সুদীপ্ত সেনের বাস্তবিক জেলমুক্তির বিষয়টি নির্ভর করবে তাঁর বিরুদ্ধে থাকা অন্যান্য মামলার বর্তমান অবস্থার উপর। এপ্রিলের প্রতিবেদনে পশ্চিমবঙ্গের মামলাগুলিতে জামিন পাওয়ার কথা উল্লেখ থাকলেও, বর্তমান মুক্তির পরিস্থিতি আলাদাভাবে যাচাই করা প্রয়োজন।
সুপ্রিম কোর্টের এই রায়ের পিছনে দীর্ঘ কারাবাসের বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে। আদালতের নথি অনুযায়ী, ৩০ ডিসেম্বর ২০১৬ থেকে তিনি হেফাজতে রয়েছেন। অর্থাৎ এই মামলার ক্ষেত্রে তাঁর হেফাজতের সময় প্রায় এক দশকে পৌঁছেছে। বিচারপ্রক্রিয়ার অগ্রগতি, দীর্ঘদিনের হেফাজত এবং মামলার সামগ্রিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে বেঞ্চ জামিন দেওয়ার বিষয়ে সম্মতি জানায়।
সারদা কাণ্ডে বিপুল সংখ্যক আমানতকারীর টাকা ফেরত না পাওয়ার অভিযোগকে কেন্দ্র করে একসময় গোটা রাজ্যে তীব্র আলোড়ন তৈরি হয়েছিল। তদন্তে CBI-সহ একাধিক সংস্থা যুক্ত হয় এবং মামলাগুলি দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়ার মধ্যে দিয়ে এগোয়। সেই মামলার অন্যতম প্রধান অভিযুক্ত হিসেবে সুদীপ্ত সেনের দীর্ঘ কারাবাসও বারবার আলোচনায় এসেছে।
এখন নজর থাকবে ট্রায়াল কোর্টের নির্ধারিত জামিনের শর্ত এবং তাঁর বিরুদ্ধে থাকা অন্যান্য মামলার বর্তমান আইনি অবস্থার দিকে। সুপ্রিম কোর্টের এই নির্দেশ নিঃসন্দেহে সুদীপ্ত সেনের দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ে একটি বড় মোড়, কিন্তু এটিকে এককথায় চূড়ান্ত জেলমুক্তি বলা এখনও সতর্কতার দাবি রাখে।

.png)