বেতন ঢুকেই উধাও টাকা? মাসের শুরুতেই মেনে চলুন এই ৭টি স্মার্ট মানি ট্রিক
বেতন পাওয়ার পর ৭টি অভ্যাস বদলালেই কমতে পারে মাসের শেষের টাকার টান
মাসের শুরুতেই বেতন (Salary) অ্যাকাউন্টে ঢোকে। ফোনে নোটিফিকেশন আসতেই মনে হয়, এবার হয়তো একটু ভালোভাবে সঞ্চয় করা যাবে। কিন্তু কয়েক দিনের মধ্যেই অনলাইন শপিং, বাইরে খাওয়া, ক্যাব, বিল এবং নানা ছোটখাটো খরচে টাকা কোথায় চলে যায়, অনেকেই বুঝে উঠতে পারেন না। মাসের ১০ থেকে ২০ তারিখের মধ্যেই অ্যাকাউন্টের ব্যালান্স কমতে শুরু করলে শেষ সপ্তাহে আবার খরচ সামলাতে হিমশিম খেতে হয়। এই অভ্যাস বদলাতে বড় কোনও ফাইন্যান্স ডিগ্রি নয়, বরং বেতন পাওয়ার পর কয়েকটি নিয়ম মেনে চলাই হতে পারে কার্যকর সমাধান।
প্রথম নিয়ম—আগে সঞ্চয়, পরে খরচ। সাধারণত মাসের সমস্ত খরচ মিটিয়ে যা টাকা বেঁচে যায়, সেটাই সঞ্চয় করার চেষ্টা করেন অনেকে। ফলে শেষ পর্যন্ত সঞ্চয়ের জন্য আর কিছুই অবশিষ্ট থাকে না। তার বদলে বেতন অ্যাকাউন্টে ঢোকার পরই সামর্থ্য অনুযায়ী প্রায় ১৫–২০ শতাংশ টাকা আলাদা সেভিংস অ্যাকাউন্ট, রেকারিং ডিপোজিট বা বিনিয়োগের নির্দিষ্ট ব্যবস্থায় সরিয়ে রাখার অভ্যাস করা যেতে পারে। অটো-ট্রান্সফার চালু থাকলে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ঝামেলাও কমে।
দ্বিতীয় নিয়ম—স্থায়ী খরচের টাকা শুরুতেই আলাদা করুন। বাড়িভাড়া, বিদ্যুৎ বিল, EMI, ইন্টারনেট, স্কুল বা অন্যান্য নিয়মিত পেমেন্টের টাকা বেতন পাওয়ার পরেই আলাদা করে রাখুন। এতে দৈনন্দিন খরচের টাকা দেখে ভুল করে মনে হবে না যে পুরো ব্যালান্সটাই খরচ করার জন্য রয়েছে।
তৃতীয় নিয়ম—মাসের খরচকে চার সপ্তাহে ভাগ করুন। সমস্ত প্রয়োজনীয় খরচ বাদ দেওয়ার পর যে টাকা হাতে থাকে, সেটিকে চারটি সাপ্তাহিক বাজেটে ভাগ করা যেতে পারে। প্রথম সপ্তাহেই অতিরিক্ত খরচ হয়ে গেলে পরের তিন সপ্তাহের বাজেট নষ্ট হবে—এই সচেতনতা খরচ নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করতে পারে।
চতুর্থ নিয়ম—অব্যবহৃত সাবস্ক্রিপশন বন্ধ করুন। OTT প্ল্যাটফর্ম, অ্যাপ, জিম বা অন্য কোনও পরিষেবার সদস্যপদ নিয়মিত ব্যবহার না করলে তা বাতিল করুন। ছোট অঙ্কের মাসিক চার্জ আলাদা করে খুব বেশি মনে না হলেও একাধিক সাবস্ক্রিপশন মিলিয়ে বছরে উল্লেখযোগ্য টাকা খরচ হতে পারে।
পঞ্চম নিয়ম—অনলাইন কেনাকাটায় ২৪ ঘণ্টার নিয়ম চালু করুন। পছন্দের কোনও পণ্য দেখেই সঙ্গে সঙ্গে অর্ডার না করে সেটি কার্টে রেখে অন্তত ২৪ ঘণ্টা অপেক্ষা করুন। পরের দিনও যদি মনে হয় জিনিসটি সত্যিই দরকার, তখন কেনার সিদ্ধান্ত নেওয়া যেতে পারে। এতে আবেগপ্রবণ কেনাকাটা কমানোর সুযোগ থাকে।
ষষ্ঠ নিয়ম—একটি অপ্রয়োজনীয় খরচ অর্ধেক করুন। বাইরে খাওয়া, ক্যাব, কফি বা অন্য কোনও নিয়মিত কিন্তু অপরিহার্য নয় এমন খরচ বেছে নিয়ে মাসে অন্তত ৫০ শতাংশ কমানোর চেষ্টা করুন। সবকিছু একসঙ্গে বন্ধ করার বদলে একটি খরচ নিয়ন্ত্রণ করা অনেকের জন্য বেশি বাস্তবসম্মত হতে পারে।
সপ্তম নিয়ম—মাসের শেষের জন্য আলাদা কুশন রাখুন। মূল সঞ্চয় ভেঙে শেষ সপ্তাহের খরচ চালানোর বদলে ছোট একটি বাফার বা ইমার্জেন্সি কুশন তৈরি করুন। তবে এই টাকা যেন দৈনন্দিন অপ্রয়োজনীয় কেনাকাটার জন্য ব্যবহার না হয়, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ।
সবশেষে, সঞ্চয়ের অভ্যাস বদলানোর মূল চাবিকাঠি হল বেতন পাওয়ার দিনেই টাকা ভাগ করে ফেলা। আয় বাড়লেই সঞ্চয় বাড়বে—এমন নয়; নিয়মিত খরচের উপর নিয়ন্ত্রণ থাকাটাই দীর্ঘমেয়াদে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

