৪২ ইঞ্চি ভুঁড়ি না হলে ফুটবল নয়! ১৮ বছর পর নিউ ব্যারাকপুরে ফিরল ‘গণপতি ফুটবল’
ভুঁড়ি নিয়েই মাঠে দৌড়, ৪২ ইঞ্চির শর্ত! নিউ ব্যারাকপুরে ফিরল অভিনব গণপতি ফুটবল
ফুটবল মানেই সাধারণত সুঠাম চেহারা, ছিপছিপে গড়ন আর দুরন্ত গতির খেলোয়াড়। কিন্তু সেই ধারণাকেই যেন উল্টে দিয়েছে উত্তর ২৪ পরগনার নিউ ব্যারাকপুরের অভিনব ‘গণপতি ফুটবল’। এখানে মাঠে নামতে গেলে শুধু ফুটবল খেলতে জানলেই হবে না, থাকতে হবে প্রকাণ্ড ভুঁড়িও! নিয়ম অনুযায়ী, প্রত্যেক খেলোয়াড়ের পেটের মাপ হতে হবে কমপক্ষে ৪২ ইঞ্চি। আর বয়স? সেটাও কম নয়—৪০ বছরের বেশি।
নিউ ব্যারাকপুরের লেলিনগড় সুভাষ সংঘের মাঠে আয়োজিত এই অভিনব ফুটবল ম্যাচ দেখতে ভিড় জমিয়েছিলেন বহু মানুষ। খেলা শুরুর আগেই শুরু হয় মজার পরীক্ষা। ফিতে দিয়ে মেপে দেখা হয় প্রত্যেক খেলোয়াড়ের পেটের মাপ। ৪২ ইঞ্চির শর্ত পূরণ হলেই মিলেছে মাঠে নামার সুযোগ। এরপর একদল লাল এবং অন্যদল সবুজ হাফপ্যান্ট পরে নেমে পড়েন মাঠে।
খেলা শুরু হওয়ার আগেই দর্শকদের মধ্যে তৈরি হয় প্রবল উৎসাহ। বিশাল ভুঁড়ি নিয়ে খেলোয়াড়দের ওয়ার্মআপ, দৌড় এবং বল পাস করার দৃশ্য দেখে হাসির রোল ওঠে মাঠের চারপাশে। তবে ম্যাচ শুরু হতেই বদলে যায় ছবিটা। ভুঁড়ি সামলে খেলোয়াড়রা বলের পেছনে ছুটেছেন, পাস দিয়েছেন, গোল করার চেষ্টা করেছেন। মাঠে ১১ জন করে খেলোয়াড়, ফুটবলের নিয়মও অনেকটাই পরিচিত—তবে খেলোয়াড়দের চেহারাই এই ম্যাচকে করে তুলেছে একেবারে আলাদা।
এই ‘গণপতি ফুটবল’-এর সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে পুরনো ইতিহাসও। জানা যায়, ১৯৯৮ সালে প্রথম এই অভিনব ফুটবল আয়োজনের সূচনা হয়েছিল। হরবিলাস পাইক এবং ঘোষ সাহেবের উদ্যোগের সঙ্গে এই আয়োজনের নাম জড়িয়ে রয়েছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা যায়। পরবর্তীতে প্রায় ২০০৭ সালের দিকে বন্ধ হয়ে যায় এই বিশেষ ফুটবল। দীর্ঘ প্রায় ১৮ বছর পর ২০২৬ সালে ফের নিউ ব্যারাকপুরে নতুন করে ফিরল ‘গণপতি ফুটবল’।
গণেশপুজোর আগে এই খেলা ঘিরে এলাকায় তৈরি হয় উৎসবের আবহ। স্থানীয় বাসিন্দাদের পাশাপাশি দূরদূরান্ত থেকেও বহু মানুষ হাজির হন এই ব্যতিক্রমী ফুটবল দেখতে। সাধারণ ফুটবল ম্যাচে যেখানে খেলোয়াড়দের ফিটনেস, গতি ও শারীরিক সক্ষমতা নিয়ে আলোচনা হয়, সেখানে গণপতি ফুটবলে বড় ভুঁড়িই যেন যোগ্যতার মাপকাঠি।
তবে শুধুই হাসি-মজার জন্য এই আয়োজন নয় বলে দাবি আয়োজকদের। তাঁদের বক্তব্য, বয়স ৪০ পেরিয়ে গেলেও মানুষের মধ্যে খেলাধুলা এবং শরীরচর্চার আগ্রহ ধরে রাখাই এই আয়োজনের অন্যতম উদ্দেশ্য। ব্যস্ত জীবনে অনেকেই মাঠ থেকে দূরে সরে যান। তাঁদের ফের খেলাধুলার পরিবেশে নিয়ে আসার পাশাপাশি স্থানীয় মানুষকে আনন্দ দেওয়াও এই বিশেষ ফুটবলের লক্ষ্য।
ফলে ৪২ ইঞ্চির ভুঁড়ি নিয়ে মাঠে দৌড়ানো খেলোয়াড়দের দেখে দর্শকদের হাসি থাকলেও, এর আড়ালে রয়েছে পুরনো ঐতিহ্য, স্থানীয় সংস্কৃতি এবং খেলাধুলার প্রতি ভালোবাসার গল্প। ফুটবলের মাঠে এমন অভিনব নিয়ম যে মানুষের নজর কাড়তে পারে, নিউ ব্যারাকপুরের ‘গণপতি ফুটবল’ তারই প্রমাণ।


