Fitness: নতুন জিমে ভর্তি? এই ভুলগুলি এড়িয়ে চলুন, নইলে Workout-এর ফলের বদলে হতে পারে সমস্যা

NEWS INDIA বাংলা
0

নতুন জিমে ভর্তি হয়েছেন? এই ভুলগুলো করলে উপকারের বদলে হতে পারে ক্ষতি

ভারী ওজন থেকে ভুল ডায়েট—জিম শুরু করার পর কোন অভ্যাসগুলি এড়িয়ে চলবেন, জেনে নিন

নতুন জিমে Workout করছেন এক তরুণ, সঙ্গে Fitness Training-এর দৃশ্য


নিউজ ইন্ডিয়া ওয়েব ডেস্কঃ নতুন করে জিমে ভর্তি হয়েছেন? শরীরচর্চা শুরু করার উৎসাহে অনেকেই প্রথম থেকেই অতিরিক্ত ব্যায়াম, ভারী ওজন তোলা কিংবা খাবার কমিয়ে দেওয়ার মতো ভুল করে বসেন। এতে ওজন কমার বদলে চোট, অতিরিক্ত ক্লান্তি বা পেশিতে ব্যথার মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে। তাই জিম শুরু করার সময় শরীরকে ধীরে ধীরে অভ্যস্ত করাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

জিমে যাওয়ার আগে প্রথমেই নিজের লক্ষ্য ঠিক করা দরকার। ওজন কমানো, পেশি শক্ত করা, ফিটনেস বাড়ানো কিংবা স্ট্যামিনা উন্নত করা—লক্ষ্য অনুযায়ী ব্যায়ামের ধরন ও মাত্রা আলাদা হতে পারে। নতুনদের ক্ষেত্রে প্রশিক্ষকের পরামর্শ নিয়ে সঠিক কৌশল বা exercise technique শেখা গুরুত্বপূর্ণ। শরীরের সক্ষমতার তুলনায় বেশি চাপ দিয়ে দ্রুত ফল পাওয়ার চেষ্টা বরং ক্ষতির কারণ হতে পারে।

নতুনদের একটি বড় ভুল হল প্রথম দিন থেকেই ভারী weight training শুরু করা। শক্তি বাড়ানোর ব্যায়াম নিজে থেকে খারাপ নয়, তবে কতটা ওজন দিয়ে শুরু করা উচিত তা ব্যক্তিভেদে আলাদা। সঠিক ফর্ম বজায় রেখে তুলনামূলক হালকা ওজন দিয়ে শুরু করে ধীরে ধীরে চাপ বাড়ানো নিরাপদ পদ্ধতি। কোনও ব্যায়ামের সময় তীব্র ব্যথা হলে সেটি জোর করে চালিয়ে যাওয়া উচিত নয়।

অনেকেই কয়েকদিন জিম করার পর দ্রুত ফল না পেয়ে ব্যায়ামের পরিমাণ বাড়িয়ে দেন। আবার দীর্ঘ বিরতির পরে পুরনো মাত্রার কঠিন ব্যায়ামে সরাসরি ফিরে যান। এই অভ্যাসও সমস্যার কারণ হতে পারে। দীর্ঘ বিরতির পর শরীরকে ফের অভ্যস্ত করার জন্য ধীরে ধীরে workout intensity বাড়ানো উচিত। অতিরিক্ত পরিশ্রমে পেশিতে চোট বা দীর্ঘস্থায়ী ক্লান্তি তৈরি হতে পারে।

ব্যায়ামের পাশাপাশি বিশ্রামও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রতিদিন একই পেশিতে কঠিন অনুশীলন না করে শরীরকে পর্যাপ্ত recovery time দেওয়া দরকার। কতক্ষণ বিশ্রাম নিতে হবে, তা ব্যায়ামের ধরন, লক্ষ্য এবং ব্যক্তির ফিটনেস স্তরের উপর নির্ভর করে। তাই প্রত্যেক সেটের জন্য সবার ক্ষেত্রে একই সময়ের বিরতি বাধ্যতামূলক—এমন ধারণা ঠিক নয়।



খাবারের ক্ষেত্রেও চরম সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত নয়। ওজন কমানোর জন্য একেবারে না খেয়ে থাকা বা শুধু প্রোটিন খাওয়ার মতো ডায়েট দীর্ঘমেয়াদে উপকারী নয়। শরীরের প্রয়োজন অনুযায়ী প্রোটিন, কার্বোহাইড্রেট, স্বাস্থ্যকর ফ্যাট, শাকসবজি, ফল এবং পর্যাপ্ত জল—সবকিছুর মধ্যে ভারসাম্য থাকা দরকার। ব্যক্তির বয়স, ওজন, শারীরিক পরিস্থিতি ও লক্ষ্য অনুযায়ী খাবারের পরিকল্পনা বদলাতে পারে। প্রয়োজন হলে dietitian বা পুষ্টিবিদের পরামর্শ নেওয়া যেতে পারে।

ঘুমকেও অবহেলা করা যাবে না। নিয়মিত শরীরচর্চার পাশাপাশি পর্যাপ্ত ঘুম শরীরের পুনরুদ্ধার এবং সামগ্রিক ফিটনেসের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। শুধু জিমে কয়েক ঘণ্টা কাটালেই ওজন কমবে বা শরীর টোনড হবে—এমন নিশ্চয়তা নেই। খাদ্যাভ্যাস, দৈনন্দিন শারীরিক সক্রিয়তা, ঘুম এবং ধারাবাহিক শরীরচর্চা—সবকিছু মিলিয়েই ফল পাওয়া যায়।

বিশেষ করে যাঁদের আগে থেকেই কোনও শারীরিক সমস্যা রয়েছে, তাঁরা নতুন করে কঠিন শরীরচর্চা শুরু করার আগে চিকিৎসক বা যোগ্য ফিটনেস পেশাদারের পরামর্শ নিতে পারেন। দ্রুত ফল পাওয়ার বদলে ধীরে, নিয়ম মেনে এবং নিজের শরীরের সীমাবদ্ধতা বুঝে জিম করাই বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন (0)

#buttons=(Ok, Go it!) #days=(20)

Our website uses cookies to enhance your experience. Check Now
Ok, Go it!