আমেরিকা-ইরান সংঘাতের ধাক্কা! সপ্তাহের শুরুতেই পড়ল Sensex-Nifty, চড়া তেলে বাড়ল বাজারের দুশ্চিন্তা
চড়া তেল আর মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা, সোমবার সপ্তাহের শুরুতেই কেন দুর্বল হল ভারতীয় শেয়ার বাজার?
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনা এবং আমেরিকা-ইরান সংঘাতের প্রভাব সোমবার, ১৭ আগস্ট, সরাসরি পড়ল ভারতীয় শেয়ার বাজারে। সপ্তাহের প্রথম ট্রেডিং সেশনেই দুর্বল আন্তর্জাতিক বাজারের ইঙ্গিত, চড়া অপরিশোধিত তেলের (Crude Oil) দাম এবং ভূ-রাজনৈতিক অনিশ্চয়তায় সতর্ক হয়ে পড়েন বিনিয়োগকারীরা। দিনের শুরুতেই Sensex ও Nifty 50 নিম্নমুখী হয়। Reuters-এর তথ্য অনুযায়ী, সকাল ৯টা ৩৫ মিনিটে Sensex ৩৫৯ পয়েন্ট বা ০.৪৬ শতাংশ কমে ৭৭,৬৪৭-এ এবং Nifty 50 ০.৩৪ শতাংশ নেমে ২৪,২৮২.৪৫-এ পৌঁছয়।
বাজারে চাপ তৈরির অন্যতম বড় কারণ হয়ে উঠেছে অপরিশোধিত তেলের দাম। মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে আন্তর্জাতিক তেল সরবরাহে বিঘ্ন ঘটার আশঙ্কা রয়েছে। বিশেষ করে Hormuz প্রণালীতে জাহাজ চলাচল কমে যাওয়ায় বাজারে সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ আরও বেড়েছে। Reuters জানিয়েছে, সোমবার Brent crude প্রায় ৮৯ ডলারের আশেপাশে ছিল। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে আলোচনায় অগ্রগতি না হওয়া এবং Hormuz-এ জাহাজ চলাচল কমে যাওয়ায় তেলের বাজারে বাড়তি ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।
ভারতের মতো অপরিশোধিত তেল আমদানিনির্ভর অর্থনীতিতে দীর্ঘদিন তেলের দাম উঁচু থাকলে তার প্রভাব একাধিক ক্ষেত্রে পড়তে পারে। আমদানি ব্যয় বাড়লে মুদ্রাস্ফীতির চাপ, বাণিজ্য ঘাটতি এবং কর্পোরেট সংস্থার খরচ বাড়ার আশঙ্কা থাকে। একই সঙ্গে ভারতীয় মুদ্রার উপরও চাপ তৈরি হতে পারে। সোমবার ডলারের তুলনায় রুপি ৯৫.৬০-এ নেমে দুই সপ্তাহের সর্বনিম্ন স্তরে পৌঁছয় বলে Reuters জানিয়েছে।
শুধু তেল নয়, আন্তর্জাতিক বাজারের দুর্বল সেন্টিমেন্টও ভারতীয় সূচকগুলির উপর চাপ বাড়িয়েছে। সোমবার বাজার খোলার আগেই GIFT Nifty-তে দুর্বলতার ইঙ্গিত মিলেছিল। শুক্রবার Sensex ও Nifty দু’সপ্তাহের ঊর্ধ্বমুখী ধারার পর সামান্য কমে বন্ধ হয়েছিল। ফলে নতুন সপ্তাহের শুরুতে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে ঝুঁকি নেওয়ার প্রবণতা কিছুটা কম ছিল।
সোমবারের লেনদেনে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ খাতেও চাপ দেখা যায়। Banking, Financial এবং IT stocks-এর দুর্বলতা বাজারের সামগ্রিক পতনকে আরও তীব্র করেছে। অন্যদিকে কিছু Auto, Media ও Pharma stocks তুলনামূলকভাবে স্থিতিশীল ছিল বলে বাজার-সংক্রান্ত প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।
তবে বাজার বিশেষজ্ঞদের কাছে এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হল, মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি কতদিন স্থায়ী হয়। যদি আমেরিকা-ইরান আলোচনায় অগ্রগতি হয় এবং Hormuz প্রণালীতে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক হয়, তাহলে crude oil-এর দামে স্বস্তি ফিরতে পারে। তার প্রভাব ভারতীয় বাজারেও ইতিবাচক হতে পারে।
অন্যদিকে সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে তেলের দাম, রুপি, মুদ্রাস্ফীতি এবং বিদেশি বিনিয়োগের প্রবাহের উপর চাপ বাড়তে পারে। ফলে আগামী কয়েকটি ট্রেডিং সেশনে Sensex ও Nifty-র গতিপথ নির্ধারণে আন্তর্জাতিক ভূ-রাজনীতি, crude oil এবং রুপির অবস্থানই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।

