মাইক্রোওয়েভে খাবার গরম করা কি সত্যিই বিপজ্জনক? জানুন ক্যানসার নিয়ে ছড়ানো দাবির সত্যতা
আজকের ব্যস্ত জীবনে মাইক্রোওয়েভ ওভেন রান্নাঘরের অন্যতম পরিচিত যন্ত্র। খাবার দ্রুত গরম করা থেকে শুরু করে রান্না, বেকিং বা ফ্রোজেন খাবার প্রস্তুত করা, নানা কাজেই এর ব্যবহার বাড়ছে। কিন্তু মাইক্রোওয়েভে গরম করা খাবার কি সত্যিই ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়ায়? সামাজিক মাধ্যমে এমন দাবি ছড়ালেও, এর পক্ষে সরাসরি বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই।
মাইক্রোওয়েভ ওভেন খাবার গরম করে তড়িচ্চুম্বকীয় তরঙ্গ (microwave) ব্যবহার করে। এই তরঙ্গ খাবারের অণুগুলিকে, বিশেষ করে পানির অণুগুলিকে নাড়াচাড়া করিয়ে তাপ তৈরি করে। FDA-এর তথ্য অনুযায়ী, নির্ধারিত নিরাপত্তা মান মেনে তৈরি এবং নির্দেশিকা অনুযায়ী ব্যবহার করা মাইক্রোওয়েভ ওভেন সাধারণভাবে নিরাপদ। মাইক্রোওয়েভ খাবারকে তেজস্ক্রিয়ও করে না।
তাহলে ঝুঁকি কোথায়?
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলির একটি হল পাত্র নির্বাচন। সব ধরনের প্লাস্টিক পাত্র মাইক্রোওয়েভে ব্যবহার করা উচিত নয়। কিছু প্লাস্টিক উত্তপ্ত হলে রাসায়নিক পদার্থ খাবারে মিশে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে। American Cancer Society-ও কিছু প্লাস্টিকের ক্ষেত্রে মাইক্রোওয়েভে গরম করার সময় রাসায়নিক পদার্থ নির্গমনের সম্ভাবনার কথা উল্লেখ করেছে। তাই খাবার গরম করার ক্ষেত্রে microwave-safe পাত্র ব্যবহার করা এবং সম্ভব হলে কাচ বা উপযুক্ত সিরামিকের পাত্র বেছে নেওয়া নিরাপদ অভ্যাস।
অ্যালুমিনিয়াম ফয়েল বা ধাতব পাত্র ব্যবহারের ক্ষেত্রেও সতর্ক থাকতে হবে। FDA সাধারণভাবে মাইক্রোওয়েভে ধাতব পাত্র বা অ্যালুমিনিয়াম ফয়েল ব্যবহার না করার পরামর্শ দেয়, কারণ এগুলি মাইক্রোওয়েভ প্রতিফলিত করে খাবার অসমভাবে গরম করতে পারে এবং কিছু পরিস্থিতিতে ওভেনের ক্ষতি করতে পারে। তবে নির্দিষ্ট মডেলের নির্মাতার নির্দেশিকা অবশ্যই অনুসরণ করতে হবে।
আর একটি প্রচলিত ধারণা হল, মাইক্রোওয়েভে গরম করলে খাবারের সমস্ত ভিটামিন ও খনিজ নষ্ট হয়ে যায়। এটিও ঠিক নয়। FDA-এর মতে, মাইক্রোওয়েভে রান্না বা গরম করা খাবারের পুষ্টিগুণ সাধারণ রান্নার তুলনায় বেশি নষ্ট হয় এমন প্রমাণ নেই। বরং কম সময়ে এবং কম পানিতে রান্না করার কারণে কিছু ক্ষেত্রে পুষ্টি উপাদান বেশি সংরক্ষিতও থাকতে পারে।
তাই মাইক্রোওয়েভ নিজেই ক্যানসারের কারণ, এমন দাবি করা ঠিক নয়। বরং নিরাপদ পাত্র ব্যবহার, অতিরিক্ত গরম না করা, খাবার ভালোভাবে নাড়াচাড়া করা এবং প্রস্তুতকারকের নির্দেশিকা মেনে চলাই গুরুত্বপূর্ণ।

