কৌশিকী অমাবস্যায় তারাপীঠে ৬ লক্ষের ভিড়! ৪০০০ পুলিশ, ২০০ দমকলকর্মী, রোবট ফায়ার টেন্ডার প্রস্তুত
কৌশিকী অমাবস্যায় তারাপীঠে ভক্তের ঢল, ৬ লক্ষের ভিড় সামলাতে নজিরবিহীন নিরাপত্তা
বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর কৌশিকী অমাবস্যাকে কেন্দ্র করে ভক্তদের ঢলে জমজমাট বীরভূমের তারাপীঠ। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে বিপুল সংখ্যক পুণ্যার্থী ইতিমধ্যেই তারাপীঠে আসতে শুরু করেছেন। এবারের উৎসবে ছয় লক্ষেরও বেশি ভক্তের সমাগম হতে পারে বলে প্রশাসনের তরফে অনুমান করা হয়েছে। সেই সম্ভাবনার কথা মাথায় রেখে নিরাপত্তা, যান নিয়ন্ত্রণ, ভিড় সামলানো এবং অগ্নিনিরাপত্তায় একাধিক বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
এবার তারাপীঠের নিরাপত্তা ব্যবস্থার অন্যতম বড় দিক হল বিপুল পুলিশ মোতায়েন। প্রশাসনের পরিকল্পনা অনুযায়ী প্রায় ৪,০০০ পুলিশকর্মী দায়িত্বে থাকছেন। মন্দির চত্বর, গুরুত্বপূর্ণ রাস্তা এবং ভক্তদের যাতায়াতের জায়গাগুলিতে নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। বিপুল ভিড়ের মধ্যে যাতে কোনও অপ্রীতিকর ঘটনা বা পদপিষ্ট হওয়ার মতো পরিস্থিতি তৈরি না হয়, সেদিকেই বিশেষ নজর প্রশাসনের।
অগ্নিকাণ্ড মোকাবিলাতেও নেওয়া হয়েছে বাড়তি প্রস্তুতি। প্রায় ২০০ জন দমকলকর্মী মোতায়েন রাখা হচ্ছে। পাশাপাশি দ্রুত আগুন নিয়ন্ত্রণে উন্নত প্রযুক্তির রোবট ফায়ার টেন্ডারও প্রস্তুত রাখা হয়েছে। তারাপীঠের মতো ঘন জনবসতিপূর্ণ এলাকায় উৎসবের সময়ে অগ্নিনিরাপত্তা যে বড় চ্যালেঞ্জ, সেই বিষয়টি মাথায় রেখেই এই ব্যবস্থা বলে জানা গিয়েছে।
শুধু মন্দির চত্বর নয়, তারাপীঠ-রামপুরহাট সংযোগকারী রাস্তা এবং আশপাশের এলাকাতেও নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। একই সময়ে বিপুল সংখ্যক মানুষ এলাকায় ঢোকায় যানবাহন নিয়ন্ত্রণও প্রশাসনের কাছে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। ভক্তদের চলাচল এবং যানবাহনের প্রবাহ আলাদা রেখে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা করা হচ্ছে।
পুণ্যার্থীদের যাতায়াত সহজ করতে পূর্ব রেলও বিশেষ ব্যবস্থা নিয়েছে। ১০ থেকে ১৩ সেপ্টেম্বর হাওড়া ও রামপুরহাটের মধ্যে বিশেষ ট্রেন চালানোর ঘোষণা করা হয়েছে। হাওড়া থেকে বিশেষ ট্রেনটি দুপুর ১২টা ৫০ মিনিটে ছেড়ে বিকেল ৫টা ৩০ মিনিটে রামপুরহাটে পৌঁছবে। রামপুরহাট থেকে ফেরার ট্রেনটি সন্ধ্যা ৬টা ৪৫ মিনিটে ছেড়ে রাত ১১টা ৪৫ মিনিটে হাওড়ায় পৌঁছবে। পাশাপাশি একাধিক নিয়মিত এক্সপ্রেস ট্রেনে অতিরিক্ত সাধারণ দ্বিতীয় শ্রেণির কোচও যুক্ত করা হচ্ছে। ১১ সেপ্টেম্বর শাহিদ এক্সপ্রেসে বাড়তি ভিড়ের কথা মাথায় রেখে দুটি অতিরিক্ত সাধারণ কোচ রাখার সিদ্ধান্ত হয়েছে।
ধর্মীয় বিশ্বাসে কৌশিকী অমাবস্যা তারাপীঠের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ তিথি। মন্দিরের নিজস্ব তথ্য অনুযায়ী, এই রাতকে ‘মা তারার মহানিশা’ হিসেবে মানা হয় এবং সারারাত মন্দিরে দর্শন ও পুজোর ব্যবস্থা থাকে। কৌশিকী অমাবস্যার সঙ্গে তন্ত্রসাধনারও বিশেষ যোগ রয়েছে বলে ভক্ত ও সাধকদের মধ্যে বিশ্বাস প্রচলিত।
তিথির হিসাব অনুযায়ী, ১০ সেপ্টেম্বর সকালে অমাবস্যা শুরু হয়ে ১১ সেপ্টেম্বর সকালে শেষ হবে। তবে বিভিন্ন পঞ্জিকায় সময়ের সামান্য পার্থক্য রয়েছে। তাই ১০ সেপ্টেম্বর তারাপীঠে কৌশিকী অমাবস্যার প্রধান উৎসব ও ধর্মীয় আয়োজনকে কেন্দ্র করে ভক্তসমাগম হলেও তিথির বিস্তার ১১ সেপ্টেম্বর সকাল পর্যন্ত থাকছে।
সব মিলিয়ে ধর্মীয় আবেগের পাশাপাশি এবার তারাপীঠে প্রশাসনের কাছে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ বিপুল ভিড়কে নিরাপদে নিয়ন্ত্রণ করা। পুলিশ, দমকল, মন্দির কর্তৃপক্ষ এবং রেলের সমন্বিত ব্যবস্থাপনায় যাতে ভক্তরা নির্বিঘ্নে পুজো দিতে পারেন, এখন সেদিকেই নজর।

